নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের প্রতি ভালোবাসায় আমি অভিভূত : মিয়া মনছফ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের প্রতি ভালোবাসায় আমি অভিভূত : মিয়া মনছফ

প্রকাশিত: ১০:২০ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের প্রতি ভালোবাসায় আমি অভিভূত : মিয়া মনছফ

নেতাকর্মীদের ভালোবাসা আমি কৃতজ্ঞ, আনন্দিত, অভিভূত।
নেতৃত্বের প্রতি মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আস্থা সংকট মোকাবেলায় শক্তি যোগায়।
————————————————-
অসচেতন মানুষকে মাস্ক পরায় উৎসাহ দিতে সফল কর্মসূচি।

আমার খুব প্রয়োজন ছিল কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মীদের ভালোবাসার ব্যারোমিটার কেমন তা জানার জন্য। দীর্ঘ দিন সংগঠনের প্রধানের দায়িত্বে থাকা এক ধরনের বিতৃষ্ণা যেমন নিজের মধ্যে কাজ করে, ঠিক তেমনি মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মীদের ও সংগঠন প্রধানের প্রতি আস্থা আছে কিনা তাও জানার প্রয়োজন আছে।
করোনা প্রাদুর্ভাবের কারনে দীর্ঘ ৩ মাস বাসায় যখন হাসফাঁস করছি, তখন এক ধরনের অস্থিরতা নিজের মধ্যে কাজ করছে। যদিও নিজের লেখালেখি ও কিশোর বাংলা’র কাজ, অগ্রজ লেখক এবং সহকর্মী লেখকদের সাথে ৩০ বছর পর যোগযোগ আমার সময় ভালোই কাটছে বাসায় বন্দি অবস্থায় ।কিন্তু প্রিয় সংগঠনের সারাদেশের নেতাকর্মীদের সাথে সাংগঠনিক যোগাযোগ না হওয়াটা আমার জন্য কতটুকু কষ্টকর, আমাকে যারা জানে তারা সহজে বুঝতে পারবেন।
যাহোক, অসচেতন জনগনকে মাস্ক পরতে উৎসাহিত করার অংশ হিসেবে ফেইসবুক প্রোফাইলে মাস্ক পরা নিজের ছবি আপলোড করার কর্মসূচি নেয়ায় আমি অনেক কিছু শিখলাম, জানলাম। যা আমাকে সাংগঠনিক কাজ করার ক্ষেত্রে সতর্ক্ বার্তা দিয়েছে। সংগঠনের নেতাকর্মীরা কে কতটুকু দায়িত্ববান, কেন্দ্রীয় নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে কতটুকু দায়বদ্ধ সবই আমার কাছে ধারনা হয়ে গেছে। গত বাংলা নববর্ষেও একই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমি ভার্সুয়াল এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন শাখা ও নেতৃবৃন্দের ভূমিকায় যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি আগামীদিনে সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে বিশেষ ভূমিকার রাখবে।
সংক্ষিপ্ত সময়ে নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করা এবং তা বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়ে যে বার্তা নেতাকর্মীরা পেয়েছে তা হলো, নেতৃত্বের প্রতি আস্থা থাকলে, আদর্শের প্রতি অবিচল থাকলে একটি সংগঠন জাতিকে অনেক কিছু দিতে পারে। শুধু তাই নয়, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা হাতিয়ারের চেয়েও শক্তিশালী। তাতে যে কোন শক্তিকে মোকাবেলা করা যায়।

কিভাবে মাস্ক কর্মসূচি সফল হলো।
——————
গত ২৩ জুন ছিল আমাদের অভিভাবক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এবছর যেহেতু করোনার কারণে কোন সমাবেশ নেই, নেই কর্মসূচি, অভিভাবক সংগঠনের প্রতিষ্ঠার দিনে কিছু একটা করার পরিকল্পনা করছিলাম। মেলার পরিচালক মহীউদ্দিন মানুর সাথে কথা বলে, অসচেতন জনগনকে সচেতন করার কর্মসূচি হিসেবে মাস্ক পরিহিত ছবি নিজ নিজ প্রোফাইলে আপলোড করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক টাইম লাইনে সবার মতামত চেয়ে একটা পোস্ট দেই গত ২২জুন দিনে। মতামতটা শুধু চাওয়া হয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে। মূহুর্তেই ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। সবাই দিন তারিখ পূর্বেই জানানোর অনুরোধ করেন।

১।
সন্ধ্যার পর ঘোষনা দেওয়া হয়। পরদিন ২৩ জুন রাত ১০টায় যার যার আইডিতে মাস্ক পরিহিত ছবি আপলোড করার দিন ও সময় নির্ধারণ করে দেয়া হলো। ব্যাপক সাড়া আসতে থাকে। জেলাগুলো তাদের স্ব স্ব জেলার থানাগুলোকেও নির্দেশ দিতে থাকে সারাদিন। যাতে কেন্দ্রীয় নির্দেশ মোতাবেক কর্মসূচি পালন করা হয়।
করোনা পরিস্থিতির পূর্বে যে কোন কর্মসূচি গ্রহন করে তা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্নভাবে শাখাগুলোকে উদ্বুদ্ধ করে থাকি। চিঠি, ফোন, মেসেজ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এইবার তা করিনি। আমার একটা পরিকল্পনা ছিল। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে কর্মসূচিটি পালন করার চেষ্টা করবো।আমি দেখতে চেয়েছি কারা এই কর্মসূচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পালন করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সেসব শাখাকেও চিহ্নিত করতে পেরেছি।যারা সাংগঠনিক কেন্দ্রীয় নির্দেশ পাওয়া সত্ত্বেও অনুধাবন করেননা।
কেন্দ্র থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘন্টা সময় দিয়ে কর্মসূচি পালন করি। কেন্দ্রের সাথে কেউ ইনবক্সে, কেউ ফোন করে কর্মসূচির ব্যাপারে খবর রেখেছেন আমি আর পরিচালক মানুর সাথে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সুনীল কুমার মালো, খুলনা মহানগর সভাপতি কবির আহমেদ, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ইকবাল হোসেন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মুনতাসীর ও সিলেটের কেন্দ্রীয় সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আবদুল লতিফ নুতন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি জাবেদ জাহাঙ্গীর টুটুলের প্রচার কাজ ছিল উল্লেখ করার মতো।

তাঁরা এই কর্মসূচির গুরুত্ব অনুধাবন করে স্ব স্ব জায়গা থেকে প্রচার চালিয়েছেন নিজস্ব ও সংগঠনের ফেইসবুক ফেইস থেকে, শাখাগুলোকে নির্দেশাবলী দিয়েছেন। অন্যান্য জেলাগুলো তাদের মতো করে প্রচার কাজ চালিয়েছেন।
২৩ জুন বেলা দুইটায় কাউন ডাউন শুরু করি। কেন্দ্রীয় পরিচালক মহীউদ্দিন মানু কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা ঘোষনা করে কর্মসূচি সফল করার জন্য যে আহবান জানিয়েছেন, তা দিয়ে শুরু হয় কাউন ডাউন (আর মাত্র ৮ ঘন্টা বাকী)। তারপর আসতে থাকে জেলা ও থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাদের নিজস্ব আইডি থেকে কর্মসূচি সফল করার স্ট্যাটাস।১ ঘন্টা পর পর কাউন ডাউন করায় ১০টায় কর্মসূচি পালনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

ঠিক রাত ১০টায় যখন ছবি আপলোড হতে থাকে নেতাকর্মীদের প্রোফাইলে, তখন নোটিফিকেশান আসা শুরু হয়। একটার একটা ছবি, কমেন্ট শেয়ার আসতে থাকায় আমি হতভম্ব। রাত ১২ খুলনার এম এম কবির আহমেদ জানতে চান, সাড়া কেমন? তার প্রশ্নের সদোত্তর দিতে পারিনি, কেননা ফেইসবুকের আমি অনেক কিছু অবগত নই।ফ্রেন্ড লিস্টে নাম না থাকলে, নাম থাকলেও যদি ফ্রেন্ডদের সাথে নিয়মিত যোগযোগ না থাকে কোন নোটেফিকেশান আসবেনা। আজ সকালে যখন প্রত্যেকের টাইম লাইন ধরে কর্মসূচির খবর নিচ্ছি তখন এই কর্মসূচির বিস্তারিত জেনে অবাকই হয়েছি। অনেক শিশু সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগঠক, মেলার অনেক নেতাকর্মী এই কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন। অনেকে এই কর্মসূচির ক্যাম্পেইন করেছেন, ধন্যবাদ জানিয়েছেন একটি ব্যতিক্রম কর্মসূচি নেবার জন্য।
ফেইসবুক যে অনেকে খুব একটা ভালোভাবে ব্যবহার করেননা তাও বোঝা গেলো। সংগঠনের আমার অনেক কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের সহকর্মী কর্মসূচি সম্পর্কে জানেইনা। তাদের সম্পৃক্ততা না দেখে আজ সকালে যখন তাদের আইডির খোজঁ খবর নেই, তখন বুঝতে পারি, এই ২৪ ঘন্টার মধ্যে অনেকে ফেইসবুক খোলেনই নি। তাহলে এই কার্য্ক্রমের সাথে কিভাবে সংযুক্ত হবে? দু’ একজন আছেন হয়তো এসব বিষয়ে উৎসাহই নাই। তবে, সংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মী তাদের যে দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন, তাতে এই আশাই করতে পারি, আমাদের সবার প্রিয় সংগঠনের যেকোন প্রয়োজনে তাদের প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে পিছপা হবেননা।

২।
কারা এই কার্য্ক্রমে সম্পৃক্ত হলেন
————————-
মাস্ক সচেতন কর্মসূচির প্রতি সমর্থ্ন জানিয়ে যে সকল লেখক সাংবাদিক একাত্মতা ঘোষনা করে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, তাঁরা হলেন, আহসান মালেক, শাহ আলম বাদশা, দেবাশীষ ভট্টাচার্য্,সৈয়দ সায়েম, অবিনাশ আচার্য্, চট্টগ্রামের মহিলা একমাত্র মহিলা প্রকাশক রেহেনা চৌধুরী ও ডেইলি অবজারভার থেকে মিজানুর রহমান মিঠু, ব্যবসায়ী শামীম আহমেদ।
যারা যারা আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন, যাদের আইডি থেকে ছবি সংগ্রহ করেছি এবং যারা আমার ইনবক্সে ছবি পাঠিয়ে তাদের অংশগ্রহন জানিয়েছেন একমাত্র তাদের সম্পর্কে আমি আমার লেখায় উল্লেখ করলাম। অনেক জেলা তাদের সদস্যদের ছবি পাঠিয়েছেন, কিন্ত নাম দেননি তাদের নাম উল্লেখ করা গেলোনা আমার লেখায়।তবে এই লেখা প্রকাশ হবার তাদের ছবে পাঠানো হলে তা সম্পৃক্ত করা হবে।
যে সকল শাখা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে শাখাগুলো হচ্ছে, চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা, নোয়াখালি, ফেনী, ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া, ঢাকা মহানগরের দু’জন সদস্য, ময়মনসিংহ, আবদুল লতিফ নতুনের নেতৃত্বে সিলেট, মৌলভীবাজার, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
এছাড়া, কর্মসূচি পালন পূর্বে তাদের অংশগ্রহনের কর্মসূচি অনেকে জানিয়েছেন, কেউ কেউ যথাযথভাবে পালন করেছেন এই জণসচেতনামূলক কর্ম্সূচি তারা হলেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার ইসমাইল হোসেন শুভ, কেন্দ্রীয় আজগর হোসেন, চট্গ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি মানিক, খুলনা সদর শাখার সভাপতি মোঃ রায়হান, সিলেটের উজ্জল চৌধুরী,কেন্দ্রীয় সদস্য বাবর, লস্কর, নোয়াখালীর সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণের আলমগীর তালুকদার, আনোয়ারা উপজেলার আরিফ মোহাম্মদ, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান নাবিল, ময়মনসিংহ মহানগরের মারুফ মুন্না, ফেনী জেলার ও এফ মামুন, বিপ্লব ভৌমিক, ঢাকা মহানগরের সুমি খান ও জয় বড়ুয়া।

আজকের প্রতিবেদনে কারো নাম ও ছবি বাদ পড়ে থাকলে এখনই পাঠান
———————————————–
গতকাল মাস্ক পরিহিত ছবি ফেইসবুক প্রোফাইলে আপলোড কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন কিন্তু আমার আজকের প্রতিবেদনে নাম ও ছবি আসেনি তাদেরকে আমার ইনবক্সে ছবি ও নাম পরিচয় দেবার পাঠানোর জন্য অনুরোধ করছি।আপনার নাম ও ছবি পেলে প্রতিবেদনে সম্পৃক্ত করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল