দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়: প্রধানমন্ত্রী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৬:২৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০১৭

দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়: প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি করবো না। অনেকে অনেক কথা বলবে, নিজের বিবেক যদি ঠিক থাকে, দেশপ্রেম থাকে, আমার দেশের ক্ষতি অন্তত আমাদের দ্বারা হবে না।

বহুল আলোচিত ভারত সফরের তিন দিন আগে বুধবার তিনি তার কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী শনিবার চার দিনের সরকারি সফরে ভারত যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। এই সফরে ভারতের সঙ্গে ৩৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বিষয়গুলো আগেই জানানোর দাবি তুলে বিএনপি বলেছে, ভারতের সঙ্গে দেশের স্বার্থ হানিকর চুক্তি হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, “দেশ বেচে দেবে…কী চুক্তি করবে…এই চুক্তি হলে মানব… ওই চুক্তি হলে মানব না…কে তারা? কী মানলো না মানলো, কার কী আসে যায়?”

১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এবং তার আগে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি নিয়ে বিএনপির সমালোচনার কথাও বলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, “এক সময় বিএনপি নেতারা এটাকে গোলামীর চুক্তি বলত। তারপর দেখা গেল, সেই চুক্তি বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ লাভবান। গোলামী না, বরং অনেক জমি অনেক কিছু বাঙালিরা পেয়েছে।”

১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত স্থলসীমান্ত চুক্তির আওতায় দুই দেশের ছিটমহল সমস্যার সমাধান ঘটেছে আওয়ামী লীগের এই আমলে।

বঙ্গবন্ধু সরকার আমলে ওই চুক্তির পর বাংলাদেশের কোনো সরকাররেই স্থল সীমান্ত সমস্যার সমাধানে অগ্রসর না হওয়ার কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

“জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকতে এই চুক্তির কথা একবারের জন্য ভারতের কাছে তুলে ধরেছে কি? সাহসই পায়নি।এরপর জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায়, সেও কোনো দিন তোলেনি।”

“তাহলে দালালীটা কে করেছে,” সমালোচকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নিজেরা করতে পারবে না। আবার অন্যরা করতে গেলে শর্ত দিবে, তা হয় না।”

ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেই মামলা করে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা তো একের পর এক অধিকার আদায় করে নিচ্ছি।”

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরামহীন কাজের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার খারাপ লাগে এই যে দিনরাত পরিশ্রম করা..সব সময় একটা চাপ মাথায় নিয়ে কাজ করা।

“প্রশংসা করবে, সাধুবাদ দিবে, উৎসাহ দিবে.. তা না করে এটা হল না কেন, ওটা হল কেন? এটা হলে ওটা হত। নানা জ্ঞান ছড়াতে থাকে। যাদের দায়িত্ব নেই তারা অনেক কিছুই বলতে পারে।”

জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের পুলিশ উন্নত দেশগুলোর চেয়ে বেশি সফলতা দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেন সরকার প্রধান।

“উন্নত দেশগুলোতেও দেখলাম না, ঘটনা ঘটার আগে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে যাচ্ছে বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, তাদেরকে তারা কিন্তু এ পর্যন্ত ধরতে পারেনি। এই দৃষ্টান্তটা আমরা বাংলাদেশে দেখাতে পেরেছি।”

অনুষ্ঠানে মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক শহীদুল ইসলামসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ৮০ লাখ ৪০ হাজার টাকার টাকার চেক প্রদান করেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল