নবজাতকের লাশ আটকে অস্বাভাবিক বিল আদায়? – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

নবজাতকের লাশ আটকে অস্বাভাবিক বিল আদায়?

প্রকাশিত: ৮:২০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০১৬

নবজাতকের লাশ আটকে অস্বাভাবিক বিল আদায়?

nobagatok২৬ আগ্রস্ট ২০১৬, শুক্রবার: সিলেট নগরের মধুশহীদ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক নবজাতককে প্রায় ৩৭ ঘণ্টা চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শিশুটি মারা যায়। এ সময়ের মধ্যে চিকিৎসা ব্যয় ধরা হয় ৪০ হাজার টাকার বেশি। পরে শিশুটির লাশ আটকে রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই বিল আদায় করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সুনামগঞ্জ শহরের আলীপাড়ার বাসিন্দা সাব্বির হোসেন চৌধুরী ও শেফালী বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান ছিল ওই নবজাতক। সুনামগঞ্জ শহরের একটি ক্লিনিকে গত সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই মেয়েশিশুর জন্ম হয়। কিন্তু তার মাথার একদিক বাঁকানো ও বড় ছিল। ‘জন্মগত এ ত্রুটির’ চিকিৎসার জন্য ক্লিনিক থেকে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিশুর বাবা সাব্বির হোসেন  বলেন, মঙ্গলবার ভোরে তাঁরা অ্যাম্বুলেন্সে সিলেট পৌঁছান। এ সময় সরকারি হাসপাতালে কাউকে পাওয়া যাবে কি না ভাবছিলেন। একপর্যায়ে পথে আল-রাইয়ান হাসপাতালে যান। সেখানে শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে সকাল ছয়টায় শিশুটিকে ভর্তি করা হয়। এরপর শিশুটিকে ‘পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে’ জানিয়ে তাঁদের অপেক্ষা করতে বলা হয়। তাঁরা মঙ্গলবার রাতে আবার জানতে চাইলে বলা হয়, ‘আইসিইউতে রাখা হয়েছে, উন্নতি না হলে পরবর্তী চিকিৎসাও করা যাবে না।’ পরে বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বলা হয়, বাচ্চাটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সাব্বির হোসেন আরও বলেন, ‘এরপর তাঁদের হাতে বিল দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ রয়েছে, ভর্তি ফি ৫০০ টাকা। কেবিন ভাড়া ৬ হাজার ৪০০ টাকা। মেডিসিন ৪ হাজার ৩৯৮ টাকা। অক্সিজেন ৫ হাজার ৫৫০ টাকা। পর্যবেক্ষণ (মনিটর) ৩ হাজার ৭০০ টাকা। ডক্টর ভিজিট ৩ হাজার ১০০ টাকা। সার্ভিস চার্জ ৯ হাজার ২৭৮ টাকা। এ ছাড়া আরও পাঁচটি খাতের ব্যয় মিলিয়ে মোট ৪০ হাজার ২০৬ টাকা।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেবিনের ভাড়া ধরা হয়েছে, অথচ আমরা পাশের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে থেকেছি। সব কটি খাতেই অস্বাভাবিক বিল ধরা হয়েছে।’
শিশুটির বাবা বলেন, ‘হাসপাতালের বিলে তিনজন শিশুবিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন উল্লেখ দেখে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। কী কী ওষুধ লেগেছে সেগুলো সম্পর্কেও জানতে চাই। একপর্যায়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আমার সন্তানের লাশ আটকে রাখেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বুধবার রাত নয়টার দিকে বিলের পুরো টাকা পরিশোধ করে লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরি।’
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা ব্যয় বিবরণী দেখে ওই নবজাতকের চিকিৎসা দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান। তবে লাশ আটকে রেখে টাকা আদায়ের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। অস্বাভাবিক চিকিৎসা ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি হাসপাতালের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
জানতে চাইলে চেয়ারম্যান নজরুল হোসাইন বলেন, ‘আমরা সবকিছুই কম রাখছি, যাচাই করে দেখুন।’
নবজাতকের এ চিকিৎসা ব্যয় অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক তুহিন বড়ুয়া। নবজাতকের জন্মগত ত্রুটির চিকিৎসা-ব্যবস্থাপত্র এবং ওই হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় বিবরণী দেখে তিনি বলেন, ‘নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। একমাত্র চিকিৎসা ছিল তাঁকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা। উন্নতি না হলে পরে জন্মগত ত্রুটির চিকিৎসার বিষয়টি আসত। তবে আমাদের হাসপাতালে এ নবজাতককে ভর্তি করা হলে সরকারি টিকিট মূল্য ছাড়া আর কোনো টাকা খরচের দরকার হতো না।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল