তিন এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশীর কাল্পনিক ফ্লাট বাণিজ্য – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

তিন এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশীর কাল্পনিক ফ্লাট বাণিজ্য

প্রকাশিত: ৯:২৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০১৭

তিন এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশীর কাল্পনিক ফ্লাট বাণিজ্য

জামায়াত নেতাদের মালিকানার ওয়ান সিটি কেলেংকারীর পর এবার বিএনপি ও খেলাফত মজলিস নেতাদের মালিকানার হাউজিং প্রকল্পের নামে প্রতারনার অভিযোগ উঠেছে। এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে ভূমি আত্মসাতের অভিযোগ আদালতে করেছেন দক্ষিণ সুরমা, উপর হাজরাই গ্রামের মো: গিয়াস উদ্দিন। যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালত, সিলেটের স্বত্ব মামলা নং ২৪৫/২০১৭ইং।

মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বিএনপি কেন্দ্রিয় কমিটির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলনের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম হেনাসহ ১৮জনকে। আদালতে শুনানী শেষে গত ২১ নভেম্বর প্রকল্প স্থানে স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়েছেন। এঘটনায় তোলপাড় চলছে।
সিলেটে মধ্যবিত্তদের স্বপ্নপুরণে অত্যাধুনিক এ্যাপার্টমেন্ট ‘হলি আরবান প্রপার্টিজ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে হাউজিং প্রকল্প হাতে ন্ওেয়া হয় সম্প্রতি। গত ১৯ এপ্রিল নগরীর আমান উল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে প্রকল্পের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মধ্যে দিয়ে আলোচনায় চলে আসে হলি আরবান প্রপার্টিজ প্রাইভেট লি:।

এ কোম্পানীর চেয়ারম্যান সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন মিলন। তিনি কেন্দ্রিয় বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ্ও সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির বর্তমান সভাপতি। এবার সুনামগঞ্জ ৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। ভাইস চেয়ারম্যানের হিসাবে কোম্পানীতে রয়েছে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রিয় যুগ্ম মহাসচিব মুনতাসির আলী।

তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে সিলেট-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশি। কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন খেলাফত মজলিসের সিলেট জেলা যুগ্ম সাধারন সম্পাদক দিল্ওয়ার হোসেন। উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সিলেটের ডাক-এর চীফ রিপোর্টার সিরাজুল ইসলামও।

সরকার বিরোধী জোটের এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী ৩ নেতার নেতৃত্বে এ কোম্পানীতে বিনিয়োগ করছেন ৩১ জন। এদের মধ্যে ১৫জন পরিচালক ও ১৬ জন শেয়ার হোল্ডার রয়েছেন। এদের বেশিরভাগই প্রবাসী।

তারা নগরীর বিমানবন্দর সড়কে ‘হলি আরবান প্রপার্টিজ লিমিটেড’র উদ্যোগে ২৩৫টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করে আগামী আট বছরের মধ্যে গ্রাহকের কাছে ১৫ তলা বিশিষ্ট এই প্রপার্টি হস্তান্তর করা হবে। শতাধিক ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে ইতিমধ্যে। প্রকল্প এলাকায় মোট জমির পরিমান ৯৯ শতক। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারী ১২৪২ নং দলিলে ১কোটি উন-আশি লাখ টাকায় এ জমি ক্রয় করেন বিএনপি নেতা কলিম উদ্দিন মিলনের স্ত্রী সহ ১৮ জন।

বাকীরা হচ্ছেন, বিশ্বনাথ উপজেলার জাহারগাঁও গ্রামের মৃত সমুজ আলীর ছেলে এহসান আহমদ, দক্ষিণ সুরমার খিদিরপুর গোয়ালগাঁওয়ের মৃত মো. আব্দুল করিমের ছেলে মো. ইকবাল হোসেন, বিশ্বনাথ উপজেলার গোমরাগুল গ্রামের মৃত আব্দুল গণির ছেলে মো. আব্দুল হাসান গণি ও আনছার মাহমুদ, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাগরাই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে জসিম উদ্দিন, দক্ষিণ সুরমার বদিকোনার মৃত মো. আত্তর আলীর ছেলে হেলাল আহমদ, দক্ষিণ সুরমার তেলীরাইয়ের শাহজাহান আহমদের ছেলে শাহেদ আহমদ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দয়ারবাজারের উত্তর কালিবাড়ি গ্রামের মৃত আলকাছ আলীর ছেলে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ছাতক উপজেলার মন্ডলিবোগ গ্রামের মৃত আলা উদ্দিনের ছেলে মো. আবুল হোসেন আজাদ, ফেঞ্চুগঞ্জের কচুয়া বহর গ্রামের মৃত মো. আব্দুল কাইয়ূমের ছেলে মো. আবু তাহের, ইশ্বরদি জেলার মানিক নগর গ্রামের মৃত ইউছুব আলীর ছেলে মো. তৌহিদুল ইসলাম,সুনামগঞ্জ উপজেলার সিঙ্গেরকাছ গ্রামের মো. শরাফত আলীর ছেলে কয়েছ আহমদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামেরমৃত ছিদ্দেক আলীর ছেলে মো. মুহিবুর রহমান, মৌলবীবাজারের রাজনগর উপজেলার চান্দভাগ গ্রামের জাবেদ আলীর ছেলে জুবায়ের আহমদ, ছাতকের বাগইন গ্রামের মখদ্দুস মিয়ার ছেলে হালিম মো. অহাব আলী, ফেনি জেলার জয়লমকরা গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে মোহাম্মদ আলি, ঢাকা গুলশান এলাকার সোহরাওয়ার্দী এভিনিউয়ের বাসা নং ৯/এ মৃত আর্জুমন্দ আলীর ছেলে নাজির হাসান।
মামলার আরজিতে বর্ণিত বাদীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, সিলেট জেলার এয়ারপোর্ট থানাধীন বড়শালা মৌজায় জে.এল নং-৫৪ স্থিত এসএ খতিয়ান নং- ৮২ ও ২৭৭ এর অনেকগুলো দাগে ৯৯ শতক ভূমিতে একটি বহুতল ফ্লাট নির্মানের জন্য হলি আরবান প্রপার্টিজ নামের একটি কোম্পানী গঠন করেন বিবাদীরা।

উক্ত ৯৯ শতক ভূমি পরিচালকদের নামে পৃথক পৃথক দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। হলি আরবান প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে ফ্লাট নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হলেও এই প্রতিষ্ঠানের নামে কোন জায়গা কেনা হয়নি। বাদী গিয়াস উদ্দিন দাবী করেন, উক্ত ৯৯ শতক ভূমির মধ্যে মোট ৭৮ শতক ভূমি এসএ রেকর্ডিয় মালিকের উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন। কিন্তু, কথিত উক্ত হলি আরবান এ ভূমি-ই বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভূয়া মালিক সাজিয়ে সম্প্রতি উক্ত জায়গা আবারো কিনে নেন।

বিষয়টি জানতে পেরে বাদী গিয়াস উদ্দিন ইতোপূর্বে ফ্লাট নির্মানের উদ্যোক্তাদেরকে একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু, এরপরও উদোক্তারা ফ্লাট নির্মাণ ও বিক্রির পাঁয়তারা অব্যাহত রাখায় বাদী গিয়াস উদ্দিন বিগত ২০/০৯/২০১৭ ইং তারিখে সিলেটের যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতের একটি স্বত্ব মোকদ্দমা (নং-২৪৯/২০১৭) দাখিল করেন।

আদালত আরজি আমলে নিয়ে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে উক্ত ভূমির বিষযে স্থিতাবস্থা জারির নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়া, বাদী পক্ষ উক্ত প্রকল্পে কোনরূপ বিনিয়োগ না করার জন্য এবং ফ্লাট না কেনার জন্য সিলেটের স্থানীয় একটি দৈনিকে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিও প্রদান করেছেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হলি আরবান প্রপার্টিজের এক বিনিয়োগকারী জানান, আমরা যথাযথ আইন মেনে বৈধ মালিকের কাছ থেকে জায়গা কিনে সেখানে ফ্লাট বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। এ বিষয়ে কোনরূপ আইনগত জটিলতার উদ্ভব হলে আমরা তা আদালতেই মোকাবেলা করবো।