দুর্যোগ মোকাবেলায় ত্রাণ বরাদ্দ, বিতরণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় রাজনৈতিক প্রভাব: টিআইবি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

দুর্যোগ মোকাবেলায় ত্রাণ বরাদ্দ, বিতরণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় রাজনৈতিক প্রভাব: টিআইবি

প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৭

দুর্যোগ মোকাবেলায় ত্রাণ বরাদ্দ, বিতরণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় রাজনৈতিক প্রভাব: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর দুর্যোগ মোকাবেলায় অনেক এলাকায় ত্রাণ বরাদ্দ, বিতরণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরিতে অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়।

এর সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি চিহ্নিত করা, সচেতনতা ও সতর্কবার্তা প্রচারে ঘাটতি থাকার বিষয়টিও এসেছে ‘ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু: দুর্যোগ মোকাবেলায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে।

বুধবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা পতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অনেক প্রশংসা অর্জন করেছি; অর্জনও অনেক রয়েছে। স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সুশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় সহায়ক ভূমিকা নিতেই এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু মোকাবেলায় আক্রান্ত জেলায় খাবার, টাকা বরাদ্দ, আশ্রয় কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ ও মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াসহ সরকারের অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী নানা পদক্ষেপে অনিময়-বৈষম্য থাকায় ক্ষতিগ্রস্তরা এর সুফল পায়নি। ২০১৬ সালের ২১ মে রোয়ানু উপকূলীয় ১৫ জেলায় আঘাত করে। এতে ২৭ জন নিহত হয় ও ঘরবাড়িসহ ফসল-সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক জানান, সরকারের নানা পদক্ষেপের পরও জনসচেতনতার অভাবে প্রাণহানি ঘটেছে। তাদেরকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা অগ্রাহ্য করে ফিরে আসায় এটা হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবেলায় গুণগত অনেক ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে পছন্দসই এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ হয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও রাজনৈতিক প্রভাবে কোনো এলাকায় বরাদ্দ বেশি হয়েছে। স্বজনপ্রীতি করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হয়েছে, ত্রাণ বিতরণে বৈষম্য হয়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে, বলেন ইফতেখারুজ্জামান।

সীমিত সামর্থ্যের পরও অনিয়ম, বৈষম্য, সমন্বয়হীনতা কাটাতে ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নিতে ১৫টি সুপারিশ করে সংস্থাটি।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলার অর্জন ধরে রাখতে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করতে হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, অস্বচ্ছতা ও শুদ্ধাচার চর্চায় ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ জেলা চ্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও বরগুনার জেলার দুটি করে উপজেলা থেকে মাত্র ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে গতবছর জুন মাসে গবেষণা চালায় টিআইবি। এর উপর ভিত্তি করেই দুর্যোগ মোকাবেলায় সুশাসনের ঘাটতি বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেয় সংস্থাটি।

এসব এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ, জনগণকে তথ্য জানানোয় ঘাটতি, মহড়া আয়োজন না করা এবং অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ছয়টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহারের উপযোগিতা হারিয়েছে। চট্টগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রতি ৪০১ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ভোলায় এর চেয়ে ছয়গুণ বেশি বরাদ্দ হয়েছে। টিআইবির এম জাকির হোসেন খান, নিহার রঞ্জন রায়, নেওয়াজুল মওলা ও নাহিদ শারমীন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের উপকূলীয় এলাকায় পাঁচ হাজার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের চাহিদার বিপরীতে ৩ হাজার ৭৫১টি রয়েছে। বিভিন্ন সরকারের সময়ে নির্মিত অধিকাংশ আশ্রয়কেন্দ্র নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি ও ব্যবহার অনুপযোগী। এসব আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে গড়ে মোট বরাদ্দের ৭০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয় এবং বাকি অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যায়। এছাড়া এসব আশ্রয়কেন্দ্র যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারপার্সন সুলতানা কামাল, উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের ও গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল