নিস্তব্ধতা গোলাপগঞ্জের দর্জিপাড়ায়, নেই ব্যস্ততা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

নিস্তব্ধতা গোলাপগঞ্জের দর্জিপাড়ায়, নেই ব্যস্ততা

প্রকাশিত: ১১:১০ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২০

নিস্তব্ধতা গোলাপগঞ্জের দর্জিপাড়ায়, নেই ব্যস্ততা
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি
এবার ঈদে কাটছেনা নির্ঘুম রাত। নেই মেশিনের একটানা ছন্দময় শব্দ। অভিরাম কাজ করলেও যাদের ক্লান্তিবোধ হতো না। কাজকে তারা আনন্দের সহিত একটানা বিরামহীন করে যেতেন। তারা আজ অনেকটা অলসের মত জীবনযাপন করছেন। বলছি গোলাপগঞ্জের দর্জিপাড়ার কথা।
এবার ঈদে নিস্তব্ধতা গোলাপগঞ্জের দর্জিপাড়ায়, নেই ব্যস্ততা, কাটছেনা নির্ঘুম রাত। বেকার হয়ে পড়েছেন উপজেলার শতশত কারিগররা।
রমজানের প্রথম দিন থেকে টেইলার্সের দোকানে যে ভিড় লক্ষ করা যেত। তা এবার আর নেই। প্রতিদিন ছোট-বড় টেইলার্সের দোকানে ৫০-১০০টি কাপড় সেলাইয়ের অর্ডার আসতো। ১০-১৫ রমজান থেকে ছোট-বড় সব দোকানে অর্ডার রাখা বন্ধ করে দিতেন কারিগররা। অনেক দোকানে অর্ডার রাখলেও ঈদের পড়ে সেলাই করে দিবেন বলে রাখা হত। তারপরেও মানুষ কাপড় সেলাই করার জন্য দোকানে জমা দিয়ে যেতেন। একেকটি দোকানে ৭-৮ জন করে কারিগর কাজ করতেন। প্রতিদিন যাদের ৮০০-১০০০ হাজার টাকা ইনকাম হতো আজ তারা শূন্য।
করোনা ভাইরাসের কারণে তারা গত দুই মাস থেকে দোকান বন্ধ রেখেছেন। দোকান বন্ধ হওয়ার কারণে কর্মহীন তারা। কাজ না থাকায় অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা।
গত (১০ মে) থেকে সারা দেশে সরকারি বিধিমোতাবেক সল্প পরিসরে দোকানপাট খোলা রাখা হয়েছে। গোলাপগঞ্জে সবধরণের দোকানপাট খোলা হলেও এর ২দিন পরে একদিনে ১৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে গোলাপগঞ্জে আবারও লকডাউন ঘোষণা করা হয়। যে কাজের অর্ডার এসেছিল লকডাউনে দোকান বন্ধ হওয়ায় সেই কাজটুকুও তারা করতে পারবেন না। এতে তারা আবারও অনেকটা বিপাকে পড়ে গেছেন৷
শুক্রবার (২২মে) সরেজমিনে উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, গোলাপগঞ্জে হাতেগোনা কয়েকটি টেইলার্স এর দোকান খোলা রয়েছে।
উপজেলার বড় বড় কয়েকটি দোকান গুলোর মধ্যে পূরবী টেইলার্স, কাওছার টেইলার্স, বিশাল টেইলার্স, মা-মণি টেইলার্স, জেক্স টেক্সটাইলসহ বেশ কয়েকটি টেইলার্স এর দোকান বন্ধ রয়েছে।
উপজেলার বেশ কয়েকজন টেইলার্স দোকানের মালিক-কর্মচারীর সাথে কথা হয়। তারা জানান, সারা বছর আমাদের যা আয় হতো রমজানের ঈদে আমাদের তিনগুণ বেশি আয় হয়। আমরা সারা বছর আশায় থাকি রমজানের ঈদের জন্য।
তারা জানান, প্রথম রমজান থেকে আমাদের কাপড়ের অর্ডার আসা শুরু হয়ে যেত। ১০-১৫ রমজান থেকে অর্ডার রাখা বন্ধ করে দিতাম আমরা। প্রতিদিন ৫০-১০০ টি অর্ডার আসতো। বেশির ভাগ মহিলারদের কাপড়ের অর্ডার রাখতে হতো।
জামিল টেইলার্স এর মালিক জামিল আহমদ বলেন, লকডাউনের কারণে আমরা জনসাধারণের কথা চিন্তা করে এবার দোকান বন্ধ রেখেছি৷ প্রতি বছর রমজানের ঈদে আমাদের ভাল ইনকাম হতো। তবে এবার আর সেটি নেই। আমার দোকানের ৮ জন কারিগরি বেকার হয়ে পড়েছেন।
সাবের আহমদ বলেন, গত (১০মে) দোকান খোলায় কিছু অর্ডার এসেছিল। এর দুইদিন পর আবার লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় সেই কাজটুকু করতে পারি নি। এবার আমরা কাজ না থাকায় অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, টেইলার্সদের জন্য আলাদা কোন বরাদ্দ আসে না। যা আসে সব এক করে চেয়ারম্যানদেরকে বলা হয়ে থাকে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের তালিকা করে বিতরণ করার জন্য।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল