দেহ পাবি, মন পাবি না শয়তান – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

দেহ পাবি, মন পাবি না শয়তান

প্রকাশিত: ১১:২৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২১

দেহ পাবি, মন পাবি না শয়তান

সৈয়দ বোরহান কবীর

 

আশির দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের বসন্তকাল। শাবানা-রাজ্জাক, রাজ্জাক-ববিতা, কবরী-রাজ্জাক, শাবানা-আলমগীর ইত্যাদি নানা জুটিতে সব নিটোল প্রেমের গল্প। সিনেমা মধ্যবিত্তের বড় বিনোদন। সপরিবার মানুষ সিনেমা হলে যায়। সিনেমার সেই সুসময়ে একটি ছবির দৃশ্য এত বছর পরও চোখে সেঁটে আছে। দৃশ্যটি এ রকম- ভিলেন বাহিনীর কাছে নায়ক কুপোকাত। বিধ্বস্ত, আহত নায়ককে বেঁধে রাখা হয়েছে। অসহায় নায়িকার আত্মসমর্পণ। নায়িকাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে ভিলেনের দুই চামচা। ভিলেনের চিৎকারে সিনেমা হলজুড়ে পিনপতন নীরবতা। এ সময় নায়িকা শেষ রক্ষার চেষ্টা হিসেবে বলছে ‘দেহ পাবি, কিন্তু মন পাবি না শয়তান।’ বাংলা ছায়াছবিতে নায়িকার এ কথাটি বহুল চর্চিত, আলোচিত এক সংলাপ। এত বছর পর এ সংলাপটি আবার মনে পড়ল বিএনপির নির্বাচনী রাজনীতি নিয়ে। এখন দেশজুড়ে ধাপে ধাপে পৌরসভা নির্বাচন হচ্ছে। এ নির্বাচনগুলোয় বিএনপি দল হিসেবে অংশ নিচ্ছে। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তাদের প্রার্থীরা আছেন। অর্থাৎ নির্বাচনে বিএনপির দেহ আছে যাকে আমরা বলতে পারি শারীরিক উপস্থিতি। কিন্তু নির্বাচনে মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিএনপি নেই। নির্বাচনে বিএনপির মন নেই। অধিকাংশ স্থানে বিএনপি প্রার্থীরা প্রচ- অনীহা এবং অনিচ্ছায় কিছু প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনের দিন দুপুর নাগাদ বলছে তাদের এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। নির্বাচনে নানা কারচুপির অভিযোগ করে প্রার্থী বাড়িতে গিয়ে একটা লম্বা ভাতঘুম দেন। নির্বাচন কমিশন বিএনপির দেহ পেয়েছে কিন্তু মন পায়নি। এর ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি যেমন অস্তিত্বের সংকটে পড়ছে, তেমনি গণতন্ত্র এবং নির্বাচনব্যবস্থায় একটা অদ্ভুত অনীহা তৈরি হচ্ছে। জনগণ ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মনে করছেন নির্বাচনে একবার দলীয় প্রতীক পেলেই হলো, ঠেকায় কে। সুবিধাবাদী, মতলববাজরা মনে করছে, যে কোনো উপায়ে আওয়ামী লীগের নৌকায় উঠতে পারলেই হলো। টাকা-পয়সা দিয়ে একটা মনোনয়ন বাগিয়ে নেওয়া যাবে। রাজনীতিতে একটি দুর্বৃত্তায়নের চক্র সৃষ্টি হয়েছে। সব দেখে-শুনে আমজনতা বলছে, ‘ভোট দিলেই কী না দিলেই কী, যে জেতার সে-ই জিতবে।’ এর ফলে পুরো গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থা এক গভীর সংকটে। কিন্তু এ সংকটের জন্য গণমাধ্যম ও দেশের সুশীলসমাজ নির্বাচন কমিশন এবং সরকারকে যতটা দায়ী করে ঠিক ততটাই উপেক্ষা করে বিএনপির ভূমিকাকে। অথচ একটি দেশের গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের যতটুকু ভূমিকা ঠিক ততটুকু ভূমিকা বিরোধী দলের। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বিরোধী দল বা বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা কথা বলতে কুণ্ঠাবোধ করি। আমাদের চিন্তাশীল মানুষের অধিকাংশই মনে করেন সব দায় সরকারের। কিন্তু বিএনপি আসলে এসব নির্বাচন থেকে কী অর্জন করতে চায় সে প্রশ্ন কেউ করেন না।

কদিন আগেই আওয়ামী লীগ সরকার টানা এক যুগ ক্ষমতায় থাকা উদযাপন করল। আওয়ামী লীগ যেমন এক যুগ ক্ষমতায় তেমনি বিএনপি ক্ষমতার বাইরে ১৪ বছর (এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছর ধরে)।
বাংলাদেশে প্রধান একটি রাজনৈতিক দলের ১৪ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা নতুন নয়। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের বিয়োগান্ত ঘটনার পর আওয়ামী লীগ ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল। ’৭৫-পরবর্তী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর যে বর্বরতা হয়েছে তা নজিরবিহীন। বিশ্বে গণতন্ত্রের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার আর কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা করেছেন বলে জানা নেই। ’৭৫-এ আওয়ামী লীগ কিংবা তার অঙ্গসহযোগী সংগঠনের প্রায় প্রত্যেক নেতা-কর্মীর গায়ে রক্তজবার মতো নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন আছে। সে তুলনায় বিএনপির ১৪ বছর অনেকটাই পিঠা-পুলির পিকনিকের মতো। বিএনপির বেশির ভাগ নেতাই সফেদ পাঞ্জাবি গায়ে জড়িয়ে, চকচকে গাড়িতে করে ঘুরে বেড়ান। পাঁচ তারকা হোটেলে কফিপানে স্মৃতিকাতর হন। মাঝেমধ্যে প্রেস ক্লাব কিংবা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গিয়ে রাজা-উজির মারেন। জাতিকে গণতন্ত্র শেখান। অবশ্য বিএনপির শীর্ষ নেতার বেশির ভাগই ডায়াবেটিস, হার্ট সমস্যার রোগী। তাদের মাঝেমধ্যে হালকা ব্যায়াম করতে হয়। এ জন্য সীমিত পরিসরে তারা মানববন্ধন, সমাবেশ জাতীয় কর্মসূচি করে থাকেন। কে বলবে, বিএনপি নেতারা ভালো নেই, সুখে নেই? সরকারে থাকলে নানা সমস্যা। অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। ব্যাংকে টাকা লোপাট থেকে শুরু করে বাজারের পিঁয়াজ সংকট। দুর্নীতি থেকে শুরু করে পারিবারিক সহিংসতা- সব বিষয়ে সরকারকে জবাবদিহি করতে হয়। পান থেকে চুন খসলেই সমালোচনার খই ফোটে যত্রতত্র। রিকশাচালক থেকে শুরু করে সুশীল বুদ্ধিজীবী। সবাই যেন অনুবীক্ষণ যন্ত্র নিয়ে বসে থাকেন সরকারের সমালোচনা করতে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় জনগণের সব চাহিদার কেন্দ্রে থাকে সরকার। আমার চাকরি নেই, সরকার দায়ী। আমার মেয়েটা লটারিতে ভালো স্কুলে ভর্তি হতে পারল না, সরকার দায়ী। স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়েছে, সরকার দায়ী। উন্নয়নের জন্য সংগ্রামরত দেশগুলোয় একটি সরকারকে জনপ্রিয় ও সফল হতে হলে তার হাতে ম্যাজিক বক্স থাকতে হবে। জাদুমন্ত্রের মতো এক নিমেষেই সব মুশকিল আসান করতে হবে। কিন্তু বিরোধী দলের কোনো দায় নেই। দায়িত্ব নেই। বিরোধী দলে গিয়ে একটা লম্বা শীতনিদ্রা দেবে। শিকারি শিয়ালের মতো অপেক্ষা করবে। সরকারের ওপর অসন্তুষ্ট মানুষ বিরোধী পক্ষকে বেছে নেবে। কোনো কিছুই না করে বিরোধী দল ক্ষমতায় আসবে। ’৯০ থেকে ২০০১ পর্যন্ত বাংলাদেশে এ তত্ত্বেই ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। বিএনপিও ক্ষুধার্ত শিয়ালের মতো ২০০৯ সাল থেকে অপেক্ষা করছে। অপেক্ষায় বিএনপি ক্লান্ত। কিন্তু এ রকম মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে খুব কম যারা প্রশ্ন করেন এ ১৪ বছরে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি আসলে কী দায়িত্ব পালন করেছে? এর উত্তর বিএনপি নেতাদের ঠোঁটের কোনায় সব সময় লেগেই থাকে। তারা বলেন ‘সরকার তো আমাদের দাঁড়াতেই দিচ্ছে না।’ সরকার মামলা-হামলা করে বিএনপিকে ধ্বংস করতে চায়, সরকার সবকিছু কুক্ষিগত করেছে, ইত্যাদি। কিন্তু সরকারকে পরাজিত করতে কিংবা কোণঠাসা করতে বিএনপি ১৪ বছরে কী করেছে? ১৪ বছরে বিএনপি কি তাদের ব্যক্তিগত ইস্যু ছাড়া জনগণের ইস্যু নিয়ে কোনো সিরিয়াস কর্মসূচি পালন করেছে? সরকার তো বাধা দেবেই। ’৭৫-এর পর আওয়ামী লীগকেও নির্মমভাবে নিঃশেষিত করার চেষ্টা হয়েছিল। সে বাধা অতিক্রম করে জনগণকে সংগঠিত করে এগিয়ে যাওয়াই একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান কাজ। আর এ কাজটি হয়েছে কি না কিংবা কতটা হয়েছে তা পরীক্ষার জায়গা হলো নির্বাচন। বিএনপি প্রথম সুযোগ পেল ২০১৪-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ওই নির্বাচনের আগে পাঁচটি সিটি নির্বাচনের সব কটিতে জয়ী হলো দলটি। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের আগে দলটি বলল ‘খেলব না।’ এ যেন এক শিশুতোষ বায়না। ওই নির্বাচনে না যাওয়াটা যে বিএনপির এক মহাভুল ছিল সে কথা বলে বিএনপি নেতারাও এখন মাথা কুটে মরেন। ওই নির্বাচন প্রতিহত করতে গিয়ে বিএনপি জনগণকে প্রতিপক্ষ করল। সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগের এক তান্ডব ছড়াল দেশজুড়ে। বিএনপি মনে করেছিল, ১৯৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারির পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে। বিএনপির সব নেতাই বলেছিলেন, ‘৫ জানুয়ারি (২০১৪) নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ সরকার নিজেই নিজের কবর খুঁড়েছে। এ সরকার পাঁচ দিনও টিকবে না।’ কিন্তু ২০১৪ সালের ভোটে আওয়ামী লীগ সরকার হেসেখেলে পাঁচ বছর কাটিয়ে দিল। বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে গভীর এবং নির্মোহ গবেষণা করলে দেখা যাবে নির্বাচনব্যবস্থাকে নষ্টের দ্বিতীয় বৃহত্তম পটভূমি ছিল বিএনপির ২০১৪-এর নির্বাচন বর্জন। নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রথম পটভূমিও রচিত হয়েছিল বিএনপি আমলে। ২০০১-০৬ সালে। এ সময় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকেই বিতর্কিত, প্রশ্নবিদ্ধ করে বিএনপি-জামায়াত জোট। সংবিধান সংশোধন করে বিএনপি যদি কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান করার চেষ্টা না করত, তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা হয়তো বিলীন হতো না। নির্বাচন কমিশনকে ভাঁড়ের আড্ডাখানা বানানো বিএনপির আবিষ্কার। এম এ আজিজের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনই এখন হুদা-তালুকদারদের কমিশনের পথপ্রদর্শক। বিএনপি যদি নির্বাচনে জয়ের জন্য দলীয় ক্যাডারদের নির্লজ্জ পদোন্নতি না দিত, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে না বসাত, তাহলে প্রশাসনে বর্তমান দলীয়করণের মহামারী হতো না। ২০০১-০৬ সালে ক্ষমতার চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জন্য রাষ্ট্র, প্রশাসন সবকিছু কুক্ষিগত করার যে পরিকল্পনা বিএনপি করেছিল, সে পরিকল্পনার জালেই বিএনপি এখন বন্দী।

প্রশ্ন উঠতেই পারে, বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি আসলে কী করতে পারে? রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর সহজতম উত্তর দিয়েছে, তা হলো ‘নির্বাচন’। এ কারণেই ২০১৮-এর নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণকে দেশবাসী স্বাগত জানিয়েছিল। ওই নির্বাচন নিয়ে বিএনপি এবং বিভিন্ন মহল নানা প্রশ্ন করে। বিএনপি নেতারা প্রায়ই বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে রাতের অন্ধকারে ভোট কাটা হয়েছে।’ আমরা তর্কের খাতিরে যদি ধরেই নিই যে ভোট রাতের অন্ধকারে দেওয়া হয়েছে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে বিএনপি কী করেছে? বিএনপি কেন বাধা দিতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে দুটো উদাহরণ দেওয়াটা প্রাসঙ্গিক বিবেচনা করছি। একটি ১৯৯৪ সালের। ঢাকার অখন্ড সিটি করপোরেশনের প্রথম প্রত্যক্ষ ভোটের নির্বাচন হলো। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ হানিফ, বিএনপির মির্জা আব্বাস। ভোটের আগের রাতে খবর এলো মতিঝিলের কয়েকটি কেন্দ্র বিএনপির লোকজন দখল করে রেখেছেন। আওয়ামী লীগ জনগণকে নিয়ে কেন্দ্র ঘেরাও করল। পরে পুলিশ এসে কেন্দ্রগুলোয় শান্তিপূর্ণ অবস্থা ফিরিয়ে আনল। দ্বিতীয় উদাহরণ চট্টগ্রামের সিটি নির্বাচনের, সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিউদ্দিন চৌধুরী। ভোট গণনার একপর্যায়ে রাতে খবর এলো, ভোটের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামবাসীকে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে (রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়) সমবেত হয়ে ভোট পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানালেন। লাখো মানুষ জড়ো হলো। ওই নির্বাচনে মহিউদ্দিন বিজয়ী হন। আমি যে কথাটা বলতে চাচ্ছি, জনগণ যদি উদ্বুদ্ধ হয়, জনগণ যদি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হয় তাহলে কারচুপির কোনো চেষ্টাই সফল হতে পারে না। বিএনপি নির্বাচনের আসল কাজটিই করতে পারেনি। সে কাজটি হলো জনগণকে সংঘবদ্ধ করা, ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসা। জনগণ দূরের কথা, বিএনপির কর্মীদেরও ভোট কেন্দ্রে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন দলের নেতারা। সম্প্রতি একটি পৌরসভায় দেখলাম বিএনপি প্রার্থী ৫৮ ভোট পেয়েছেন। এ তথ্য পেয়ে একটু চমকে খোঁজ নিয়ে দেখলাম ওই পৌরসভায় বিএনপির ১৩১ সদস্যের একটি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি রয়েছে। ৫১ সদস্যের ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি আছে। যুবদলের ২৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি আছে। আছে কৃষক দল, মহিলা দলসহ সাতটি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন। এ সংগঠনগুলোর কমিটির সদস্যরাই যদি বিএনপি প্রার্থীকে ভোট দেন তাহলে বিএনপির এ হাল হয় না। বাংলাদেশে নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বিএনপির ২৩ থেকে ২৭ ভাগ রিজার্ভ ভোট আছে। আওয়ামী লীগের ৩৩ থেকে ৩৭ ভাগ নিশ্চিত ভোট রয়েছে। এ ভোটাররা যে কোনো পরিস্থিতিতে তার দলের প্রার্থীকে ভোট দেন। তাহলে বিএনপির এ ভোটব্যাংকের ভোট গেল কই? অন্যান্য নির্বাচনের কথা বাদ দিলাম। সম্প্রতি নোয়াখালীর বসুরহাটের নির্বাচন দেশের অন্যতম আলোচিত বিষয়। ওই নির্বাচনকে মডেল নির্বাচন বলা হচ্ছে। সব পক্ষ বলছে, বসুরহাটের পৌরসভা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর যুগলবন্দী হাস্যোজ্জ্বল ছবিও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ওই এলাকায় বিএনপির ডাকসাইটে নেতা আছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। পুরো নোয়াখালীতেই বিএনপি শক্তিশালী। ওই বসুরহাটে বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৮ শতাংশ ভোট। তাহলে কি বিএনপি নির্বাচন নির্বাচন খেলছে? যে খেলার অনিবার্য পরিণতি হলো ভোটব্যবস্থার ওপর জনঅনাস্থা সৃষ্টি। এ জনঅনাস্থা তৈরি হলে বিরাজনৈতিকীকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। তাহলে কি বিরাজনৈতিকীকরণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্যই বিএনপি নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করার মিশনে? যাতে পেছনের দরজা দিয়ে কেউ ক্ষমতা দখল করতে পারে।

কারণ এ নির্বাচনে বিএনপি কাগজে আছে মাঠে নেই। নির্বাচনে কেন বিএনপি যাচ্ছে- এ নিয়ে কর্মীদের অসংখ্য প্রশ্ন। এসব প্রশ্নের উত্তর নেই নেতাদের কাছেও। প্রথমে মনে করা হয়েছিল সংগঠন গোছানোর কৌশল হিসেবে হয়তো বিএনপি এ নির্বাচনে যাচ্ছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে এ নির্বাচন বিএনপিকে আরও দুর্বল থেকে ক্ষীণকায় করছে। সংগঠন আরও বৈরিতায় ভরপুর হচ্ছে। এ নির্বাচন থেকে বিএনপির আপাত কোনো অর্জন নেই। এর প্রধান কারণ বিএনপি নির্বাচনটা প্রাণ-মন দিয়ে করছে না। দেহ ও মনের মিলন না হলে কিছুই অর্জন হয় না। তবে বিএনপি যদি এ নির্বাচন থেকে অন্য কিছু পেতে চায় তা আলাদা বিষয়। কিন্তু সে চেষ্টায় সফল হওয়ার মতো শক্তিও কি বিএনপির আছে?

লেখক: নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল