ঢাকাসহ সারাদেশে মামলার হিড়িক তদন্তে গা নেই – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ঢাকাসহ সারাদেশে মামলার হিড়িক তদন্তে গা নেই

প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮

ঢাকাসহ সারাদেশে মামলার হিড়িক তদন্তে গা নেই

গত ২৫ দিনে বিএনপির ৮ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করে বিভিন্ন থানায় মামলা তবে অপরাধের প্রমাণ না থাকায় পুলিশ কর্মকর্তারা হাত গুটিয়ে বসে আছেন

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে ঘিরে বিএনপি অহিংস-নিরম্নত্তাপ আন্দোলনে নামলেও ঢাকাসহ সারাদেশে ফের মামলার হিড়িক পড়েছে। মাত্র ২৫ দিনে সরকারবিরোধী এ দলটির অন্ত্মত ৮ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করে বিভিন্ন থানায় মামলা করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘ক্রাইম এভিডেন্স’ (অপরাধের প্রমাণ) না থাকায় তা তদন্ত্মে গা নেই পুলিশের। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের পক্ষপাতদুষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারাও এ ব্যাপারে ততটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
পুলিশের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, এসব রাজনৈতিক মামলার প্রায় প্রতিটিতেই ক্ষমতাসীনদের ‘ফরমায়েসি’ আসামি রয়েছে-যাদের এজাহারে উলেস্নখিত অপরাধের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাই তাদের বিরম্নদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে মামলার বিচারে তদন্ত্মকারী কর্মকর্তার উল্টো ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়াও পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে হয়রানিমূলক চার্জশিট দিলে সরকারের পালাবদলের পর রাজনৈতিক রোষানলে পড়ার ভয় আছে। তাই ক্ষমতার মেয়াদের শেষ সময়ে এ ধরনের মামলা তদন্ত্মে পুলিশ ‘বুঝেশুনে’ পা ফেলছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ক্ষমতার পালাবদল হলেই এসব রাজনৈতিক মামলা ‘হয়রানিমূলক’ উলেস্নখ করে গণহারে তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। কেন্দ্রীয় কিংবা স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসাতে গিয়ে ‘ক্রাইম এভিডেন্স’ সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরার সুযোগ না থাকায় প্রকৃত অপরাধীরাও পার পেয়ে যায়। রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের হিড়িকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, খুনি ও পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধীরও ছাড়া পাওয়ারও নজির রয়েছে। তাই নিরপেক্ষ নিষ্ঠাবান দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এসব মামলা এড়িয়ে চলেন। জোর করে তাদের ঘাড়ে তদন্ত্মের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া হলে তারা কৌশলে কালক্ষেপণ করে মামলার চার্জশিট ঝুলিয়ে রাখেন।
পুলিশের এডিসি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকায় প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে আটক দুইজনকে ছিনিয়ে নেয়ার পাশাপাশি পুলিশের অস্ত্র ভেঙে ফেলা ও তাদের উপর হামলার ঘটনায় তিনটি মামলা রম্নজু করা হয়েছে। শাহবাগ ও রমনা থানায় দায়েরকৃত এসব মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রম্নহুল কবির রিজভী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ দলের বেশ কয়েকজন প্রথম সারির নেতাকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় তারা সরাসরি অংশ না নেয়ায় তাদের হুকুমের আসামি বা ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তারা কখন, কাকে হুকুম দিয়েছেন কিংবা ওই ঘটনায় কিভাবে ইন্ধন জুগিয়েছেন তার কোনো প্রমাণ এখনো তারা হাতে পাননি। তাই চার্জশিটে এ বিষয়টি দাঁড় করানো দুস্কর। অথচ এ অভিযোগ প্রমাণ করা না গেলে মামলার ‘মেরিট’ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যাবে। এ অবস্থায় তদন্ত্ম সংশিস্নষ্টরা যথেষ্ট বেকায়দায় রয়েছেন।
এদিকে সম্প্রতি সময়ে দেশের বিভিন্নস্থানে দায়েরকৃত এ ধরনের রাজনৈতিক মামলাগুলোরও একই হাল বলে পুলিশের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, ৮ ফেব্রম্নয়ারি পর বিভিন্ন ধারায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরম্নদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর অধিকাংশের ‘ক্রাইম এভিডেন্স’ দুর্বল। অনেক আসামির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নেই। দুর্বল প্রমাণাদির উপর ভিত্তি করে এসব মামলায় চার্জশিট দেয়া হলে তা ট্রায়েলে টিকবে না। অথচ এসব মামলায় দ্রম্নত চার্জশিট দেয়ার জন্য বরাবরই ‘উপর’ থেকে চাপ থাকে। এ অবস্থায় অধিকাংশ পুলিশ কর্মকর্তাই তা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হবিগঞ্জ পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি একটি রাজনৈতিক মামলা তদন্ত্ম করছেন। এ মামলায় বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার নাম উলেস্নখ করে তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপর হামলার সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ তার বিরম্নদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা না গেলে পুরো মামলাই ভুয়া প্রমাণিত হবে। বিব্রতকর এ পরিস্থিতিতে তিনি ঢিমেতালে তদন্ত্ম চালানোর পাশাপাশি অন্যত্র বদলির চেষ্টা করছেন বলে জানান ওই সাব-ইন্সপেক্টর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নুরম্নল আমিন ব্যাপারী যায়যায়দিনকে বলেন, ‘২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির পর বিরোধী পক্ষ যখন রাজপথে সহিংস কর্মসূচিতে ছিল তখন তাদের বিরম্নদ্ধে মামলা হামলা বা হয়রানির ক্ষেত্রে সরকারেরও একটি অবস্থান ছিল। যেহেতু সে আন্দোলনে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত্ম হচ্ছিল। তাই সেখানে সরকার বলতে পেরেছে যে তারা আইনের প্রয়োগ করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী পক্ষ যখন অহিংস আন্দোলনের সিদ্ধান্ত্ম নিয়েছে, তখন সরকার নিজেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। এখন শান্ত্মিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ দিয়ে হামলা করে সহিংসতাকে উসকে দেয়া হচ্ছে। হামলা করছে পুলিশ আর আটক ও মামলা করা হচ্ছে অহিংস আন্দোলনকারীদের বিরম্নদ্ধে। এ ক্ষেত্রে সরকার আসলে আইনের প্রয়োগ করছে নাকি জবরদস্ত্মিমূলক অপপ্রয়োগ করছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরম্ন করেছে।’
ড. নুরম্নল আমিন ব্যাপারী আরও বলেন, ‘যেখানে দেশের প্রধান বিচারপতির ক্ষেত্রে আইনের অপপ্রয়োগ করা সম্ভব, সেখানে বিরোধী দলের লোকজন তো সরকারের কাছে নগন্য ব্যাপার। এ ধরনের অতিপ্রয়োগ বা অপপ্রয়োগ চলতে থাকলে তা সরকারকেই বেকায়দায় ফেলবে বলেই মনে হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দীন খানও রাজনৈতিক মামলা দায়ের করে আইনকে অপব্যবহার বা অতিব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করেন। তিনি বলেন, হয়রানিমূলক এ কাজটির ফলে মামলার গুরম্নত্বও কমে যাচ্ছে। যদিও মামলাগুলোর ক্ষেত্রে আইনগত ভিত্তি কম। তিনি বলেন, অপরাধমূলক কোনো কাজের জন্য নয় বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্যই এসব মামলা দায়ের করা হয়ে থাকে। যদিও সেখানে ক্রিমিনালিটিকে জুড়ে দেয়া হয়। তাই রাজনৈতিক মামলা রাজনৈতিক কারণেই হয়, আবার রাজনৈতিক কারণেই তা প্রত্যাহার করে নেয়।
আইনজ্ঞদের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন অপরাধ বিশেস্নষক ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সে দল হাজার হাজার রাজনৈতিক মামলা দিয়েছে। বিরোধী পক্ষ ক্ষমতায় এসে আবার এসব মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থ হাসিল হলেও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির জন্য জনগণকে মূল্য দিতে হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত্মকারী কর্মকর্তারা রাজনৈতিক রোষানলে পড়েছেন।
এ প্রসঙ্গে পুলিশের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির এসব মামলা তদন্ত্ম করতে গিয়ে তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ রম্নটিন ওয়ার্কে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। খরচ হয় কোটি কোটি টাকা। অথচ প্রতিবারই ক্ষমতার পালাবদলের পর শুরম্ন হয় মামলা দায়ের ও প্রত্যাহারের হিড়িক। তাই পুলিশের এখন আর এসব মামলা তদন্ত্মে গা নেই।
এদিকে রাজনৈতিক মামলায় হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দূরদর্শী পুলিশ কর্মকর্তারা এসব মামলা তদন্ত্মের ক্ষেত্রে বুঝেশুনে পা ফেললেও দুর্নীতিবাজ ও পক্ষপাতদুষ্ট অনেকেই এটিকে তাদের উপরি আদায়ের সোনারকাঠি হিসেবে নেন। অধিকাংশ মামলায় বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাতনামা আসামি থাকায় যাকেই হাতের কাছে পান, তাকেই এসব মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের ঘুষ আদায় করেন।
উলেস্নখ্য, গত ২১ ফেব্রম্নয়ারি হবিগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় ২ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরম্নদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী ওইদিন শহরে জেলা বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ নিয়ে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ৩০ জন গুলিবিদ্ধ এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র জি কে গউছসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এতে আহত হয় ৩ পুলিশ সদস্যও। একই দিন ফরিদপুর জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশি হামলা ও গণগ্রেপ্তারের ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর কোতোয়ালী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। পুলিশের কাজে বাধা এবং বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে করা ওই মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও জেলা যুবদলের সভাপতি আফজাল হোসেন খান পলাশসহ ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নাশকতার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরম্নজ্জামান মনিরসহ দলটির পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে পাঁচ থানায় পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের হয়েছে। বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৫ ফেব্রম্নয়ারি পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলা করে।
গত ৬ ফেব্রম্নয়ারি জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য মসিউর রহমানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ২৫ নেতার নাম উলেস্নখ করে অজ্ঞাত আরও ৮০/৯০ জনের বিরম্নদ্ধে সরকার উৎখাত, জননিরাপত্তা বিপন্ন করা ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ এনে মামলা করেছে পুলিশ।
৮ ফেব্রম্নয়ারি দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার পর হবিগঞ্জে হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের ১৮৫ নেতাকর্মীর নাম উলেস্নখ করে প্রায় ৮০০ জনের বিরম্নদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একই দিন চট্টগ্রাম মহানগরীর নাসিমন ভবনের সামনে বিএনপি ও অঙ্গসংঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেনসহ ৪৯ নেতাকর্মী ও অজ্ঞাতনামা সাড়ে ৪০০ জনের বিরম্নদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধাদান ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোতোয়ালি থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন এসআই মহিউদ্দিন রতন। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীর বিরম্নদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোনাগাজীতে পুলিশের সঙ্গে যুবদল-ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনায় দলের আড়াইশ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। নেত্রকোনায় পুলিশ এ্যাসল্ট, বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩ শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামি করে পৃথক থানায় ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
১০ ফেব্রম্নয়ারি টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনশতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এতে যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে চট্টগ্রামের চকরিয়ায় বিএনপির ৩৮ নেতাকর্মীর বিরম্নদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে পুলিশ। মামলার এজাহারে ১৩ জনের নাম উলেস্নখ ও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানা পুলিশ বিএনপির ৩৭ নেতাকর্মীর বিরম্নদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে। এ মামলায় পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ভূঁইয়াসহ ৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাটখিল উপজেলা সদরে দক্ষিণ বাজার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বিএনপির কার্যালয়ের সামনে যাওয়ার পথে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে।
১৩ ফেব্রম্নয়ারি আশুলিয়া থানায় ঢাকা জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক এমপি ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবুসহ ৮২ নেতাকর্মীর বিরম্নদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। জানা গেছে, ১২ ফেব্রম্নয়ারি আশুলিয়ার বেরণ এলাকায় খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সালাউদ্দিন বাবুর নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা শান্ত্মিপূর্ণ মিছিল করে। এ ঘটনায় পরদিন আশুলিয়া থানার এসআই কবির হোসেন বাদী হয়ে একটি নাশকতা মামলা দায়ের করেন।