দোয়ারাবাজারে ভাঙ্গা ঘরে কষ্টে দিন কাটছে অসহায় ইদ্রিছ আলীর পরিবারের – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

দোয়ারাবাজারে ভাঙ্গা ঘরে কষ্টে দিন কাটছে অসহায় ইদ্রিছ আলীর পরিবারের

প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২১

দোয়ারাবাজারে ভাঙ্গা ঘরে কষ্টে দিন কাটছে অসহায় ইদ্রিছ আলীর পরিবারের

 

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধিঃ
ঘরের চালের টিনের ফোটো দিয়ে বৃষ্টির দিনে মেঝেতে পানি পড়ে। বাশ বেতের মাটির বেড়া ভেঙ্গে হেলে পড়েছে। বেড়ার ফাক ফোকর দিয়ে এখন প্রতিনিয়তই কনকনে শীতের ঠান্ডা বাতাস আসা যাওয়া করে ঘরের ভেতরে। ঘরটিও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এই ভাঙ্গা ঘরটিতে স্ত্রী সন্তানসহ পরিবারের ৫ জন সদস্য বসবাস করে আসছে। মাটিতে হাস-মুরগি গবাদিপশুসহ কোনোরকমে গাদাগাদি করে থাকছেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডের পেকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অসহায় ইদ্রিছ আলীর ও তার পরিবারের সদস্যরা। ইদ্রিছ আলীর নিজস্ব কোনো ভিটেমাটি নেই। পারিবারিক সমস্যায় মামলা করে সব খুইয়েছেন তিনি। আত্মীয় স্বজনও নেই। প্রায় ১৫ বছর ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকছেন শশুর বাড়ির উঠোনের এক চালার একটা ভাঙ্গা ঘরে। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে মাথাগোঁজার ঠাঁই একমাত্র এই ঘরটি মেরামত করতে পারছেন না তিনি। নতুন ঘর নির্মাণের সামর্থ্যও নেই তার। নিরুপায় হয়েই ভাঙ্গা ঘরে রোদ বৃষ্টি ঠান্ডায় কষ্টে দিন কাটছে এই পরিবারটির। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ায় কোনো ধরনের কাজ করতে পারেন না ইদ্রিছ আলী। টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারেননি। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এখনোব্দি অসুস্থতা নিয়ে ভাঙ্গা ঘরে বসেই বেকার সময় কাটছে তার। তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচসহ সাংসারিক খরচ চালানো ও নিজের চিকিৎসা খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। ইদ্রিছ আলী জানান, নিজেই খেতে পারিনা। সন্তানদেরকেও খাওয়াতে পারিনা। চিকিৎসা খরচ চালাবো কিভা‌বে আর ভাঙ্গা ঘর মেরামতইবা করব কিভাবে? আল্লাহ ছাড়া আমার আর কেউ নাই। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে।
তার স্ত্রী রহিমা বেগম জানান, সারাদিন পরের বাড়িতে কাজ করে যা পাই তা দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে আছি। সবসময় সন্তানদের মুখে খাবার দিতে পারিনা। ঘরে থাকার জায়গা নেই। ভাঙ্গা ঘর মেরামত করাও সম্ভব হচ্ছেননা। অন্তত মাথাগোঁজার ঠাঁই টুকু পেলে খেয়ে না খেয়ে অসুস্থ স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বাকিদিনগুলো কাটিয়ে দিতে পারতাম। ইদ্রিছ আলীর শশুর বয়োবৃদ্ধ দুলাল মিয়া জানান, মেয়ে তো আর ফেলে দিতে পারিনা। আমার বাড়িতেই ১৫ বছর ধরে আছে। আমার সামর্থ্যের যতটুকু আছে তা দিয়ে তাদের দেখাশোনা করে আসছি। নিজের আর্থিক অবস্থাও ভালোনা, বাজারে পানের ব্যবসা করে যা পাই তা দিয়ে নিজেই চলতে পারিনা। চোখের সামনে মেয়েটার পরিবারের দুরাবস্থা দেখে কষ্ট পাই। প্রতিবেশী মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, ইদ্রিছ আলী ও তার পরিবার একদম অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। সরকারের আশ্রয় প্রকল্পের মাধ্যমে ইদ্রিছ আলীর পরিবারকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দিতে পারলে অসহায় এই পরিবারটি অন্তত মাথাগোঁজার ঠাঁই পেতো। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের সকল সুহৃদয়বান ব্যক্তিদেরকে এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাই। স্থানীয় ইউপি সদস্য খোরশেদ আলাম জানান, পরিবারটির একদম গরীব ও অসহায়। আমি তাদেরকে দুইবছর মেয়াদী একটা ভিজিডি কার্ড ও একটা ফেয়ার প্রাইজের কার্ড করে দিয়েছি। এছাড়াও তাদের খোঁজখবর নিচ্ছি। সরকারি ভাবে এই অসহায় পরিবারটিকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি জানাই।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল