দিনভর দৌড়ঝাঁপ করে ঢাকা ছাড়লেন জন কেরি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

দিনভর দৌড়ঝাঁপ করে ঢাকা ছাড়লেন জন কেরি

প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৬

দিনভর দৌড়ঝাঁপ করে ঢাকা ছাড়লেন জন কেরি

jon karyওবামা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ঢাকায় এসে ব্যস্ত সময় পাড় করেছেন। নয় ঘণ্টার ঝটিকা সফরে দিন ভর ব্যস্ততায় কাটিয়ে সন্ধ্যায় ঢাকা ছাড়েন জন কেরি।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার পরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ বিমানে ওঠে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক তাকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওবামা সরকারের নানা বার্তা দিয়ে গেলেন বলেই জানা গেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন কেরিকে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর পালিয়ে থাকা খুনিদের ফেরত চান। জবাবে কেরি জানিয়ে গেলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা পর্যায়ে আছে। বাংলাদেশে এটি তার প্রথম সফর।

ঝটিকা সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সফর ঘিরে ঢাকাও ছিলো ব্যাপক প্রস্তুত। পুরো দেশের নজর ছিলো কি বার্তা দিয়ে যান কেরি বা কি বার্তা দেয়া হয় ঢাকার পক্ষে সেটি জানার। সংবাদকর্মীদেরও ছিলো ব্যস্ততা।

ঢাকায় অবতরণ: সকাল ১০টা ১০ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাকে বহনকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইট।

এরপর ১০টা ২৪ মিনিটে ফ্লাইট থেকে নামেন জন কেরি। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

বঙ্গবন্ধুর জাদুঘরে কেরি: প্রথমবারের মত বাংলাদেশে এসে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। সেখানে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের দর্শনার্থী বইয়ে কেরি লিখেছেন, বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে, তারই কন্যার দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি ১৫ আগস্টকে বর্ণনা করেছেন বাংলাদেশে মানুষের ‘অনন্যসাধারণ এক সাহসী নেতার’ জীবনাবসান হিসেবে।BB Jaduকেরি লিখেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশ গড়তে বাংলাদেশের এই অভিযাত্রায় বন্ধু হিসেবে সঙ্গী হতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র ‘গর্বিত’। শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে একসঙ্গে কাজ করে যেতে চাই আমরা।
3

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও শেখ রেহানার ছেলে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

সেখান থেকে ছুটে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করতে। বৈঠকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ ইস্যু নিয়ে কথা বলেন দুজন। এর বাইরে ওঠে আসে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফেরত দেয়ার বিষয়টি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের ফেরত দিতে সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির প্রতি অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনার কষ্ট বুঝি।’

এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে সন্ত্রাস, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরতের বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তাঁদের অনেক বিশেষজ্ঞ আছেন। তাঁরা সহযোগিতা করতে চান। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে লড়াই করবে। সন্ত্রাস বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান এবং বাংলাদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন কেরি।

ব্রিফিং এ জানানো হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার ঘটনা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরত দিতে জন কেরির প্রতি অনুরোধ জানান।

এ সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনার কষ্ট বুঝি। এ বিষয়টি পর্যালোচনা পর্যায়ে আছে।’ এ সময় তিনি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন পরিদর্শন ও জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ভবনের ইতিহাস তুলে ধরেন।

জানা যায়, সন্ত্রাস ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে জন কেরি বলেছেন যে জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য, জ্বালানিসহ অন্য অনেক ক্ষেত্রেই দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আহ্বান করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অস্ত্র ছাড়া সব বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সুযোগ চান। বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে জন কেরি বলেন যে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দুর্দান্ত কাজ করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে পদ্মায় বৈঠক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন ওবামার এই মন্ত্রী। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তারা নানা কথা বলেন।

দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে তিনি পদ্মায় পৌঁছান। এসময় তাকে অভিবাদন জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী ও প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

জানা গেছে, পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। এ বৈঠকের পর পদ্মায় কেরির সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছেন মাহমুদ আলী। এতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও তার সফরসঙ্গীরা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে মাহমুদ আলী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতির প্রশংসা করেছে কেরি।

উন্নয়নের প্রশসংনা করে টুইট: বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে টুইট করেছেন ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। সোমবার দু’টি পৃথক টুইটে তিনি এ প্রশংসা করেন। টুইটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানে একটি ছবিও দিয়েছেন তিনি।
2016-08-29_6_950014

কেরি টুইটে বলেন, উন্নয়নে বাংলাদেশের অসাধারণ গল্প রয়েছে। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনন্দিত।তারপরের টুইটে কেরি লেখেন, বাংলাদেশে আজ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এরমধ্যে ছিল নিরাপত্তা ইস্যু এবং কট্টরপন্থি সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় সহযোগিতার বিষয়ও।

বিকেল ৩টায় জন কেরি ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে অবস্থিত ইএমকে সেন্টারে নাগরিক সমাজ ও তরুণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।বিকেল ৪টায় মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় একটি বস্ত্র শিল্প কারখানা পরিদর্শন করেন। পোশাক খাতের ট্রেন ইউনিয়ন ও পোশাক শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

unnamedসেখানে তিনি কথা শেষ করে মার্কিন দূতাবাসে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিকেল ৫টায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ও চ্যান্সারি কমপ্লেক্সে সেখানকার কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দিনভর ব্যস্ত সময়সূচির পর সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন তিনি।