তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০১৭

তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা

যশোরের কেশবপুর উপজেলার আঠন্ডা গ্রামের জনৈক বজলুর রহমানের বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগে পুলিশের তিন কর্মকর্তাসহ ছয়জনকে আসামি করে আদালতে একটি ডাকাতির মামলা হয়েছে।

আসামিরা হলেন- এসআই মুজাহিদ, এএসআই জাহাঙ্গীর, এএসআই আশরাফুল, কনস্টেবল সালাহউদ্দিন, গাড়িচালক মজনু ও পুলিশের সোর্স বাগদা গ্রামের মৃত করিম মোড়লের ছেলে ফজলুর রহমান।

যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকরাম হোসেন অভিযোগটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন।

বুধবার আঠন্ডা গ্রামের বজলুর রহমানের স্ত্রী আয়েশা বেগম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বজলুর রহমানের চার ছেলে। তিন ছেলে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান এবং বড় ছেলে পুরনো মোটরসাইকেল কেনাবেচার ব্যবসা করেন। চার ছেলের রোজগার ও কৃষি জমির উৎপাদিত ফসল দিয়ে সংসার চলে। গত ৫ নভেম্বর দিনগত গভীর রাতে আসামিরা বাড়িতে এসে পুলিশ পরিচয় দিয়ে লোকজনদের ডেকে তোলে। বাড়িতে ‘অবৈধ অস্ত্র ও মাদক আছে’ বলে তারা ঘর তল্লাশি করতে চায়। এরমধ্যে আসামিরা বাড়ির সব আলো নিভিয়ে দিতে বললে তাদের সন্দেহ হয়। এরপর তারা ঘরে ঢুকতে গেলে আয়েশা বেগম তাদের বাধা দেন। তখন তারা আয়েশকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে দিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। এরপর আসামিরা বড় ছেলে জাহাঙ্গীরের ঘরে ঢুকে তল্লাশি করে বেআইনি কিছু পায়নি। আসামিরা বাড়ির চার বৌয়ের ছয় ভরি সোনার গহনা, মোটরসাইকেল বিক্রির দুই লাখ দশ হাজার টাকা ও বেশকিছু কাজগপত্র নিয়ে যায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এসআই মুজাহিদ বাড়ির লোকজনদের শাসিয়ে যান- এ নিয়ে ঝামেলা করলে ধরে নিয়ে মামলা ও ক্রসফায়ারে দেয়া হবে। পরদিন সকলে এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি । অবশেষে আয়েশা বেগম আদালতে এ অভিযোগ দেন বলে জানিয়েছেন।

তবে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জাহাঙ্গীর একজন চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা। পুরো ঘটনার কোনো গ্রাউন্ড নেই। তাছাড়া যেসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, তারা খুবই সৎ।