স্পোর্টস ডেস্ক :: দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় খবর সাকিবের নিষিদ্ধ হওয়া। সবকিছু ঠিক থাকলে আইসিসি মঙ্গলবারেই শাস্তির ব্যাপারে জানিয়ে দেবে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মাসের (দেড় বছর) জন্য নিষিদ্ধ করা হবে তাকে।

আবার অনেকে বলছেন ছয় মাসের জন্যও নিষিদ্ধ হতে পারেন সাকিব।

আগামী দেড় বছর অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলা রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের। আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা হওয়ার পর সাকিব মিস করবেন এর সব সিরিজ। আইসিসির এফটিপি (ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম) অনুসারে সেসব সিরিজ ও টুর্নামেন্ট কি কি?

বড় টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে সবার আগে বলা যায় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কথা। ১৮ মাসের মাঝে বাংলাদেশ নিজেদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সব ম্যাচ খেলে ফেলবে। ফলে নিষিদ্ধ হলে এখানে অংশ নিতে পারবেন না সাকিব আল হাসান।

এতে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। কারণ, টেস্টে সাকিবই বাংলাদেশ দলের সেরা পারফর্মার। তিনি না থাকলে বাংলাদেশ দল খুব ভালো করবে, এ কথা খোদ সাকিবের শত্রুও ভাবতে পারেন না।

এদিকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট টেবিলের তলানীর দল রেলিগেটেড হয়ে যাবে। টেস্টে খারাপ করে রেলিগেটেড হলে নিচের স্তরের দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে বাংলাদেশকে। স্বাভাবিকভাবেই বড় দলগুলোর সঙ্গে তুলনামূলক কম ম্যাচ পাবে টাইগাররা। ফলে অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিসিবি।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপেও খেলতে পারবেন না সাকিব। অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এশিয়া কাপেও।

ভারত সিরিজ ছাড়াও ছোটবড় মিলিয়ে ১১টি ক্রিকেট সিরিজ মিস করবেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এগুলো হলো যথাক্রমে পাকিস্তান সফর (২ টেস্ট, ৩ টি-টোয়েন্টি), জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজ (১ টেস্ট, ৫ টি-টোয়েন্টি), আয়ারল্যান্ড সফর (১ টেস্ট, ৩ ওডিআই, ৩ টি-টোয়েন্টি), অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজ (২ টেস্ট), শ্রীলংকা সফর (৩ টেস্ট), নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ (২ টেস্ট), নিউজিল্যান্ড সফর (৩ টি-টোয়েন্টি), অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজ (৩ টি-টোয়েন্টি), শ্রীলংকার বিপক্ষে হোম সিরিজ (৩ ওয়ানডে), উইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজ (৩ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে, ৩টি-টোয়েন্টি) ও নিউজিল্যান্ড সফর (৩ ওয়ানডে ও ৩ টি-টোয়েন্টি)

এসব সিরিজগুলো বাংলাদেশের র‍্যাংকিং নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই এসব সিরিজে সাকিবের না থাকা শুধু তার জন্য নয়, জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্যই আফসোসের ব্যাপার হয়ে থাকবে।

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.