“দেশের উন্নয়ন আকাশ ছুঁয়ে, তা দেখে রাস্তার গর্তেও নৌকা চলে”-মো.নাঈমুল ইসলাম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

“দেশের উন্নয়ন আকাশ ছুঁয়ে, তা দেখে রাস্তার গর্তেও নৌকা চলে”-মো.নাঈমুল ইসলাম

প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০১৭

“দেশের উন্নয়ন আকাশ ছুঁয়ে, তা দেখে রাস্তার গর্তেও নৌকা চলে”-মো.নাঈমুল ইসলাম

মানবিক জীবন সময় এবং নদীর স্রোতের মতো গতিশীল। প্রতিনিয়ত তারা নতুন কিছুর আশায় থাকে। তারা আশা করে প্রতিদিনের শুরুটা যেনো ভালো হয়। তারা আশায় থাকে প্রতিটা দিন এবং দিনের প্রত্যেকটি মুহুর্ত যেনো আনন্দ এবং সুখে অতিবাহিত হয়। মানুষ তাদের জীবনে চাওয়া থেকে পাওয়াটাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। প্রতিদিনের শুরুতে পরিলক্ষিত হয় সকাল বেলা ছোট ছোট ছেলে ও মেয়েশিশুরা বাবা মায়ের হাতধরে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য রওনা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ছুঁটে চলে স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির উদ্দেশ্যে। পরিবারের উপার্জনকারীরা দিনের শুরুতে মহান রাব্বুল আলামীনকে স্মরণ করে একনিষ্ঠতার সঙ্গে বেড়িয়ে পড়েন টাকা উপার্জনের আশায়। অনেক কষ্ট সইতে হয় তাদেরকে টাকা উপার্জন করতে, অনেক কষ্ট হলেও তাদেরকে রাত্রে বাড়ি ফেরার সময় হাতে করে ব্যাগভর্তি বাজার নিয়ে আসতে হয়, কিন্তু এই কষ্ট তখনই নিমিষে হারিয়ে যায় যখন বাসায় ফিরে তারা তাদের প্রিয় আপনজনদের মিষ্টি মুখ দেখে ফেলে। যখন ২ বছরের একটি শিশু বাবা বাবা বলে ডাকে তখনই এই কষ্ট নিমেষে হারিয়ে যায়। হাজার কষ্টের বিনিময়েও পরিবারের উপার্জনকারীরা চায় পরিবারের সবাইকে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি খুশি রাখতে। তারা বিভিন্ন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। কারোর দিন শুরু হয় স্কুলে-কলেজে-ভার্সিটিতে শিক্ষকতা করে, কারোর দিন শুরু হয় আদালতে উকালতি করে, কারোর দিন শুরু হয় ব্যবসাকে কেন্দ্র করে, কারোর দিন শুরু হয় রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা চেয়ে, কারোর দিন শুরু হয় রাস্তায় রাস্তায় অপদ্রব্য কুঁটে, কারোর দিন শুরু হয় মাঠেঘাটে প্রখর রোদ্রের তাপের মধ্যে কৃষিকাজ করে হাল চাষ করে, কারোর দিন শুরু হয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সরকারী দায়িত্ব পালন করে, কারোর আবার দিন শুরু হয় নগর-গ্রাম-হাটে-বাসা-বাড়িতে পায়ে করে হেঁটে পত্রিকা পৌছে দিয়ে, কারোর দিন শুরু হয় বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাপড় বিক্রি করে দুধ বিক্রি করে প্রত্যেকেরই দিনের প্রথম প্রহরটা এক নতুন স্বপ্ন বুনার আশায় থাকে। দেশের মূল চালিকাশক্তি যারা তাদের দিনটাও খুব একটা সাধারণ মানুষদের মতোই শুরু হয়। তাদের পেশা হলো তারা দেশের সম্মানিত মন্ত্রী, এমপি, মেয়র, কাউন্সিলর ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ। কিন্তু যারা এই পেশাগুলোকে সৎপথ এবং দুর্নীতি ছাড়াই করতে পারেন একমাত্র তাদের দ্বারাই দেশের উন্নয়ন এবং অগ্রগতি আশা করা যায়। এতো সবকিছুর মধ্যেও যখন মানুষের জীবনে বিপর্যয় দেখা দেয় তখন তারা তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। বিপর্যয় সাময়িক হলেও তাদেরকে কষ্টের অনুভূতিটা দিয়ে যায়। কিন্তু বিপর্যয়টা যখন পরিবহণে ঘটে তখন হয়তো কাউকে লাশ হয়েও ফিরতে হয়। বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা যেটি, রাস্তায় হাঁটতে গেলে গর্ত এবং খাঁদ ছাড়া কিছুই লক্ষ্য হয় না। রাস্তায় হাঁটতে গেলে দিনের বেলা রাস্তার ধোঁয়া দেখে মনে হয় শীতের কুয়াশায় পুরো রাস্তা অন্ধকারাচ্ছন্ন। কিন্তু এই কষ্টগুলোর সম্মুখীন আমাদের মতো খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষদের করতে হয় কারে চড়ে বসা মন্ত্রী, এমপি, মেয়র, কাউন্সিলর, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নয়। তারা শুধু জানে কিভাবে সরকারি কাজ করতে গিয়ে সেটাকে দুর্নীতি এবং অসৎ পথে করতে হয়। আর যখন দেখি রাস্তার গর্তগুলোর মধ্যেও নৌকা চলছে তখন মনে হয় বর্তমান বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার দেশের অগ্রগতিতে বেশ ভালোই ভূমিকা রাখছে।

বিঃদ্রঃ সারাদেশ বা সমগ্র সিলেট না হয় বাদই দিলাম একটু কষ্ট করে সিলেটের ঐতিহাসিক মারকাজ মসজিদের সামন থেকে সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সামন পর্যন্ত পরিদর্শন করলে উপলব্দি করতে পারবেন বর্তমান বাংলাদেশের উন্নয়ন চিত্র। ছবিটি সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সামন থেকে ধারণকৃত।

মো.নাঈমুল ইসলাম
ছাত্র ব্যক্তিত্ব লেখক, কলামিস্ট ও সংগঠক।