নেতা এবং কর্মীর মধ্যে দূরত্বভাব ঘোচানোর চেষ্টা করবেন শফিক – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

নেতা এবং কর্মীর মধ্যে দূরত্বভাব ঘোচানোর চেষ্টা করবেন শফিক

প্রকাশিত: ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২০

নেতা এবং কর্মীর মধ্যে দূরত্বভাব ঘোচানোর চেষ্টা করবেন শফিক

সিলেটের দিনকাল ডেস্ক:
সদ্য সমাপ্ত সম্মেলন পরবর্তী সিলেট থেকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অভিষিক্ত হন শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। বর্তমানে ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিলেটের এই নেতার উপর। পরবর্তী এবং সবশেষ দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশক্রমে সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনিত হলেন সাখাওয়াত হোসেন শফিক। এই নেতার হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে সিলেট বিভাগের দায়িত্ব।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা ছাত্রলীগের সাবেক কর্মীবান্ধব এই নেতা একসময় ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি। মেধা, যোগ্যতা আর সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এক সময়ে যুক্ত হন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে। ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। এরপর দায়িত্ব পান আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহসম্পাদকের। অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে দলীয় সভানেত্রীর দৃষ্টি কাড়তে সমর্থ হন তিনি। অবশেষে দলীয় প্রধানের নির্দেশক্রমে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অভিষিক্ত হন তিনি।

এদিকে, সাংগঠনিক সম্পাদকদের বিভাগ অনুসারে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এর আগে সিলেটের দায়িত্বে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। আর গেলো সম্মেলনের আগের সম্মেলনে সিলেট থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। তিনি প্রথম দুই মেয়াদে সিলেট বিভাগের দায়িত্ব পালন করলেও তৃতীয় মেয়াদে এই নেতাকে দেওয়া হয় ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্ব।

এদিকে, দায়িত্ব পরবর্তী সিলেট বিভাগে দলীয় কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন এই নেতা। নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলীয় প্রধানের নির্দেশ ক্রমেই দায়িত্ব বণ্ঠন করা হয়েছে। তবে এখনও দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়নি। তিনি বলেন, অবশ্যই সিলেটকে নিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। আশা করছি চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাকে দায়িত্বভার অর্পন করা হবে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পেয়েই সিলেট সফর করবো। একটি বিষয়কে মাথায় রেখে শুরুতেই মাঠে কাজ করবো। সেই বিষয়টি হচ্ছে-নেতা এবং কর্মীর মধ্যে দূরত্ব দূরীকরণ। ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান নেতাদের কাছে ভিড়তে কর্মীরা ভয় পায়। বিশেষ করে তৃণমূল কর্মীদের সাথে দলীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ ঘণিষ্ঠতায় বিস্তর গ্যাপ রয়েছে। এই বিষয়টি দলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তিনি বলেন, দল গোছাতে হলে, শুরু থেকেই নেতা এবং কর্মীর মধ্যে দূরত্বভাব ঘোচানোর প্রতি জোর চেষ্টা চালাবো।

তিনি বলেন, দলে বিভাজন সৃষ্টিকারী এবং গ্রুপ সৃষ্টিকারী কাউকেই সহ্য করা হবেনা। এই রাজনৈতিক হীনমন্যতার সংস্কৃতিকে পেছনে ফেলে আওয়ামী লীগের কল্যাণ ধারার রাজনীতিতে সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ উন্নয়নের বাংলাদেশ। বর্তমান বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে দৃষ্টান্ত স্থাপনের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশের কাণ্ডারী একজনই। তিনি জাতির পিতার সুযোগ্য তনয়া উন্নয়ন বাংলাদেশের স্বপ্ন সারথী আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসে-তাদের গ্রুপ নেই। যারা দলকে ভালোবাসে তাদের দলীয় প্রধানের বাহিরে অন্য কোনো নেতা নেই। তাই, দল ও দেশের স্বার্থে বিভাজনের রাজনীতি বিসর্জন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব কাজ করে যেতে হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল