দেশের আপামর জনগণ আজ মায়ের মুক্তির অপেক্ষায়-গণতন্ত্রের মুক্তির অপেক্ষায়-মোঃ আসাদুল হক আসাদ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

দেশের আপামর জনগণ আজ মায়ের মুক্তির অপেক্ষায়-গণতন্ত্রের মুক্তির অপেক্ষায়-মোঃ আসাদুল হক আসাদ

প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮

দেশের আপামর জনগণ আজ মায়ের মুক্তির অপেক্ষায়-গণতন্ত্রের মুক্তির অপেক্ষায়-মোঃ আসাদুল হক আসাদ

আওয়ামী শিবিরে চরম হতাশা পরিলক্ষিত হচ্ছে। শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বক্তব্যেই তা স্পষ্ট । দেশি-বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা ও এজেন্সীর মাধ্যমে লক্ষ-কোটি ডলার বিনিয়োগ করেও কোনভাবেই জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে ভাঙ্গন সৃষ্টি করতে পারতেছে না । আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছিল, বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা অনেক ভঙ্গুর ও সমন্বয়ের যথেষ্ট অভাব । বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে চরম কোন্দল ও ভয়াবহ গ্র“পিং। আওয়ামী শীর্ষ নেতৃত্বের বদ্ধমূল ধারনা ছিল, এইরকম একটি সংকটময়- কঠিন মুহূর্তে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে জেলে প্রেরণ করতে পারলেই বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকট সৃষ্টি হবে । কেউ কারও কথা শুনবে না। যার ফলস্বরূপ, গ্র“পিং এ বিপর্যস্ত দলটির দন্ধ ও বিদ্রোহ আরও প্রকাশ্যরূপ ধারন করে দল কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে । কিন্তু সেই আশায় আজ গুড়েবালি । কারন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী ষড়যন্ত্র সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অনেক সচেতন ছিলেন। তিনি অত্যন্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, সাহসী, দৃঢ়চেতা ও দূরদরর্শী নেত্রী । যিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে নিজের জীবন বিলিয়ে দিতেও সবসময় মানসিকভাবে প্রস্তুত । জেলে যাওয়ার জন্য ও মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। যার ফলে গ্রেফতার পরবর্তীতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হবে-তার সঠিক পরিকল্পনা ও নির্দেশনা যথাযথভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তৃণমূল পর্যন্ত পূর্বেই পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়েছিল । মইন উদ্দিন-ফখর উদ্দিনের অবৈধ শাসনামলে দলের অস্তিত্ব সংকটের মুহুর্তে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল-তাদের কাছেও কঠোর সতর্কতামূলক মেসেইজ পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং এটি আজ পরিক্ষিত সত্য যে -দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি তৃণমূলের আস্থা ও বিশ্বাস এত গভীর ও প্রবল যে, শত প্রলোভন ও চেষ্টায় বিএনপিতে আর ভাঙ্গন সৃষ্টি করা যাবে না । দেশের অনেক ক্রান্তিলগ্নে বিএনপির যে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কে ঢাকার রাজপথে খুঁজে পাওয়া যায় নি-দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তৃণমূল নেতৃবৃন্দ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মোবাইল বন্ধ থাকায় হতাশ হয়ে নিজ নিজ জেলায় ফিরে এসেছেন। সেই নেতৃবৃন্দের ঐক্যবন্ধ ভূমিকার কারণে আজ চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন । ঢাকার রাজপথে প্রতিটি অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বিপুল কর্মী সমর্থকদের নিয়ে সফল ও স্বার্থক প্রোগ্রাম আয়োজনের প্রানান্তকর প্রচেষ্টা । কারন তারা জানেন, এখনই সর্বোচ্চ ত্যাগ ও সামর্থ্যরে পরীক্ষা দিতে হবে। পুরস্কার অথবা তিরস্কার যে কোন ও একটি তাদের জন্য অপেক্ষা করতেছে । তাই ভূল করতে কেউ রাজি নয় । তবে আওয়ামী সরকার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে দলে ভাঙ্গনের চেষ্টা করবে । তবে বিএনপির সবচেয়ে বড় স্বার্থকতা হচ্ছে, আওয়ামী সরকারের পাতানো ফাঁদে পা না দেওয়া ।
রায় পরবর্তীতে আবেগের বশবর্তী হয়ে সামান্য সহিংস আন্দোলনের সুযোগে তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশি-বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা ও এজেন্সির মাধ্যমে দেশজুড়ে জ্বালাও-পোঁড়াও, হত্যা-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের আপামর জনগন ও বিদেশে ভাবমূর্তি নষ্ট করাই ছিল আওয়ামী সরকারের মূল লক্ষ্য । আজ তাদের সকল ষড়যন্ত্রই ব্যর্থ ।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ ম্যাডাম থেকে মানুষের সবচেয়ে আবেগ আর ভালবাসায় সংমিশ্রিত শব্দ মা -আমার মা -দেশ মাতায় পরিনত হয়েছেন । জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছেন আজ তিনি। মায়ের ডাকে নেতাকর্মীরা আজ বিভেদ ভূলে ঐক্যবদ্ধ । মায়ের মুক্তির দাবিতে জীবন দিতেও প্রস্তুত । মিথ্যা মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত শাস্তি এখন হাস্যকর রায়ে পরিনত হয়েছে । আওয়ামী শীর্ষ নেতৃত্ব ও এখন সুর পাল্টিয়ে মুক্তির পথ খুঁজতেছেন। দেশের আপামর জনগণের হৃদয় থেকে একটি শ্লোগানই প্রতিনিয়ত প্রতিধ্বনিত হচ্ছে,
“আমার নেত্রী- আমার মা
বন্দী থাকতে দিবও না ”
দেশের আপামর জনগণ আজ মায়ের মুক্তির অপেক্ষায়-গণতন্ত্রের মুক্তির অপেক্ষায় ।
সেইদিন বেশি দূরে নয়-বিজয় অতি সন্নিকটে ইনশাআল্লাহ
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবৈধভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার মোহ নেই। না হয় মইন উদ্দিন-ফখর উদ্দিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করলে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের স্মরণকালের ভয়াবহ জুলুম আর নির্যাতন সহ্য করতে হত না । তিনি বলেছেন, মানুষ মরনশীল। এই দেশ আমার মা-মাতৃভূমি । মৃত্যু ভয়ে আমি ভীত নই। বিদেশের মাটিতে পালিয়ে গিয়ে আমি বেঁচে থাকতে চাই না। এই দেশের মাটিতেই মৃত্যুবরণ করতে চাই।
সাবেক যুগ্ম সম্পাদক: সিলেট মহানগর ছাত্রদল