দক্ষিণ সুরমায় পারিবারিক কলহের জেরে হয়রানীর শিকার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সোহেল(ভিডিওসহ) – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

দক্ষিণ সুরমায় পারিবারিক কলহের জেরে হয়রানীর শিকার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সোহেল(ভিডিওসহ)

প্রকাশিত: ৪:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

দক্ষিণ সুরমায় পারিবারিক কলহের জেরে হয়রানীর শিকার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সোহেল(ভিডিওসহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় পারিবারিক কলহের জেরে শসুড় বাড়ির লোকজনের হামলা ও হয়রানীর শিকার হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সোহেল মিয়া। তিনি নেত্রকোনো জেলার পানগাঁও ইউপির গারাউন গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ মিয়ার ছেলে। বর্তমানে ১ ছেলে ১ মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেলিবাজার এলাকার জিয়া উদ্দিন হাউজের ২য় তলায়। শনিবার রাতে স্ত্রী সৈয়দা মুন্না বেগমের সাথে তুচ্ছ ঘটনার জেরে কথাকাটি হলে স্ত্রীর মায়ের বাড়ির লোকজন এসে সোহেল মিয়াকে হত্যার চেষ্ঠা করে বলে অভিযোগ করেন সোহেল মিয়া।
ঘটনার বিবরণে সোহেল বলেন, ২০০৮ সালে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক সৈয়দা মুন্না বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। সংসার জীবনে তাদের কুল জুড়ে আসে মেহেদী হাসান সোহান নামে ৯ বছরের একটি পুত্র সন্তান ও নাঈমা আক্তার সুমনা নামে ৭ বছরের কন্যা সন্তান । স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভালোই চলছিলো সোহেলের সংসার।
কিন্তু সুখের সংসারে বিগত ১ বছর ধরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। স্ত্রী সৈয়দা মুন্না বেগম তার মা ভাই ও বোনদের কান কথা শুনে প্রায় সময় সোহেলের সাথে খারাপ আচরণ করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় সোহেল স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বাসায় আসলে স্ত্রী সৈয়দা মুন্না বেগম তার সাথে ঝগড়া শুরু করেন।
এক পর্যায়ে স্বামীর সাথে স্ত্রীর ধস্তাধস্তি হলে একই ভবনের নিচ তলার বাসিন্দা সরকারী চাকুরীজীবি নজরুল ইসলাম এসে স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া থামানো চেষ্ঠা করেন। পরক্ষণেই সৈয়দা মুন্না বেগম তার ভাই গোলাপগঞ্জ উপজেলার এমসি একাডেমী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ আনোয়ার হোসেন রাজাকে ফোন দিলে রাজা ও তার মা হাফিজুন চৌধুরী, বোন সৈয়দা পান্না বেগম, সৈয়দা শান্না বেগম দ্রুত চলে আসানে তেলিবাজারের বাসায়।
বাসায় এসেই তারা সোহেলকে হত্যার উদ্যেশে মারপিট করলে তিনি প্রাণ বাচাঁতে আশ্রয় নেন নিচতলার নজরুল ইসলামের বাসায়। সোহেলের শসুড় বাড়ির লোকজন সোহেলের বাসার ভেতর আসবাবপত্র ভাংচুরসহ স্টীলের আলমিরা ভেঙে নগদ ৮ হাজার টাকা, স্বর্ণ, মাইক্রোবাসের প্রয়োজনীয় কাগজ, ব্যাংকের চেক বই নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন সোহেল। বাসার মালিক জিয়া উদ্দিন সংবাদ পেয়ে ফোনের মাধ্যমে রাজাকে বলেন, স্বামী স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধ নিস্পত্তি করে দেবো, তোমরা বাসায় থাকো আমি আসছি। কিন্তু বাসার মালিকের মুঠোফোনের কথার তোয়াক্কা না করে রাজা তার বোন সোহেলের স্ত্রী সৈয়দা মুন্না বেগম ও ছেলে মেহেদী হাসান সোহানকে নিয়ে জিনিষপত্রসহ বেরিয়ে গেলেও ৭ বছরের শিশু কন্যা নাঈমাকে একা রেখে যান। সোহেল আরো বলেন, বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। স্ত্রী সৈয়দা মুন্না বেগম মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসানোর ফন্দি করছে বলে জানান তিনি। অপরদিকে একই বাসার অন্যান্য ইউনিটের বাসিন্দারা বলেন, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লাগতে পারে। তবে বড় ধরণের কোনো ঘটনা বা নির্যাতনের কোনো আলামত তারা লক্ষ্য করেননি। তবে সৈয়দা মুন্না বেগমের ভাই বোনরা বাসায় এসে তান্ডব চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা। সবশেষে সোহেল বলেন, আল্লাহ আমাদের দুটি সন্তান দিয়েছেন। সন্তানদের ভবিষৎতের কথা চিন্তা করে তিনি চান তার সংসারটি আগের মতো সুন্দর ভাবে চলুক।

স্ত্রী মায়ের বাড়ীর লোকজন দিয়ে হত্যার চেষ্টা। অভিযোগ স্বামি সোহেল মিয়ার।

দক্ষিণ সুরমায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী মায়ের বাড়ীর লোকজন দিয়ে হত্যার চেষ্টা" অভিযোগ স্বামি সোহেল মিয়ার। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে…

Posted by The Daily Sylheter Dinkal on Sunday, 28 June 2020