তৃনমূল ও কেন্দ্র চায় লুৎফুর, নাহিদে’ই বাধা ! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

তৃনমূল ও কেন্দ্র চায় লুৎফুর, নাহিদে’ই বাধা !

প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০১৯

তৃনমূল ও কেন্দ্র চায় লুৎফুর, নাহিদে’ই বাধা !

ডেস্ক রিপোর্ট :

আলো মুখ দেখতে যাচ্ছে গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ। যে কোন সময় কেন্দ্র থেকে ঘোষণা হতে পারে কমিটি। এমনটি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আহমদ হোসেন।

এ কমিটিতে উপজেলার প্রভাবশালী নেতা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদ্য সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে এ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।

সূত্রমতে আরো জানা যায়, দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে তৃণমূলের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী বান্ধব নেতা লুৎফুর রহমানকে সভাপতি ও সধারণ সম্পাদক ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হবে।

এ কমিটিতে নাহিদ বলয়ের অনেক বিতর্কিত নেতার ভাগ্য গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের উপর নির্ভর করছে। তবে এই নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সিলিন্ডার জালিয়াতি, লুটপাট, টেন্ডার বাণিজ্য সহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ উঠে। এ সব বিষয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক পত্রিকায় তাদের বিরুদ্ধে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। এ তারা কমিটি থেকে ছিটকেও যেতে পারেন বলে বিশ্বস্ত এ সূত্র জানায়।

দীর্ঘদিন থেকে এ উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও লুৎফুর সমর্থিত বিরোধীদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ থাকলেও এবার কমিটিকে ঘিরে সে দ্বন্দ পরিষ্কার। কেবল তাই না সমঝোতা আর ভোট এ দুই মতে এখন বিভক্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ। তবে ক্ষমতাসীন এ দুই নেতা যাই চাননা কেন তৃণমূল আওয়ামীলীগের দাবি ছিলো ভোটাধিকার। ১৯৯৬ ও সর্বশেষ ২০০৪ সালে এ উপজেলায় ভোটাধিকারের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছিলো।এবং সর্বশেষ পৌর আওয়ামীলীগে ও ভোটাধীকারের ভিত্তিতে আমিনুল ইসলাম রাবেল ও মোঃ রুহেল আহমদ যতাক্রমে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন, তার ধারাবাহিকতায় ভোটেই নেতা নির্বাচনে তৃণমূল আওয়ামী লীগের ইচ্ছা থাকলেও সমঝোতাবিষয় নিয়ে দেখা দেয় দ্বন্দ। তবে বিভক্তি বলেন আর দ্বন্দ বলেন অভিযোগের তীর স্থানীয় সাংসদ দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদের দিকে।
জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এ উপজেলায় সর্বশেষ গত ১৩ নভেম্বর ছিলো সম্মেলনের তারিখ। সম্মেলন উপলক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদসহ কেন্দ্রীয় ও জেলার একাধিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনও সমাপ্ত হয় বেশ উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে। তৃণমূল নেতৃবৃন্দ ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি গঠনের প্রস্থাব দেন কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ। তৃনমূলের ভোটের দাবী উপেক্ষা করে জেলা কেন্দ্র নেতারা উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আলোচনায় বসলেও একটু পরই বিপত্তি ঘটে। বৈঠকে বর্তমান সভাপতি ইকবাল আহমদ চৌধুরীকে পুনরায় সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নাহিদের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে খ্যাত সৈয়দ মিসবার নাম আলোচনায় নিয়ে আসলেই ঘটে বিপত্তি। শেষমেশ আলোচনায় তেমন কোন ফল না পাওয়ায় তাদের দুইজনকেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তৃণমূল নেতৃবৃন্দের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় তৃনমূলের কাউন্সিলর দের তোপের মুখে পড়েন নুরুল ইসলাম নাহিদ। পরে পুলিশি পাহারায় কাউন্সিলস্থল উপজেলা অডিটিরিয়াম ছাড়েন নুরুল ইসলাম নাহিদসহ কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ।

ঘটনা এখানেই শেষ না, নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে কি হবে এর রেশ পড়ে সড়কেও। তাৎক্ষনিক গোলাপগঞ্জ বাজারের চৌমুহনিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন উত্তেজিত তৃণমূল আওয়ামী লীগের কর্মীরা। তখন তারা নুরুল ইসলাম নাহিদকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন বলেও জানা যায়।

তৃণমূল আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের একটাই দাবি, তারা কর্মী বান্ধব নেতা চান। তাদের এই দাবিটি কেন্দ্রও মূল্যায়ন করবে বলে জানা যায়।সর্বশেষ জানা যায় সভাপতি পদে ইকবাল আহমদ চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক রফিক আহমদ চৌধুরী এবং সভাপতি পদে রফিক আহমদ চৌধুরী ও সাধার সম্পাদক পদে লুৎফুর রহমান কে নিয়ে অন্দর মহলে জোর আলোচনা হচ্ছে। এই মতের মধ্যে কমিঠি হলে গোলাপগঞ্জ আওয়ামীলীগ নির্গাত ঝড় জঞ্জাল থেকে মুক্তি পাবে নতুবা এর ব্যতয় হলে গোলাপগঞ্জ আওয়ামীলীগে নতুন করে সূচিত গ্রুপিং কোন্দল হানা হানি শুরু হবে এই নিয়ে উদ্বিগ্ন গোলাপগঞ্জের সচেতন রাজনীতিক মহল।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল