ধলাইর পারে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ : বাঁধ ভাঙ্গলে কমলগঞ্জ পৌরসভাসহ ২টি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ধলাইর পারে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ : বাঁধ ভাঙ্গলে কমলগঞ্জ পৌরসভাসহ ২টি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা

প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

ধলাইর পারে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ : বাঁধ ভাঙ্গলে কমলগঞ্জ পৌরসভাসহ ২টি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
ভারতের ত্রিপুরা থেকে কমলগঞ্জের ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা-চাম্পরায় চা বাগান এলাকা দিয়ে প্রবেশ করেছে খরস্রোতা ধলাই নদী। ৯ নং ইসলামপুর ইউনিয়ন থেকে ১ নং রহিমপুর ইউনিয়ন হয়ে মৌলভীবাজার এলাকায় মনু নদ পর্যন্ত দীর্ঘ ৫৫ কি.মি. দৈর্ঘ্যওে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের অসংখ্য স্থান ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। তবে সম্প্রতি মাধবপুর ইউনিয়নের ধলাইর পার গ্রাম এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ধলাই নদে পানি এখন বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আষাড়ি টানা বৃষ্টি শুরু হলে নদী পানি বৃদ্ধি পেলে ধলাইরপারের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বাঁধ ভাঙ্গলে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়ন, কমলগঞ্জর সদর ইউনিয়ন ও কমলগঞ্জ পৌরসভার ১৫টি গ্রাম, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সম্প্রতি মাধবপুর ইউনিয়নের ধলাইরপার গ্রাম এলাকার ধলাই প্রতিরক্ষা ভাঙ্গন এ গ্রামসহ মাধবপুর, কমলগঞ্জ ইউনিয়ন ও কমলগঞ্জ পৌরসভার ১৫টি গ্রামকে হুমকির মাঝে ফেলেছে। ধলাইর পার গ্রাম এলাকা ঘুরে দেখা যায় প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙ্গনে এ গ্রামের বেশ কিছু ফসলি জমি,গাছপালা ও বসতঘর নদ গর্ভে বিলিন হয়েছে।
সরেজমিন ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়ন থেকে মাধবপুর, আদমপুর, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন, কমলগঞ্জ পৌরসভা, মুন্সীবাজার ও রহিমপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে খরস্রোতা পাহাড়ি ধলাই নদ। এমনিতে নদীটি শান্ত থাকলেও টানা বৃষ্টিপাত হলে ও উজানে ভারতীয় পাহাড়ি এলাকা বৃষ্টিপাত হলে উজানের ঢলের পানিতে ফুলে উঠে পাগল হয়ে যায় ধলাই নদটি। তখন পানির স্রোতও থাকে প্রচুর। এ স্রোতোর তোড়ে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে শুরু হয় ভাঙ্গন। ইতিমধ্যেই ইসলামপুর ইউনিয়নের মকাবিল গ্রাম এলাকায় ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে গ্রামের অনেক বসতবাড়ি, মসজিদসহ স্থাপনা ও গ্রাম রাস্তাসহ ধানি জমি ধলাই গর্ভে বিলিন হয়েছে। ইসলামপুর ইউনিয়ন থেকে শুরু করে আদমপুর, মাধবপুর, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙ্গন চলছে।
আব্দুল হান্নানসহ কয়েকজন গ্রামেরবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখনই যদি প্রতিরক্ষাবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণস্থান মেরামত না করা হয় তাহলে আসন্ন বর্ষায় টানা বৃষ্টিপাত শুরু হলে আর উজানের ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে শুরু করলে ধলাই নদী পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। সাথে সাথে ধলাইর পারের ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে সৃষ্ট বন্যায় মাধবপুর ইউনিয়নের ধলাইর পার, ভাষানিগাঁও, ভান্ডারীগাঁও, লঙ্গুরপার গ্রাম তলিয়ে যাবে। একই সাথে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাল্লারপার গ্রাম, বটেরতল, উত্তর লঙ্গুরপার,বালিগাঁও ও পালগাঁও এবং কমলগঞ্জ পৌরসভার একাংশ ভানুগাছ বাজার, দক্ষিণ কুমড়াকাপন, উত্তর কুমড়াকাপনসহ আরও ৪টি গ্রাম তলিয়ে যাবে। বসতবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গ্রাম্য রাস্তা ঘাটের।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু বলেন, এ ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রাম এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড শিমুলতলা গ্রাম এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত করছেন। এখণ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ধলাইর পার এলাকা। তিনি মনে করেন এ স্থানের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙ্গলে তার ইউনিয়নের কম করে হলেও ৫টি গ্রামের ক্ষতি হবে।
এদিকে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, মাধবপুর ইউনিয়নের ধলাইরপার এলাকার ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙ্গলে তার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ বলেন ধলাইর পারের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙ্গলে তার পৌরসভার কমপক্ষে ৫ থেকে ৭টি গ্রামের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী মাধবপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা এলাকা ছিল বেশী ঝুঁকিপূর্ণ। সে স্থানের মেরামত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ধলাইর পার এলাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষে পরিদর্শণ করা হয়েছে। আসন্ন বর্ষার টানা বৃষ্টির কথা ভেবে সেখানের ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধ এলাকার মেরামত কাজ অচীরেই শুরু হয়ে যাবে বলেও নির্বাহী প্রকৌশলী জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল