তাজুল হত্যা: দেশত্যাগের চেষ্টায় ঘাতক হাফিজ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

তাজুল হত্যা: দেশত্যাগের চেষ্টায় ঘাতক হাফিজ

প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০১৬

তাজুল হত্যা: দেশত্যাগের  চেষ্টায় ঘাতক হাফিজ

Hafuzul২১ আগস্ট ২০১৬, রবিবারসিলেট নগরীর একটি পরিবারে খুনের মিছিল। শনিবার (২০আগস্ট) রাত পর্যন্ত গত কয়েকবছরে পর পর একই পরিবারে খুন হয়েছেন ৩সহোদর ও তাদের এক ছেলে । সন্ত্রাসীদের হামলায় পঙ্গুত্ব বরন করেছে পরিবারের আরেক ছেলে। সম্পত্তি দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পর পর এ খুনের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ শনিবার রাতে খুন হয়েছেন পরিবারের অন্যতম কর্তাব্যক্তি শেখ তাজুল ইসলাম ওরফে তাজুল। পরপর খুনের ঘটনায় একই পরিবারে ঘটেছে অকাল বিধবাদের সমাবেশ।এদিকে ঘটনার পরই ঘটনার মূল নায়ক সৈয়দ হাফিজ দেশ ত্যাগের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক সংরক্ষিত সাবেক কাউন্সিলর শাহানা বেগম শানুর স্বামী শেখ ত্জাুল ইসলাম। নগরীর শেখঘাটের খুলিয়াপাড়ায় তাদের বসবাস। কিছুদিন পূর্বে তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন। একটি খুনের মামলায় ষড়যন্ত্রমূলক আসামী করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলে তার ভাই শেখ নূরুল ইসলাম জানিযেছেন।

tazulশনিবার রাতে শেখ তাজুল ইসলাম বন্দরবাজার থেকে নিজ বাসায় যাওয়ার পথে রাত ১০টায় নগরীর শেখঘাটস্থ গরমদেওয়ান মাজারের সামনে খুন হন। প্রবাসী সৈয়দ হাফিজ ও গুলজারের নেতৃত্বে ১০?১২জনের একদল সন্ত্রাসী তার চোখে চুনের গুড়ো ছিটিয়ে উপর্যুপরি কোপিয়ে পালিয়ে যায়। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরন করা হলে রাত ১১টায় তার মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর কোতোয়ালী পলিশ অভিযান চালিয়ে শেখঘাট-খুলিয়াপাড়া এলাকার ত্রাস গুলজার ও হাফিজ বাহিনীর ৫সদস্যকে আটক করে। আটককৃতরা হচ্ছে গুলজার আহমদ, তার ভাই দুলাল আহদ, গুলজারের পুত্র সুলেমান আহমদ ও ঘাতক সৈয়দ হাফিজের ভাই সৈয়দ আপ্তাব আলী। এর দু’বছর আগে ২০১৪সালের ২৬জানুয়ারী ওই সন্ত্রাসীরা তাজুল ইসলামের ছেলে কলেজছাত্র সোহান ইসলামকে একই স্থানে কোপিয়ে খুন করে। পরে তার অপর ছেলেকে গুরুতর জখম করে অন্ধ করে দেয়। এর আগে এলাকার সন্ত্রাসীরা তাজুল ইসলামের আরো দুই ভাইকে খুন করে। তারা হচ্ছেন নজরুল ইসলাম ও ফখরুল ইসলাম। এ নিয়ে সাবেক কাউন্সিলর শানুর পরিবারে খুনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার-এ।
অভিযোগ পাওয়া গেছে শেখঘাট এলাকার ত্রাস গুলজার ও ভ’মিখেকো হাফিজ বাহিনী দখলবাজিসহ আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে একের পর এক করে তাজুল পরিবারের ওই চারজনকে খুন করে। তারা কিছুদিন আগেএকটি দ্বিতল বাসাসহ তাজুল পরিবারের ৯শতক ভূমি জবরদখল করে নেয়। পরে তারা তাজুলদের ওই এলাকাস্থ ৫তলা ও ৩তলাবিশিষ্ট আরো দুটি ভবনসহ তাদের দিয়ে এলাকা ত্যাগের কথা জানায়। তাজুল ঐ এলাকায় থাকার জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করলে ভূীমখেকো হাফিজ ও তার সহযোগীরা তাকে খুন করে বলে তাজুল এর ভাই নূরুল ইসলাম-কে জানিয়েছেন। এঘটনায় ৫জনকে আটক করা হলেও রোববার সন্ধ্যেরাত ৭টায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। তনিহত তাজুল ইসলামের ছেলে রায়হানকে সাবেক কাউন্সিলর শানু দেশের বাইরে ভারতের কলকাতায় থাকায় মামলা দিতে বিলম্ব হচ্ছে।
অপরদিকে তাজুল হত্যাকান্ডের মূল নায়ক প্রবাসী সৈয়দ হাফিজ ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে চলে গেছে। সে কৌশলে ও টাকার বিনিময়ে দেশ ত্যাগের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।