দিরাইয়ে আ. লীগের সংঘর্ষে ৩ জন নিহতের পর অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, মামলা হয়নি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

দিরাইয়ে আ. লীগের সংঘর্ষে ৩ জন নিহতের পর অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, মামলা হয়নি

প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০১৭

দিরাইয়ে আ. লীগের সংঘর্ষে ৩ জন নিহতের পর অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, মামলা হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক:; দিরাইয়ে সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হওয়ার ২৪ ঘন্টা কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের হয়নি। তবে ঘটনা তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আদেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

গত মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের জারুলিয়া জলমহাল দখলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩ জন নিহত হন। নিহতরা হলেন উপজেলার হাতিয়া গ্রামের তাজুল ইসলাম (৩৩), আকিলপুর গ্রামের সাহারুল ইসলাম (২৮) ও উজ্জ্বল মিয়া (৩০)। এদের মধ্যে তাজুল স্থানীয় হাসপাতালে এবং সাহারুল ও উজ্জ্বল ওসমানী হাসপাতালে মারা যান। এতে আহত হন আরো প্রায় ৩০ জন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জলমহালটির মূল ইজারাদার নাগেরগাঁও মৎসজীবী সমবায় সমিতি। তবে স্থানীয়রা জানান, এ সমবায় সমিতি ইজারার নেপথ্যে রয়েছেন দিরাই পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ মিয়া। মাসুক মিয়া নামের স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার নামে তিনি এ জলমহাল সাব-ইজারার নামে দখলে রেখেছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তবে তার বিপক্ষে জলমহালের সাব ইজারাদার হিসেবে দাবি করে আসছেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সাবেক সদস্য একরার হোসেন। মঙ্গলবারের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তিনজনই একরার হোসেনের মানুষজন বলে জানা গেছে।

একরারের দাবি, পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া নিজে উপস্থিত থেকে তার লোকজনকে দিয়ে গুলি ছুড়ে একরারের দলের ৩জনকে হত্যা ও আরো ২০জনকে গুরুতর আহত করেছেন। তবে পৌর মেয়র এ দাবি অগ্রাহ্য করে জানিয়েছেন তিনি ঘটনার সময় পৌর শহরেই ছিলেন, তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই এ ঘটনায়।

দিরাই উপজেলা চেয়ারম্যান জানান, বিগত তিন বছর ধরেই এ জলমহাল নিয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। গত বছর মাছ ধরার সময় একরার হোসেনের লোকদের হাতে দায়ের কোপও খেয়েছিলেন মাসুক মিয়া।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে পর্যাপ্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

তবে কোন পক্ষই এখন পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করেনি বলে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবার ও অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে যাতে তারা অভিযোগ দায়ের করেন।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, জলমহালটি জেলা প্রশাসন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগেরগাঁও মৎসজীবী সমবায় সমিতিকে ইজারা দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনা তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তিনি ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল