দোয়ারায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

দোয়ারায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৫:৪৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০২০

দোয়ারায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি :
দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন একই ইউনিয়নের ০১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আবুল হোসেন। এব্যাপারে রবিবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর থেকে লক্ষীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল হক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতি করে আসছে। এ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদে কোনো মাসিক মিটিং, ওয়ার্ড সভা না করে তার একক ক্ষমতাবলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বরাদ্দ আত্মসাৎ করে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল মাসিক মিটিং এর রেজুলেশনে পরিষদের সদস্যদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন উপায়ে স্বাক্ষর নিয়ে থাকে। এতে কোনো কোনো সদস্য প্রায় দুই বছর যাবৎ রেজুলেশনে স্বাক্ষর দেওয়া থেকে বিরত আছেন। রেজুলেশনে স্বাক্ষর না দিলে ইউপি সদস্যদেরকে বিভিন্ন ধরনের মামলায় ডুকিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যানের কর্মকান্ডে প্রায় সকল ইউপি সদস্যরা একধরনের জিম্মি রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আরো অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সদস্য আবুল হোসেন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখনোব্দি তাকে কোনো প্রকার বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অভিযোগকারী ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারছেনা ভয়ে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে সরকার থেকে অসহায় দুস্থদের জন্য ভিজিডি কার্ডের নাম চাওয়া হলে আমিরুল চেয়ারম্যান আমিসহ কয়েকজন ইউপি সদস্যকে ডেকে ১০ জন লোকের নাম দেওয়ার জন্য বলে। আমি অসহায় হতদরিদ্র ১০ জন লোকের নাম ইউপি সচিবের কাছে জমা দেই। কয়েকদিন পর জানতে পারি চেয়ারম্যান ট্যাক্স আদায়ের নামে ভিজিডির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অসহায় লোকদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় করছে। এতে আমি প্রতিবাদ করি। কারণ অতীতেও চেয়ারম্যান ট্যাক্সের নামে টাকা আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে আত্মসাৎ করেছে। এসব বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান তার একক ক্ষমতাবলে ভিজিডি ত্রাণ তালিকায় আমার দেওয়া অসহায় সাত ব্যক্তির নাম কেটে দিয়ে প্রবাসী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমি প্রশাসনের নিকট চেয়ারম্যানের এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।

অভিযোগের বিষয়ে মোবাইলে জানতে চাইলে লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল হক তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন তাই আমার প্রতিপক্ষ কিছু বিএনপি নেতাদের যোগসাজশে আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সবকিছু নিয়ম মতোই চলছে। মাসিক মিটিং ও রেজুলেশনে ওই ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ করেছে সবগুলি বানোয়াট ও মিথ্যা।