তারেক রহমানের নাম বিকৃত করলেন আরিফুল হক চৌধুরী : নেতাকর্মীদের ক্ষোভ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

তারেক রহমানের নাম বিকৃত করলেন আরিফুল হক চৌধুরী : নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

প্রকাশিত: ২:১৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৭

তারেক রহমানের নাম বিকৃত করলেন আরিফুল হক চৌধুরী : নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমানে জিয়া পরিবারের একমাত্র উত্তরসূরী তারেক রহমানের নাম বিকৃতি করে বক্তব্য প্রদান করলেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি গতকাল (মঙ্গলবার) ২৫ অক্টোবর তারেক রহমানের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির এক বিক্ষোভ সমাবেশে তারেক রহমানের পরিবর্তে তারেক আহমদ বলে বক্তব্য প্রদান করেন। দলের একজন কেন্দ্রীয় ও দায়িত্বশীল নেতা হয়ে দলের ভবিষ্যত ব্যক্তির নাম বিকৃতি করায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপির বিগত আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেননি। বিভিন্ন পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে দুরে থেকেছেন। এ নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়। এতে আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে সিলেট নগরীতে বড় ধরণের বিক্ষোভ করতে চাইলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা তার ডাকে সাড়া দেননি। আন্দোলন সংগ্রামে সম্পৃক্ত না থাকা ও দলের প্রতি নিবেদিত না হওয়ার কারনে ইতোমধ্যে তিনি দলের নেতার নামও ভুলে গেছেন বলে মনে করেন সিলেট বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এখানে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন, তিনি যখন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের নাম ভুল উচ্চারণ করেন তখন মহানগর বিএনপির অন্যতম এক শীর্ষ নেতা তাকে সংশোধন করে দেন।
আন্দোলন সংগ্রামে তাই ক্ষোভে ও তার জনপ্রিয়তা হারানোর প্রতিহিংসায় তিনি তারেক রহমানের নাম বিকৃত করে বক্তব্য প্রদান করেন এমনটাই ধারনা রাজনীতিবিদদের।
দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘদিন কারাবাস করেন। জেল থেকে বের হয়ে দলের নেতাকর্মীদের সাথে তার সম্পর্ক ধীরে ধীরে ফাটল ধরে। যারা অক্লান্ত পরিশ্রমে আরিফুল হক চৌধুরীকে নগর পিতার মুকুট মাথায় পড়িয়েছেন তাদেরকে তিনি অবজ্ঞা করতে থাকেন। দলের নেতাকর্মীদের ডাকে সারা না দিয়ে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বিএনপি আন্দোলন থেকে দুরে থাকেন। এমন স্বার্থপরতা আর একঘেয়েমিতা আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক মাঠ কুয়াশাচ্ছন্ন করেছে বলে নেতাকর্মীরা জানান। এতে স্পষ্ঠ বুঝা যায়, কয়েকজন পাতিনেতা ছাড়া দলের কোন নেতা মেয়রের সাথে থাকতে চাচ্ছেন না।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক সিলেট মহানগর বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, আন্দোলন সংগ্রামে সম্পৃক্ত না থাকা ও দলের প্রতি নিবেদিত না হওয়ার কারনেই এমন ভুল হতে পারেন।
এ ব্যাপারে আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।