তিন জঙ্গির ফাঁসি আজ : দেশের সব কারাগারে নিরাপত্তা বৃদ্ধির নির্দেশ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

তিন জঙ্গির ফাঁসি আজ : দেশের সব কারাগারে নিরাপত্তা বৃদ্ধির নির্দেশ

প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০১৭

তিন জঙ্গির ফাঁসি আজ : দেশের সব কারাগারে নিরাপত্তা বৃদ্ধির নির্দেশ

দেশের সব কারাগার ও কারাগারের আশেপাশের এলাকাসহ স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সুপারদের জরুরি নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

বুধবার (১২ এপ্রিল) সকালে পাঠানো ওই নির্দেশনার বলা হয়, আগে থেকেই হুমকি আছে এমন এলাকাসহ স্পর্শকাতর সব এলাকা ও স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানসহ তিন জঙ্গির ফাঁসির রায় কার্যকরের আগে বা পরে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে; সেজন্যই এমন নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। বুধবার সকালে কাশিমপুর কারাগারে তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও বড় ভাই দেখা করেন। সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৪০ মিনিট সময় ধরে তারা মুফতি হান্নানের সঙ্গে কথা বলেন। একই কারাগারে বন্দি আছে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আরেক জঙ্গি সাহেদুল আলম ওরফে বিপুল। মুফতি হান্নানের সঙ্গে তারও ফাঁসি কার্যকরের কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, সিলেট কেন্দ্রিয় কারাগারে বন্দি আছেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি দেলোয়ার হোসেন রিপন। আজ (বুধবার) রাতেই তার ফাঁসি কার্যকর করা হবে বলে সিলেটটুডেকে জানিয়েছেন সিলেট কেন্দ্রিয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ছগির মিয়া। আজ সন্ধ্যায় রিপনের পরিবার তার সঙ্গে শেষ দেখা করবেন বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, কাশিমপুর ও সিলেট কারাগারে বুধবার রাতেই এই তিনজনের ফাঁসি এক সঙ্গে কার্যকর করা হবে। এজন্য মঞ্চ পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে টাঙানো হয়েছে শামিয়ানা। প্রস্তুত রাখা হয়েছে একাধিক জল্লাদ। তবে কৌশলগত কারণে তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের জন্য এরই মধ্যে মহড়া হয়েছে।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পুলিশের এএসআই কামাল উদ্দিন। এছাড়া হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান রুবেল আহমেদ ও হাবিল মিয়া। এ ঘটনায় আহত হন আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অন্তত ৪০ জন।

এই মামলার রায়ে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রায়ে হরকাতুল জিহাদের প্রধান মুফতি হান্নান, সাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসির দন্ডাদেশ দেওয়া হয়। এই রায় আপীলেও বহাল থাকে।

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। তাদের আবেদন গত ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে যায়। এরপর প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন দণ্ডপ্রাপ্তরা। কিন্তু রাষ্ট্রপতি তাদের আবেদন খারিজ করে দেন।