দোয়ারাবাজারে ক্যারাম খেলাকে ঘিরে বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

দোয়ারাবাজারে ক্যারাম খেলাকে ঘিরে বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন

প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২০

দোয়ারাবাজারে ক্যারাম খেলাকে ঘিরে বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন

 

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে শাহাব উদ্দিন (৫৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকাজুড়ে দ্বিমুখি বক্তব্য শোনা যাচ্ছে। অনেকেই বলাবলি করছেন, ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে শাহাব উদ্দিন স্ট্রোক করে মারা যান। আবার অনেকেই বলছেন, ক্যারাম খেলার ঘটনায় হাতাহাতির জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়। মঙ্গলবার রাতে সংঘটিত রহস্যজনক ওই মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিহত শাহাব উদ্দিন উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামের সাঞ্জুর আলীর পুত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজার থানার ওসি মোহাম্মদ নাজির আলম একটি মামলা তদন্ত করতে উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আমবাড়ি এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একই ইউনিয়নের আজমপুর এলাকায় পৌছামাত্র পুলিশের আগমনি টের পেয়ে বিভিন্ন স্থানে দল বেধে টাকার বাজি ধরে অংশগ্রহনকারী শামীম, মার্জান, আমিন গং খেলোয়াড়রা তাদের ক্যারমবোর্ড ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ এ সময় দু’টি ক্যারমবোর্ডসহ খেলার সারঞ্জামাদি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। তখন শামীম গংরা পুলিশকে খেলার খবর দিয়েছে বলে একই গ্রামের জামাল উদ্দিনের পুত্র আলী হোসেনকে দায়ী করে উভয় পক্ষে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত ঘটনায় বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে একই গ্রামের সাঞ্জুর আলীর পুত্র বিশিষ্ট মুরব্বি শাহাবুদ্দিনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার থানার ওসি মোহাম্মদ নাজির আলম ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দু’টি ক্যারামবোর্ড জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আজমপুর এলাকায় টাকার বাজি রেখে যুবকরা ক্যারম খেলায় মত্ত থাকে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। এনিয়ে অনেকবার হাতাতির ঘটনাও ঘটে থাকে। তবে মঙ্গলবার খেলার ঘটনাকে ঘিরে নিহত শাহাব উদ্দিন স্ট্রোক করে মারা যান বলে স্থানীয়রা জানান। তবে ছুরতহাল রিপোর্টে মৃত শাহাব উদ্দিনের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন প্রতীয়মান হয়নি। এ ব্যাপারে এখনও থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।