নেইমারকে ফাউল করা সেই ফুটবলারকে হত্যার হুমকি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

নেইমারকে ফাউল করা সেই ফুটবলারকে হত্যার হুমকি

প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০২০

নেইমারকে ফাউল করা সেই ফুটবলারকে হত্যার হুমকি

স্পোর্টস ডেস্ক ::
গত ১৩ ডিসেম্বর ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে লিঁওর বিপক্ষে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) তারকা নেইমার।

ম্যাচ হারার কারণে নয় অবশ্য। সেই ম্যাচে লিঁওর মিডফিল্ডার থিয়াগো মেন্দেজের জঘন্যতম ফাউলের শিকার হন নেইমার। ব্যথায় কাঁদতে কাঁদতে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন নেইমার।

আর ওই ঘটনার পর থেকে একের পর এক হত্যার হুমকি পাচ্ছেন থিয়াগো মেন্দেজ ও তার পরিবার।

নেইমারকে এভাবে আহত করার বিষয়টি একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না তার ভক্ত-অনুরাগীরা।

মেন্দেজও ব্রাজিলিয়ান তারকা। যে কারণে স্বদেশি সুপারস্টারকে এভাবে আঘাত করার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না ব্রাজিলের ফুটবলপ্রেমীরা।

শুধু মেরে ফেলার হুমকিই নয়; দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মেন্দেজ এবং তার পরিবারকে নানাভাবে হেয়প্রতিপন্ন করে পোস্ট দিচ্ছেন নেইমারের সমর্থকেরা।

ব্রাজিলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে মেন্দেজকে মেরে ফেলার হুমকি ও হেয়প্রতিপন্ন করা সেসব বার্তা।

‘সিনিউজ’ সংবাদমাধ্যমকে এমনই এক হুমকি পড়ে শুনিয়েছেন মেন্দেজপত্মী কেলি।

‘তোমার (কেলি) সঙ্গী যা করেছে, তাতে নেইমারের যদি কিছু হয়, জীবন দিয়ে এর মূল্য পরিশোধ করতে হবে, তুমি এবং তোমার পরিবার এক এক করে।’

উল্লেখ্য, গত রোববার রাতের ওই ম্যাচে নেইমারের ওপর চড়াও হয়ে খেলে লিঁও। সব মিলিয়ে নেইমারকে ছয়বার বিপজ্জনক ট্যাকল করে লিঁওর খেলোয়াড়রা।

বাকি সবগুলোতে উতরে গেলেও মেন্দেজের করা ট্যাকলটি ছিল সবচেয়ে বেশি জঘন্য।

ম্যাচের অন্তিম সময়ে সমতায় ফিরতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন নেইমার।

এ সময় দুজন প্রতিপক্ষকে ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে সামনে এগিয়ে যান নেইমার। তৃতীয় খেলোয়াড় মেন্দেজকেও ড্রিবলিং করার চেষ্টা করেন।

কিন্তু মেন্দেজ কোনো রকম ব্যাকরণের ধার না ধরে স্লাইডিং ট্যাকল করে নেইমারকে রুখে দেয়ার চেষ্টা করেন।

এতে মেন্দেজের দুই পায়ের সঙ্গে বাঁ পা আটকে গোড়ালিতে মারাত্মক আঘাত পান নেইমার।

পড়ে গিয়ে ব্যথায় মুখ বিকৃত করে কাঁদতে শুরু করেন। হাত বাড়িয়ে সাহায্য চান। মাঠে মেডিকেল দল ছুটে গিয়ে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ব্যথা উপশমের চেষ্টা করেন।

কিন্তু ব্যথার প্রকোপ এত ছিল যে, তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। এ সময় চোখের জলে বুক ভেসে যায় নেইমারের। কান্না লুকাতে দুই হাতে মুখও ঢেকে ফেলেন তিনি।

তবে এমন ফাউলের স্বীকার হয়েও বড় কোনো ক্ষতি হয়নি নেইমারের। স্ক্যানে পায়ের হাড়ে কোনো চিড় পাওয়া যায়নি। যে কারণে লিগ থেকেও ছিটকে যেতে হয়নি তাকে।

বিষয়টিকে সৃষ্টিকর্তার কৃপা উল্লেখ করে নেইমার বলেছেন, ‘আরও খারাপ হতে পারত, কিন্তু আরও একবার ঈশ্বর আমাকে বাজে কিছু থেকে বাঁচিয়েছেন।’

যদিও এমন সুখবরেও সন্তুষ্ট নন নেইমারভক্তরা। স্বদেশি ফুটবলারকে এভাবে ট্যাকল করা মেনে নিতে পারছে না তারা।

এদিকে মেন্দেজের এই ট্যাকলে খারাপ কিছু দেখছেন না লিওঁর কোচ গার্সিয়া।

এক সংবাদ সম্মেলনে গার্সিয়া বলেন, ‘ম্যাচের সেই মুহূর্তে থিয়াগোর চোখ ছিল বলের ওপর। নেইমারের চোট পাওয়াটা দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু থিয়াগোকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এখন আমরা খুব সহজেই অপমানসূচক জঘন্য সব কথা বলে থাকি।’