তিস্তা আমাদের উত্তরবঙ্গের প্রাণ, একে কেড়ে নেয়া যাবে না: মমতা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

তিস্তা আমাদের উত্তরবঙ্গের প্রাণ, একে কেড়ে নেয়া যাবে না: মমতা

প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০১৭

তিস্তা আমাদের উত্তরবঙ্গের প্রাণ, একে কেড়ে নেয়া যাবে না: মমতা

তিস্তা নিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিস্তা নিয়ে আলোচনা শেষে মমতা বলেন, তিস্তা আমাদের উত্তরবঙ্গের প্রাণ, একে কেড়ে নেয়া যাবে না।

মমতার মতে তিস্তায় পানি নেই। তাই তিস্তার বদলে অন্য নদীর পানি দেয়ার কথা বললেন তিনি। তিনি বলেন, তিস্তায় খুব কম পানি আছে। এটি আমাদের প্রাণ, এটি উত্তর বঙ্গের প্রাণ। আপনাদের পানির সমস্যা। তিস্তা নিয়ে নয়। এই ইস্যু সমাধানের জন্য আমি বিকল্প প্রস্তাব দিতে পারি। ভারত-বাংলাদেশে এলাকায় আরো অনেক নদী আছে। আমরা সেগুলো ব্যবহার করতে পারি।

শনিবার রাতে রাষ্ট্রপতি ভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে তিস্তার পরিবর্তে তোর্সা, রায়ডাক, জলঢাকা-সহ অন্য ৪টি ছোট নদীর পানি নেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। সেই সঙ্গে মোদি-হাসিনাকে এর জন্য একটি কমিটি গঠনের কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, বাংলাদেশকে পানি দিতে সমস্যা নেই। ওদের পানির খুব প্রয়োজন। তবে, তিস্তা নয়, তিস্তায় পানির সমস্যা আছে। সারা বছর পানি থাকে না। আমি নিজে গিয়ে দেখে এসেছি। তোর্সা-সহ অন্য নদীগুলির পানি নিক ওরা। এই নদীগুলির বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। দুই দেশের সরকারকেই এই বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, এই নদীগুলি নিয়ে এর আগে ভেবে দেখা হয়নি। এই নদীগুলিতে পানির তেমন সমস্যা নেই। কোনও বাঁধও নেই।

এদিকে তিস্তার পানি দিতে রাজি না হলেও শেখ হাসিনাকে বালুচরি শাড়ি সহ পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাব দেন মমতা। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের সহায়তা থাকলে তিস্তা সহ সব সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আমার আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় আমি খুব আনন্দিত। বাংলাদেশের প্রতি তার টান আমার মতই। আমি বাংলাদেশের মানুষকে তিস্তা সম্পর্কে আমাদের আন্তরিকতার কথা নিশ্চিত করছি। ভারতও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে এই ইস্যুর সমাধান করবে। তবে মমতা অনড় থাকলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তিস্তা চুক্তি সমাধানের প্রতিশ্রুতিকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছে। ভারত সফরে বাংলাদেশ মোট ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল