তাহিরপুরের মূর্তিমান আতঙ্ক নিজাম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

তাহিরপুরের মূর্তিমান আতঙ্ক নিজাম

প্রকাশিত: ১০:১৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০১৯

তাহিরপুরের মূর্তিমান আতঙ্ক নিজাম

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সুনামগঞ্জের সীমান্ত উপজেলা তাহিরপুরের মূর্তিমান আতঙ্ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ও তার ভাই সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় শ্রমিকলীগ সভাপতি সেলিম আহমেদের বিরুদ্ধে দুদক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ। সুনামগঞ্জ ১ আসনের স্থানীয় এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেনের ছত্রছায়ায় থেকে আঙ্গুল ফুলে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা ও নামে বেনামে অঢেল সম্পত্তির মালিক হওয়ায় নিজাম উদ্দিন ও তার ভাই সুনামগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের সভাপিত সেলিম আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করার জন্য গত ১৪ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ ও গত কয়েকদিন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় একাধিক এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে নিজাম উদ্দিনের নানা অজানা কাহিনী। জানা গেছে, ২০০৮ সালেও নিজাম উদ্দিনের উল্লেখ্যযোগ্য কোন সহায় সম্পত্তি ছিলনা। হঠাৎ করে এমপি রতনের সঙ্গে ঘনিষ্টতা হয়ে যায় নিজাম উদ্দিনের। এরপর আর নিজাম উদ্দিনকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নী স্থানীয় অওয়ামীলীগের কোন সদস্য পদ না থাকলেও নিজাম উদ্দিনের ইশারা ছাড়া উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা শিক্ষা অফিস, থানা পুলিশ কেউই নড়েনা।
মামলা দায়ের, মামলা আপোষ সব কিছুই চলে নিজাম উদ্দিনের অদৃশ্য ইশারায়। উপজেলার সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস সীমান্ত নদী যাদুকাটা এই নদীতে বালি পাথর উত্তোলন করে জিবীকা নির্বাহ করে প্রায় ২০ হাজার লোক। এই নদীও চলে নিজাম উদ্দিনের ইশারায়। তার ছোট ভাই যুবদল নেতা ওয়ালিউর রহমান বাক্কি, চাচাতো ভাই উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান উদ্দিন রিপন তার সহোদর রব্বানী, ফুফাত ভাই বুরহান উদ্দিন, ছোট ভাই রয়েলসহ নদীতে রয়েছে নিজাম উদ্দিনের বিশাল বাহিনী। এসব বাহিনী স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ। নিজাম উদ্দিনের ক্ষমতার ভয়ে কেউ এসব বিষয়ে কোন অভিযোগও করেনী।
এছাড়াও উপজেলার লাউড়েরগড় বিজিবি ক্যাম্পের সামনের বালিচরে প্রতি বছর শুকনো মৌসুমে তিন শতাধিক পাথর উত্তোলনের কোয়ারী করা হয়। এসব কোয়ারী থেকেও নিজাম উদ্দিন তার লোকজন দিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা করেছে বলেও অভিযোগ উল্লেখ্য করা হয়েছে। নিজাম উদ্দিনের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে স্থানীয় জাতীয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও নিজাম উদ্দিন রয়ে গেছে অধরাই। বিগত কিছুদিন আগে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে নিজাম উদ্দিন ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সুত্রে আরো জানা যায়, বর্তমানে নিজাম উদ্দিনের জেলা শহরে নামে বেনামে একাধিক বিলাসবহুল বাড়ী ও অর্ধ্ব কোটি টাকা দামের একটি গাড়ীও রয়েছে। এছাড়াও নিজাম উদ্দিনের কোন রকম কয়লা আমদানীকারকের ব্যাবসা না থাকলেও গত ১০ বছর ধরে এমপির ক্ষমতা বলে তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারক গ্রুপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ দখল করে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ্য করা হয়েছে নিজাম উদ্দিনের অপর ছোট ভাই সেলিম আহমদ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতির পদ ভাগিয়ে নিয়েছেন। তারও রয়েছে সুনামগঞ্জ শহরে বিলাসবহুল বাড়ী ও দামী গাড়ী। অপর আরেক ছোট ভাই বাবুল মিয়া এমপি রতন ও বড় ভাই নিজাম উদ্দিনের প্রভাব খাটিয়ে জেলার বড় বড় সব ঠিকাদারী কাজ নিজের নামে ভাগিয়ে নিয়ে সরকারী নিয়ম নিতি না মেনে নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করে হয়েছেন কোটিপতি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল