চরম আতংক আর উৎকন্ঠার মধ্যে দিয়ে সিলেটে ঈদ আনন্দ। – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

চরম আতংক আর উৎকন্ঠার মধ্যে দিয়ে সিলেটে ঈদ আনন্দ।

প্রকাশিত: ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০১৬

চরম আতংক আর উৎকন্ঠার মধ্যে দিয়ে সিলেটে ঈদ আনন্দ।

25426দেশের অস্থির পরিস্থির মধ্যে দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। নগর বাসী চরম আতংক আর উৎকন্ঠার মধ্যে দিয়ে উপভোগ করছেন ঈদের আনন্দ।

ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে সিলেটে আসতে শুরু করেছেন পর্যটকরা। নগরীর হোটেল-মোটেলের দুই-তৃতীয়াংশ এরই মধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকরা সিলেটে এসে যাতে নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারেন সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যটন স্পটগুলোতে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।

এদিকে, জাফলং-বিছানাকান্দিসহ প্রধান প্রধান পর্যটন স্পটগুলোতে ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটের কারণে পর্যটকদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে সিলেটের পর্যটন স্পটগুলোর মর্যাদাই যেন আলাদা। ভারতের মেঘালয় পাহাড় ঘেঁষা প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি প্রকৃতি কন্যা জাফলং, পান্তুমাই’র ঝর্ণা, বিছানাকান্দির স্বচ্ছ-সফেদ পানি আর সোয়াম ফরেস্ট খ্যাত রাতারগুল এক নজর দেখতে কার না মন চায়। প্রকৃতির টানে বাংলাদেশের অনেক জেলা থেকে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ছুটে আসেন সিলেটে ঈদের ছুটি কাটাতে। তাদের বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসে পর্যটন স্পটগুলোতে সৃষ্টি হয় অন্যরকম আবহের। হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.) এর মাজার এবং সিলেটের চা বাগান নিয়েও আগ্রহ রয়েছে পর্যটকদের।

সিলেটের পর্যটনস্পটগুলোতে স্বচ্ছ জল, কোথাও নীল জলের খেলা চলে অবিরাম। ছোট, বড় নুড়ি পাথর, আরও আছে উঁচু-নিচু পাহাড়। সেই পাহাড়গুলোতে হেলান দিয়ে ঘুমায় মেঘের রাশি। অন্ধকার রাতে জোনাকি পোকার আলো আশপাশের এলাকাকে করে তোলে আরও বর্ণিল। তাই, সিলেটের পর্যটন স্পটগুলোর প্রতি একটা আলাদা টান থেকে যায় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। সেই ভালো লাগা থেকে প্রতি বছরের মতো এবারও পর্যটকরা সিলেটে আসতে শুরু করেছেন। ঈদ উপলক্ষে একটানা ৯ দিনের লম্বা ছুটি কাটাতে সিলেটকে বেছে নিয়েছেন তারা।

সিলেট পর্যটন মোটেলের ইউনিট ম্যানেজার মো. জাহিদ হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে তার মোটেলের প্রায় নব্বই ভাগ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।

হোটেল লা ভিস্তা’র স্বত্বাধিকারী ও সিলেট চেম্বারের পরিচালক আবু তাহের মো. শোয়েব জানান, অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের পছন্দের প্রথম তালিকায় রয়েছে সিলেট। এখানে রয়েছে হযরত শাহজালাল(র.), শাহপরান(র.)সহ বহু ওলি আউলিয়ার মাজার। তবে সমস্যা হচ্ছে সবকটি পর্যটন স্পটের সড়ক। অধিকাংশ সড়কের অবস্থা বেহাল। রাস্তা-ঘাট ঠিকঠাক থাকলে পর্যটকরা আরও বেশি সিলেটমুখী হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিলেট হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার শিপার আহমেদ জানান, একজন পর্যটক যদি কক্সবাজার যান তাহলে তিনি শুধু সমুদ্র সৈকত দেখবেন। আর সিলেটে আসলে পাহাড়, নদী, হাওর, ঝর্ণা, মাজারসহ এক সঙ্গে বহু স্থান দেখা হয়ে যায়। লম্বা ছুটিও সিলেটে পর্যটক বেশি হওয়ার আরেকটি বড় কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তার বেহাল দশার কারণে জাফলং বেড়াতে আসা পর্যটকরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে সিলেট-তামাবিল সড়কের মামার দোকান থেকে বল্লাঘাট পর্যন্ত অংশের দশা খুবই বেহাল। রাস্তার এ অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর অংশেও কিছু কিছু এলাকায় রাস্তায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাতারগুলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী ওসমানী বিমানবন্দর বাইপাস অংশের দশা খুবই করুণ। বিছানাকান্দি যাওয়ার ক্ষেত্রেও পর্যটকরা ব্যবহার করেন এই রাস্তা।

তবে সড়কের এমন বেহাল দশার পরেও লম্বা ছুটির কারণে এবার সিলেটে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসছেন। এজন্য পর্যটন স্পটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার রহমত উল্লাহ বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এবার সিলেটে পর্যটকদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এসএমপি’র উদ্যোগে স্পট কেন্দ্রিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশও আমাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল