নেতানিয়াহু থেকে বেনেট: ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যের কি পরিবর্তন হবে? – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

নেতানিয়াহু থেকে বেনেট: ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যের কি পরিবর্তন হবে?

প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২১

নেতানিয়াহু থেকে বেনেট: ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যের কি পরিবর্তন হবে?

সিলেটের দিনকাল ডেস্ক :ইসরায়েলের দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হটানোর পর দেশটির সরকারে কোনো পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন না অধিকৃত পশ্চিমতীর ও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বসবাস করা অধিকাংশ ফিলিস্তিনি।

অতি-উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতা নাফতালি বেনেটই তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। তিনি পুরো পশ্চিমতীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করতে চাচ্ছেন। এছাড়া পশ্চিমতীরের অবৈধ অভিবাসীদের সংগঠনের প্রধান ছিলেন নাফতালি।

বুধবারের (০২ জুন) গঠিত হওয়া জোটের চুক্তি অনুসারে তিনি ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সব সংঘাতের দায় তিনি ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ইসরায়েলি চ্যানেল ১২ টিভিতে এই কট্টরপন্থী নেতা বলেন, সত্য অবশ্যই বলে দিতে হবে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের সংঘাত কেবল ভূখণ্ড নিয়ে না; কারণ ফিলিস্তিনিরা এখানে আমাদের অস্তিত্বই স্বীকার করছেন না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটিই মূল সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

তার এই বক্তব্য নিয়ে জানতে চাইলে ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থার (পিএলও) প্রতিনিধি বাসেম আল-সালহি বলেন, নেতানিয়াহুর চেয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী কোনো অংশে কম উগ্র না। তিনি নিশ্চিত করতে চাইবেন, সরকারের থেকেও কতটা কট্টর অবস্থানে থাকছেন।

বাসেম বলেন, তাদের দেশের ক্ষেত্রে তারা ভালো কিংবা মন্দ—দুটোই হতে পারেন। কিন্তু যখন ফিলিস্তিনের প্রসঙ্গ আসবে—তখন তারা সবাই খারাপ। তখন আর ভালো-মন্দ বলতে কিছু থাকবে না। তারা অধিকার ও ভূমি থেকে ফিলিস্তিনিদের বঞ্চিত করতে চাইবে।

আর গাজা উপত্যকার শাসন করা হামাস বলছে, ইসরায়েল যে-ই শাসন করুক না কেন, তাতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। পুরো ইতিহাসজুড়ে কয়েক ডজন ইসরায়েলি সরকার দেখেছে ফিলিস্তিনিরা। তাদের মধ্যে ডান, বাম ও মধ্যপন্থীও ছিল। কিন্তু ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রশ্ন আসলে তারা সবাই আমাদের শত্রু। তারা সম্প্রসারণবাদী নীতি ধারণ করেই সরকার পরিচালনা করেছে।

ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে অবৈধ বসতি স্থাপনের নীতিতে ইসরায়েলের কোনো সরকারই পরিবর্তন আনেনি।

ইসরায়েল সরকারে প্রথমবারের মতো কোনো ইসলামপন্থী দল অংশ নিয়েছে। দেশটির ২১ শতাংশ আরব সংখ্যালঘুদের ভোটে তারা নির্বাচিত। নাগরিকত্বে তারা ইসরায়েলি হলেও সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে ফিলিস্তিনি তারা।

ইসলামি দলটির নেতা মনসুর আব্বাস বলেন, আরব শহরগুলোতে সহিংস অপরাধ বন্ধ ও অবকাঠামো উন্নয়নে এক হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে জোটের চুক্তিতে।

কিন্তু শত্রুদের সঙ্গে বসে এভাবে চুক্তিতে সই করায় পশ্চিমতীর ও গাজায় তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। গাজার বাসিন্দা বাদরি করিম বলেন, তিনি একজন বিশ্বাসঘাতক। গাজায় হামলা চালাতে যখন পার্লামেন্টে সমর্থন চাওয়া হবে, তখন তিনি কী করবেন? তখন কি সমর্থন দেবেন নাকি ফিলিস্তিনিদের হত্যায় অংশ নেবেন?