দক্ষিণ সুরমার শিলং র্তীরের গডফাদার ফরিদ-দিলোয়ার – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

দক্ষিণ সুরমার শিলং র্তীরের গডফাদার ফরিদ-দিলোয়ার

প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৮

দক্ষিণ সুরমার শিলং র্তীরের গডফাদার ফরিদ-দিলোয়ার
স্টাফ রিপোর্টার 
‘শিলং তীর’ এখন দক্ষিণ সুরমাবাসীর গলার কাঁটা। ভিনদেশী এ লটারির খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে যুব সমাজ ও শ্রমজীবী মানুষ। দিনের রোজগার রাতে লুটে নিচ্ছে শিলং তীর সিন্ডিকেটরা। এদের মধ্যে প্রত্যেক এলাকায় রয়েছেন আলাদা আলাদা গডফাদার। এখন শুধু চিহ্নিত এলাকায়ই নয়, দক্ষিণ সুরমার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে পড়ছে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শিলং তীরের বিরুদ্ধে শতাধিক অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু সিন্ডিকেটদের মূল উৎপাটন সম্ভব হয়নি। এখন অভিযানের পাশাপাশি শিলং তীরের সিন্ডিকেটদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কাজে ব্যস্ত রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। সিলেট মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমেই এই তীর সিন্ডিকেটদের থামানো সম্ভব। ‘বায়বীয়’ পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে শিলং তীর খেলা। প্রায় সময় সিন্ডিকেটরা ধরা পড়লেও তথ্য-প্রমাণের অভাবে তাদের আটকে রাখাও সম্ভব হয় না। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী হচ্ছে শিলং। সিলেট থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দূরের এলাকা শিলং। পাহাড়ি বাসিন্দারা ওখানে শিলং তীর নামে প্রতিদিন একটি লটারির আয়োজন করেন। ওই লটারির ঢেউ অনেক আগেই এসে লাগে সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে। কিন্তু গত দেড় বছর আগে সিলেট নগরীতে প্রবেশ করে শিলং তীর। বিশেষ করে এজেন্ট তৈরির মাধ্যমে সিলেট নগরীতে ওই খেলা শুরু হয়। সিলেটে এ নিয়ে হুলস্থল পড়ে যায়। রাতারাতি টাকাওয়ালা বনে যাওয়ার আশায় সিলেটে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েন শিলং তীর খেলায়। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থেকে প্রথমে শিলং তীরের বোর্ড পরিচালনা করা হয়। এরপরও ধীরে ধীরে গোটা নগরীতেই ছড়িয়ে বোর্ডের নিয়ন্ত্রকরা। এখন পাড়াভিত্তিক বোর্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে সিলেট নগরীতে প্রায় ৫ শতাধিক বোর্ড রয়েছে বলে জানা গেছে। আর একেকটি বোর্ডের মালিক একেক জন সিন্ডিকেটরা। সিলেট নগরীর চৌকিদেখি এলাকার বাগান এলাকায় রয়েছে কয়েকজন ‘বিগবস’। লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তারা এখন কোটিপতি। পুলিশের খাতায় তাদের নাম থাকলেও তারা বীরদর্পে শিলং তীরের বোর্ড পরিচালনা করছে। এছাড়া খাসদবির, হাউজিং এস্টেট, লেচুবাগান, পীরমহল্লা, পাঠানটুলা, মদিনা মার্কেট, কালিবাড়ি, বাগবাড়ি, মেডিকেল রোড, সুবিদবাজার, আম্বরখানা, শাহী ঈদগাহ. টিলাগড়, কাজিটুলা, শিবগঞ্জ, মেজরটিলা, পীরের বাজার, উপশহর, মেন্দিবাগ, বন্দরবাজার, সুবহানীঘাট, শেখঘাট, কলাপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় শিলং তীর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেশি। সিলেট পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিলেটে শিলং তীর সিন্ডিকেটদের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযান চালায়। আটক করা হয় সিন্ডিকেটদের। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে বেরিয়ে যায় তারা। এ কারণে পুলিশ সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে। ইতিমধ্যে পুলিশের মোটিভেশনে কাজ হচ্ছে। এদিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তীর সিন্ডিকেটদের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ। দুষ্টচক্রের অপতৎপরতায় প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ‘শিলং তীর’র অভিশাপে অনেককে ভিটে-বাড়ি পর্যন্তও বিক্রি করতে হচ্ছে। লোভে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে দিনমজুর, গরিব আর সাধারণ মানুষ। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশে বিশেষ করে দক্ষিণ সুরমা অঞ্চলে সামাজিক ধস নামবে এবং এর পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত মারাত্মক। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে অবিলম্বে চরম ঘৃণিত এবং অভিশপ্ত এই ‘শিলং তীর জুয়া’র স্থানীয় এজেন্টদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। দক্ষিণ সুরমা এলাকাবাসী আরো বলেন, গণধিক্কৃত এই ‘শিলং তীর জুয়া’র স্থানীয় এজেন্টদের গ্রেপ্তারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বারবার অভিযান চালালেও কার্যত এদের দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার কোনো কোনো সময় পুলিশ বা র‌্যাব প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে না পেরে আশপাশ থেকে পথচারী বা নিরীহ লোকসহ অনেককে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে, যারা প্রকৃতপক্ষে দোষী নয়। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত এজেন্ট ও দালালদের গ্রেপ্তার করে আত্মঘাতী এ অপকর্মের মূলোৎপাটনে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। এদের মধ্যে সমগ্র দক্ষিণ সুরমা মূলহোতা হচ্ছে দক্ষিণ সুরমার সাধুরবাজারের টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে ফরিদ লন্ডির মালিক ফরিদ মিয়া (লন্ডি ফরিদ) ও তার সহযোগি দিলোয়ার হোসেন। এমনি ফরিদ তার স্ত্রীকে দিয়ে নগরীর কাজিরবাজার এলাকার গরু হাটায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এই ২ র্তীর গড়ফাদার প্রভাবশালী হওয়া তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। তবে এদের অপকর্মে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং ক্রমান্বয়ে সাধারণ মানুষ ফুঁসে উঠছেন। দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহিদ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তীর ও টিকটিকি জুয়া খেলার বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদান করেন এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান। এতো কিছুর পরও থেমে নেই এই সর্বনাসা তীর খেলা। এ ব্যাপারে এসএমপির মূখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, তীর ও টিকটিকি নামীয় জুয়া খেলা বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। যেখানে খবর পাওয়া যাবে সেখানেই আমাদের অভিযান চলবে।