নির্বাচনী রোডম্যাপে সব দল – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

নির্বাচনী রোডম্যাপে সব দল

প্রকাশিত: ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০১৬

নির্বাচনী রোডম্যাপে সব দল

bangladeshj৩০ অক্টোবর ২-১৬. রবিবার: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। দুই বছরের বেশি বাকি থাকলেও আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে এখনই শুরু করেছে প্রস্তুতি। সদ্য সমাপ্ত কাউন্সিলে নেতাকর্মীদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে বিএনপির ভেতরে ভেতরেও চলছে প্রস্তুতি। বসে নেই অন্য দলগুলোও। মাঠ গোছাতে নেমে পড়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে জামায়াত।

এখনই প্রার্থীর খোঁজে আওয়ামী লীগ

এখনই প্রার্থীর খোঁজে আওয়ামী লীগবিএনপিসহ নিবন্ধনকৃত সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন চায় আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে এখন থেকেই মাঠ গোছানো শুরু করেছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। আসনভিত্তিক দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমান এমপিদের আমলনামাও পর্যালোচনা করছেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কয়েকটি সরকারি সংস্থার মাধ্যমে জরিপ চালানোর পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আগামী সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে এখন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে মাঠপর্যায়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এলাকায় জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক অবস্থা, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগাযোগ বা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন ইত্যাদি জানার চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, প্রতিটি আসনে কমপক্ষে পাঁচজনের নাম দিয়ে তালিকা তৈরি করা হবে, যার মধ্যে বর্তমান এমপির নামও থাকবে। এ ছাড়াও নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক ভোটারদের অবস্থান, মানসিকতা, দলের প্রতি সমর্থনের হার, প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহ শেষে সেগুলো বিশ্লেষণ করে দলীয় হাইকমান্ডের কাছে তুলে ধরা হবে। কেবল নিজ দলের প্রার্থীদেরই নয়, প্রতিপক্ষ দল এবং প্রার্থীদের খবরও নেওয়া হচ্ছে। দুই বছর বাকি থাকলেও এখন থেকেই নির্বাচনী রোডম্যাপে আওয়ামী লীগ।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা দুটি এজেন্ডা হাতে নিয়েছি। এক, সাম্প্রদায়িক পরাশক্তিকে পরাজিত করা। দুই, আগামী নির্বাচনের জন্য দলের প্রস্তুতি নেওয়া। সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে সংঘবদ্ধ হয়ে আমরা আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করতে চাই।

এদিকে ২৪ অক্টোবর গণভবনে জেলা নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দলীয় নেতা-কর্মীদের আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, এ জন্য ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করে ভোটারদের কাছে যেতে হবে। সরকারের উন্নয়ন কাজগুলোর কথা জনগণকে জানাতে হবে। জনগণের জন্য মন দিয়ে কাজ করতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে মন জয় করতে হবে। দলীয় হাইকমান্ডের এমন নির্দেশনার পর তৃণমূলে নেতা-কর্মীরা এখন নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এমপিরা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালিয়ে নিচ্ছেন, কেউ কেউ পুরনো কোন্দল মেটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

এদিকে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতেও উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। শাসক দলটি মনে করছে, আগামী নির্বাচনে যদি দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ না করতে পারে তাহলে ভরাডুবি হতে পারে। এ চিন্তার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই বহিষ্কৃতদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে।  রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ এখন নির্বাচনীমুখী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করছেন জনসম্পৃক্ত সরকারি কর্মসূচিগুলো। ইতিমধ্যে ১০ টাকায় চাল বিক্রি শুরু করা হয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, চার লেন সড়কসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ কাজ এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পথে দেশ অনেকদূর এগিয়েছে। উদ্বোধন হয়েছে পায়রা বন্দর। রাজধানী ঢাকাসহ সর্বত্র দৃশ্যমান উন্নয়নও সরকারকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, আমাদের নতুন কমিটির অন্যতম কাজ হচ্ছে আগামী নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দলকে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আনা। এ জন্য এখন থেকেই দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশনায় তৃণমূলকে শক্তিশালী ও বেগবান করতে সাংগঠনিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তৃণমূলে এমপি-মন্ত্রী ও নেতাদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, মানুষের মন জয় করতে এখন থেকেই মানুষের কাছে যেতে হবে। এ জন্য দলের অভ্যন্তরে যদি ভুল বোঝাবুঝি বা কোন্দল থাকে এগুলো এখন থেকেই মিটিয়ে ফেলতে হবে। আগামীতে দলকে ক্ষমতায় আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, এ মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আর শুধু দেশেই নয়, বিশ্ব মহলেও জনপ্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই নেত্রীর নেতৃত্বে ২০১৯ সালে দলকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে আমরা সাংগঠনিক কাজ শুরু করব। ইতিমধ্যে জেলা নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভানেত্রী নির্বাচনী মাঠ গোছাতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরাও সরকারের অর্জন ও উন্নয়ন তুলে ধরতে জনগণের কাছে যাব।

আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের জন্য এখনো আমাদের হাতে দুই বছর সময় আছে। বিগত সাত বছরের উন্নয়ন ও অর্জনগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সাংগঠনিক কার্যক্রম নির্ধারণ করব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, আসনভিত্তিক এমপিদের আমলনামা দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেবিলে। তিনি প্রত্যেকটি খতিয়ে দেখছেন। এখন থেকেই বিকল্প একাধিক প্রার্থীর বিষয়টি চূড়ান্ত করছেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক মুখ্য নয়, সুষ্ঠু ভোট চায় বিএনপি

তত্ত্বাবধায়ক মুখ্য নয়, সুষ্ঠু ভোট চায় বিএনপি

সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা পেলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখনই হোক তাতে অংশ নেবে বিএনপি। তবে সবার মতামতের ভিত্তিতে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন চায় দলটি। বিএনপি মনে করে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও শক্তিশালী হলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনেকাংশেই সম্ভব। তাই এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিকে মুখ্য করে দেখছে না দলটি। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের দাবিতে আগামী নভেম্বর থেকে মাঠে নামারও চিন্তা-ভাবনা করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। রবিবার জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠকও ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে বিএনপির তৃণমূল পর্যায় থেকে কেন্দ্রের প্রতি চাপ রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের নেতাদের একটি বড় অংশই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হোমওয়ার্কও শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পাওয়ার পরও অনেকেই তৃণমূলের নেতৃত্বেই থাকতে ইচ্ছা পোষণ করছেন। এর কারণ হলো—নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়া।

সূত্রে জানা যায়, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের নিশ্চয়তার দাবি নিয়ে এগুচ্ছে বিএনপি। এ জন্য তারা ফের এ ইস্যুতে মাঠে নামারও চিন্তা-ভাবনা করছে। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতেও ঘুরে-ফিরে ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের নিশ্চয়তা’র বিষয়টি উঠে আসছে।

এদিকে পরপর দুই মেয়াদে নির্বাচন বর্জন করলে নিবন্ধন বাতিল হয়ে যেতে পারে। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বিধিমালার এমন বাধ্যবাধকতার খগড়ও রয়েছে বিএনপির ওপর। ২০১১ সালে আদালতের এক রায়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর সরকার সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। তখন থেকেই বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান আগের মতোই আছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছি। এখনো আন্দোলনেই আছি। আমরা মনে করি, সুষ্ঠু ভোটের জন্য প্রয়োজন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য অন্তর্বতীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন। আমরা আশা করছি, ক্ষমতাসীন দল সবার মতামতের ভিত্তিতেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। একইভাবে দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন দেবে।

জানা যায়, নভেম্বরে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ইস্যুকে নিয়ে বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। এতে অংশ নিতে পারেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর জানুয়ারিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার চিন্তা রয়েছে দলটির হাইকমান্ডের। এর আগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৮ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও জনসভা করবে বিএনপি। সেখানেও বেগম জিয়ার বক্তৃতায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে জোরালো বক্তব্য থাকবে বলে জানা গেছে।

বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনও পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি। ওই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আন্দোলন কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। এ নিয়ে তৈরি করা হবে নতুন রোডম্যাপ। হিলারি ক্লিনটন জয়ী হলে কর্মসূচির মেজাজ ভিন্ন রকম হতে পারে। এ ছাড়া নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ব্রাসেলসে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বৈঠক রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। বৈঠকে নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি মতামত দেবে ইইউ। সুষ্ঠু নির্বাচনে ওই বৈঠকে কিছু প্রস্তাবও দেওয়া হবে। ওই বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সাহসী ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিয়োগ দিতে হবে। আমরা বলি না যে নির্বাচন কমিশনে আমাদের পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে হবে। ইসি কারও লোক হবে না। যাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, তারা কেবল নির্বাচন কমিশনের লোক হবেন। কিন্তু বিগত সময়ে এমন লোক দিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছিল, আর তারা এমন লোক নিয়োগ দিয়েছেন, যারা সরকারের কাজ ছাড়া কিছু করে না। এমন লোকেরা জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করতে পারেননি। এ রকম নির্বাচন কমিশন জনগণ চায় না।

রবিবার জোটের বৈঠক : দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও নতুন কর্মসূচি ঠিক করতে রবিবার বৈঠক করবেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের নেতারা। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুর ১২টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার উল্লিখিত বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে আগাম বৈঠক করেছেন।

মাঠ গোছাচ্ছে জাতীয় পার্টি
মাঠ গোছাচ্ছে জাতীয় পার্টি

একক নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচনী মাঠ গোছাচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গত ১ অক্টোবর সিলেটের রেজিস্ট্রি মাঠে বিভাগীয় সমাবেশের  মধ্যদিয়ে এ আয়োজন শুরু করেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগামী ২৬ নভেম্বর রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আর ৩ ডিসেম্বর বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশ সফর শেষে আগামী ১ জানুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশের ঢাক দেবেন এইচ এম এরশাদ। এদিকে পার্টির চেয়ারম্যান এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য এ বয়সেও সারা দেশ ঘুরে দলকে সংগঠিত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও সরকারে থাকা পার্টির অধিকাংশ মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা ব্যস্ত সরকারি দলের তোষণে। তাদের উপলব্ধি আগামীতেও আওয়ামী লীগের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবং আওয়ামী লীগই সরকার গঠন করবে তাই আওয়ামী লীগ যেভাবে চাইবে জাতীয় পার্টি সেভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবে।

এ প্রসঙ্গে দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আগামী নির্বাচনে কীভাবে ভালো করা যায়, কীভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় যাওয়া যায়, সেই পরিকল্পনা মাথায় নিয়েই আমরা এগোচ্ছি। আমাদের নেতা এরশাদ। তিনি এই বয়সেও একজন তরুণের মতো সারা দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। আমরাও তার সঙ্গে সারা দেশ ঘুরছি। কারণ আমাদের লক্ষ্য জাতীয় পার্টিকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত এবং শক্তিশালী করা। জনগণের রায় নিয়ে এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়া।

জানা যায়, রংপুর এবং বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশেও এইচ এম এরশাদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। পর্যায়ক্রমে সবকটি বিভাগীয় সদরে সমাবেশ করবেন। বিভাগীয় সমাবেশের পাশাপাশি আগামী ১ জানুয়ারি রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশের আয়োজন করবে জাতীয় পার্টি। লক্ষাধিক লোকসমাগমের টার্গেট নেওয়া হয়েছে ওই মহাসমাবেশে। এর আগে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী এবং মানিকগঞ্জে জনসভার আয়োজন করবে জাতীয় পার্টি। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের উদ্যোগে দুটি সমাবেশ আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টামণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যসহ অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সমন্বয়ে এরই মধ্যে ৪০টি টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের কোথায় কী অবস্থা, তা খুঁজে বের করার পাশাপাশি কী ব্যবস্থা নিয়ে দল সংগঠিত হয়—এই টিমকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব জেলায় দীর্ঘদিন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না সেগুলোতে সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কুষ্টিয়া এবং ঝালকাঠিতে সম্মেলন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এইচ এম এরশাদের উপদেষ্টা কাজী মামুন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আর বেশি দিন বাকি নেই। দেখতে দেখতেই সময় ঘনিয়ে আসবে। তাই যে সময়টুকু পাওয়া যায় তা আমরা পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাই, যাতে নির্বাচনের আগেই তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করে পুরোমাত্রায় নির্বাচনের জন্য তৈরি করা যায়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য আর তা হচ্ছে আগামী নির্বাচনে যে কোনো মূল্যে ভালো ফলাফল অর্জন করা। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক পার্টির এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান একক নির্বাচনের জন্য সারা দেশ চষছেন। আর দলের মন্ত্রী, এমপি ও শীর্ষ নেতারা ব্যস্ত সরকারি দলের দালালি করে আগামীতেও মন্ত্রী-এমপি হতে। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে যেমন পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচনের বাইরে ছিলেন। অথচ রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। আগামী নির্বাচনেও হয়তো পার্টির চেয়ারম্যান না চাইলেও দলের বিরোধী অংশটির চাপে নির্বাচনে যেতে হতে পারে।

সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় জামায়াত

সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় জামায়াত

আদালতের আদেশে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেছে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করায় মামলাটি বিচারাধীন। এ অবস্থায় আগামীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য নতুন দল গঠন করবে, না নিবন্ধিত কোনো দলের ব্যানারে অংশ নেবে— এ নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে জামায়াতে ইসলামী।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগরীর এক নেতা বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা ঘোষণা করছেন স্বল্পতম সময়ের মধ্যে জামায়াত নিষিদ্ধ করা হবে। এ ঘোষণা অসাংবিধানিক এবং বেআইনি। জামায়াত একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। জামায়াত নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।

তিনি বলেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করে জনগণের মন থেকে কখনো জামায়াতকে মুছে ফেলা যাবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের এ সহানুভূতি ও ভালোবাসাই জামায়াতকে সরকারের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগাবে।

জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রশ্নে সরকার এখন ধীরগতিতে চলছে। সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জামায়াত নিষিদ্ধের দিকে যাচ্ছে না। আইনি প্রক্রিয়ায় জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে চায়। সূত্রের দাবি, জামায়াত নিষিদ্ধ হলে নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে নিষ্ক্রিয় একটি দলকেই বেছে নেবে। নিষ্ক্রিয় নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে আবদুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদারের বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট, ব্যারিস্টার আরশ আলীর গণতন্ত্রী পার্টি, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থর বিজেপি, কর আইনজীবী জাকির হোসেনের গণফ্রন্ট, ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশীর প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল—পিডিবি, মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির নাম শোনা যাচ্ছে।

উল্লিখিত দলগুলোর একটি দলের একাধিক নেতা বলেন, জামায়াতের আদর্শের সঙ্গে এ দলগুলোর আদর্শের মিল নেই। জামায়াত অন্য দলে ভিড়লে সংশ্লিষ্ট দলের বডির সঙ্গে কীভাবে ম্যাচ করবে, দলীয় প্রধানসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন আছে। এগুলো জটিল। নিষিদ্ধসাপেক্ষে জামায়াতের আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ খুব সহজেই মিলবে না। তবে বিকল্প হিসেবে নতুন নামে নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন নেওয়ার চেষ্টা করবে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের আমলে দল নিষিদ্ধ হলে নতুন নামে নিবন্ধন পাওয়া যাবে না বলে দায়িত্বশীলরা মনে করছেন। তাই সরকারের দিকেই তাকিয়ে দলটি।