তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ১৩তম ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ১৩তম ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি

প্রকাশিত: ৬:৫০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০১৬

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ১৩তম ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি

64992_000মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সাম্যের জন্য ইসলামী মূল্যবোধ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আন্তঃধর্ম সংলাপের মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষ ও ভীতি প্রশমনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ১৩তম ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বিবৃতি পাঠ করেন।

সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়েফ এরদোগানের নেতৃত্বে ওআইসি নেতৃবৃন্দ ফিলিস্তিন সংক্রান্ত প্রস্তাব, ওআইসি ২০২৫ : প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন, চূড়ান্ত ইশতেহার এবং ইস্তাম্বুল ঘোষণা গৃহীত হয়।

বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে প্রায় ৩০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং ২০টির বেশি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে এই শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়। এতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দুই দিনব্যাপী সম্মেলন শুক্রবার শেষ হয়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে ১৯৭৪ সালে দ্বিতীয় ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিরসনে একটি কৌশল বা উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেন।

একটি ওআইসি মানবিক কৌশল প্রণয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ওআইসির সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ওআইসি-২০২৫ প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য নির্মূলে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ওআইসির প্রাধিকারমূলক ও অবাধ বাণিজ্য ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

এ ছাড়া তিনি ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান এবং রোহিঙ্গাসহ মুসলিম সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সংহতির ভিত্তিতে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।

এর আগে সম্মেলনের প্রস্তুতি গ্রহণে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ১২ ও ১৩ এপ্রিলের বৈঠকে যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওআইসি পর্যবেক্ষক এবং ওআইসি ইনস্টিটিউট ও সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিগণও সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

মুসলিম বিশ্বের প্রেক্ষাপটে এ বছরে সম্মেলনে প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ন্যায়বিচার ও শান্তির জন্য ঐক্য ও সংহতি।

সম্মেলনে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ এবং ভ্রাতৃঘাতী গৃহযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস এবং সহিংস চরমপন্থা, ইসলামভীতি, মানবতাবোধ এবং প্রাকৃতিক দুযোর্গ, মুসলিম সমাজের পশ্চাৎপদতা, ফিলিস্তিন সমস্যা, দারিদ্র্যতা, উন্নয়ন বিষয়, এবং ওআইসির কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ এ সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছার জন্য এখানে মিলিত হয়েছেন। তারা মুসলিম উম্মাহর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্য এবং সংহতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

এর আগে গত ১২ এপ্রিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিষয়ে ওআইসির মিনিস্ট্রিয়াল কন্ট্রাক্ট গ্রুপের এক সভায় অংশ নেন এবং ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা ও মিয়ানমারের নতুন সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার বিষয়ে গ্রুপের মধ্যে আলোচনা করেন।

ইসলামিক সলিডারিটি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের (আইএসএফডি) মহাপরিচালক ড. ওয়ালিদ আল ওহাইব গত ১৩ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে আশ্বাস দেন যে, বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রকল্পসমূহে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। অন্যান্য নতুন প্রকল্পের ব্যাপারে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মহাপরিচালক মূল লক্ষ্য দারিদ্র্য দূরীকরণে আইডিবির শাখা আইএসএফের আওতায় বাংলাদেশে আরো শরিয়াভিত্তিক বিনিয়োগ আনার উপায় নিয়েও আলোচনা করেন।- খবর বাসস