“দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দেশীয় জঙ্গিদের বিচরণ ঘটেছে”- মো.নাঈমুল ইসলাম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

“দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দেশীয় জঙ্গিদের বিচরণ ঘটেছে”- মো.নাঈমুল ইসলাম

প্রকাশিত: ৭:০৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭

“দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দেশীয় জঙ্গিদের বিচরণ ঘটেছে”- মো.নাঈমুল ইসলাম

“শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড” প্রচলিত কথাটির সাথে আমি সমর্থিত হতে পারলাম না। আমি বিনয়ের সাথে বাক্যটিকে প্রত্যাখ্যান করলাম। তবে বাক্যটির পূর্ণতা এরকম হবে “সু-শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড”। কারণ প্রত্যেকটি বিষয়ের একটি খারাপ এবং একটি ভালো দিক থাকে! শিক্ষা ব্যবস্থায়ও আছেঃ সু-শিক্ষা ও কু-শিক্ষা। একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে কু-শিক্ষা নয় সু-শিক্ষার প্রয়োজন। আইএস বা জঙ্গি নামক শব্দটি আমাদের দেশের জন্য বেশ পরিচিত একটি বিষয়। বিগত বছরে আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা হয়। জঙ্গিবাদ নামক শব্দটির সৃষ্টিকর্তা কিন্তু মানুষই। যারা দেখতে ঠিক আপনার মতো আমার মতো সাধারণ মানুষ। এই জঙ্গি প্রশিক্ষণ কিন্তু একটি শিক্ষার মাধ্যমেই শুরু হয়। যে শিক্ষাকে কু-শিক্ষা বলে আখ্যায়িত করা হয়। এ শিক্ষায় এরকম কিছু পর্যায় আসে যেখানে একটি ছেলে শিশুকে নিয়ে তার ছোটবেলা থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত জীবনের ভুল শিক্ষা দেয়া হয়। তাকে তার জীবনে কলম থেকে বেশি সময় অস্ত্রের সাথে কাটাতে হয়। এমনকি নিজের পরিবার থেকেও বেশি সময় দিতে হয় অস্ত্রকে নিয়ে। তাকে ছোটবেলা থেকেই জিহাদ ও ইসলাম নামক শব্দটির ভুল অর্থ শেখানো হয়। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর লোকদের খুন করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হয় তাকে এই শিক্ষা দেয়া হয়। তাকে জিহাদ ও ইসলাম মানে রক্তপাত শিক্ষা দেয়া হয়। আর যখন কোনো জঙ্গিদের আত্মপরিচয় বের হয়ে আসে দেখা যায় তারা বিশ্বের কোনো না কোনো নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়’র শিক্ষার্থী। অনেক সময় দেখা যায় যুবক বয়সে অনেকেই জঙ্গি’র সাথে জড়িত হয়। অতঃপর তার পরিচয় বেরিয়ে আসে এই জঙ্গি আওয়ামীলীগ নেতার ছেলে। স্মরণ করিয়ে দেই আপনাদের হোটেল হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার একজন সদস্য রোহান ইমতিয়াজ ছিলেন আওয়ামীলীগ ঢাকা মহানগর কমিটির যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক ইমতিয়াজ খান বাবুলের ছেলে। কি ছিলনা রোহান ইমতিয়াজের। শিক্ষাগত যোগ্যতা, টাকা, পরিবার মর্যাদা, আত্মসম্মান সবই তো ছিল তাহলে কেনো সে এরকম একটি পদক্ষেপ নিল। সে এতো শিক্ষিত হয়েও কেনো কু-শিক্ষায় জড়িত হলো। এই জঙ্গি নিরসনে সবচেয়ে বেশি ক্রেডিট নেয় কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকারই। কিন্তু এই আওয়ামীলীগ সরকার থাকাকালীন সময়ে যদি জঙ্গিদের উপদ্রব বেড়ে যায় তাহলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কোন পর্যায়ে থাকবে তা তো বুঝতেই পারছেন। আওয়ামীলীগ নিরসন করতে জানে কিন্তু এটা জানার চেষ্টা করে না কেনো তারা জঙ্গিতে পরিণত হয়। যদি জানতেন বা জানার চেষ্টা করতেন তাহলে জঙ্গি নামক শব্দটির উৎপত্তিই হতো না। এই জঙ্গি নামক শব্দটির উৎপত্তি’র মূল কারণই হলো আওয়ামী সরকারের অধীনে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা। ক্ষমতাসীন সরকার দলের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বললেন, “আপনারা ঘোষ খাবেন কিন্তু সহনশীল মাত্রায় খাবেন।” ঘোষ খাওয়ার একটি মাত্রা আছে তা আজ প্রথম শুনলাম। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন,”শুধু অফিসাররা চোর নয়, আমরা মন্ত্রীরাও চোর, আমিও চোর।” কথাটি বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটের সাথে পুরোই মিল। তিনি সত্যি কথা বলতে গিয়ে কখনো ভাবেননি যে আমি মন্ত্রীত্বও হারাতে পারি। যখন উক্ত বক্তব্য নিয়ে আওয়ামীলীগ’র মন্ত্রীপরিষদের মধ্যে সমালোচনার জড় তখন আর তিনি এ সত্যতে অটল থাকতে পারলেন না। তখন তিনি মন্ত্রীত্ব হারানোর ভয়ে বক্তব্যকে অতীত উদাহরণ অর্থাৎ ৮ বছর আগের ঘটনার সাথে তুলনা করলেন। ক্ষমতাসীন সরকার দলের মাননীয় মন্ত্রীগণ’র শিক্ষাগত যোগ্যতা মাশাআল্লাহ কোনো দিক থেকে কম নয়। কিন্তু তাদের দুর্নীতি এতোই বেড়ে গিয়েছিল শিক্ষামন্ত্রী নিজেই তা সবার সামনে তুলে ধরলেন। কারণ সত্য কখনো চাপা থাকে না। শিক্ষামন্ত্রী বললেন ঘুষ সহনশীল মাত্রায় নিতে উনি এটা বলে শিক্ষিত শিক্ষক কর্মকর্তাদের ভুল শিক্ষা দিলেন। যার প্রকৃত উদাহরণ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে তালা দিয়ে বন্দী করে রাখে ফরম পূরণে দিগুণ টাকা আদায় করেন বলে। অধ্যক্ষকে জিজ্ঞেস করলে উত্তরে তিনি বললেন, উপর থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই শিক্ষাটা কি জঙ্গীদের পাওয়া শিক্ষার মতো না…? একজন শিক্ষামন্ত্রী হয়ে কিভাবে তিনি এই আদেশ করতে পারলেন। অবশেষে যখন আর কোনো উপায় পেলেন না বাঁচার তখন তিনি অনেক বছর।আগের বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নকল মুক্তের রূপকার, শিক্ষাব্যবস্থায় সিংহ পুরুষ, দুর্নিতি মুক্ত একজন সফল মন্ত্রী হয়েও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন’র উপর মিথ্যা অতীত হিসেবে উদ্দেশ্য করে চাপিয়ে দিলেন। মোবাইল চুরি, ভ্যানিটি ব্যাগ চুরি, ৮০ বছরের বৃদ্ধা ধর্ষন সহ হাস্যকর ৩০ টি মিথ্যা মামলায় আজ ফেরারি আসামী সাবেক এই নায়ক। বর্তমান বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ধ্বংসের রূপকার, কেন্দ্রে কেন্দ্রে নকলের রূপকার, রেকর্ড সংখ্যক প্রশ্ন ফাঁসের স্বনামধন্য মাননীয় মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ নিজ মুখে চুরির কথা স্বীকার করার পরও বহাল তবীয়তে আজও শিক্ষামন্ত্রী ! দুঃখিত আ ন ম এহসানুল হক মিলন, এ জাতি রত্ন চিনেনি কখনই, চিনেছে শুধু অপাত্রে কন্যাদান। এদেশের প্রত্যেকটি খাতে দুর্নীতির শেষ নেই। মন্ত্রীরা শিক্ষিত হয়ে তাদের অনুসারীদের আজ ভুল শিক্ষায় শিক্ষিত করছেন। অনুসারীরা কলম ছেঁড়ে বেশি সময় দুর্নীতিকে সাথে নিয়েই পার করেন।এমনকি মন্ত্রী, এমপিরাও। আওয়ামী সরকার দুর্নীতিতে বেশ ভালই উদগ্রীব হচ্ছে। একজন মন্ত্রী বিরোধিতা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারলেন না মন্ত্রীত্ব যাওয়ার ভয়ে। আজ যদি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী উনার সত্য কথাতে অটল থাকতেন তাহলে এদেশের প্রত্যেকেই উনাকে সমর্থন জানাতো শুধু আওয়ামীলীগ ব্যতীত। বর্তমান বাংলাদেশে মন্ত্রীরা শিক্ষিত হয়েও এদেশের কর্মকর্তাদের ভুল শিক্ষায় শিক্ষিত করছেন। ঘটনা পুরোই জঙ্গিদের শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

মো.নাঈমুল ইসলাম

ছাত্র ব্যক্তিত্ব লেখক, কলামিস্ট ও সংগঠক।