মন্ত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও সংস্কার হয়নি সিলেটের ভাঙ্গাচোরা সড়ক – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মন্ত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও সংস্কার হয়নি সিলেটের ভাঙ্গাচোরা সড়ক

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৭

মন্ত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও সংস্কার হয়নি সিলেটের ভাঙ্গাচোরা সড়ক

গত ২১ অক্টোবর সিলেটে এসে সিলেটের সকল ভাঙ্গাচোরা সড়ক ১০ দিনের মধ্যে সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর নির্দেশনা সত্ত্বেও সংস্কার হয়নি সিলেটের ভাঙ্গাচোরা সড়ক। সবগুলো সড়কই আগের মতো ভাঙ্গচোরা অবস্থায়ই রয়েছে। অথচ সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সিলেট সফরে এসে দশদিনের মধ্যে সিলেটের সবগুলো ভাঙ্গাচোরা সড়ক সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার এই নির্দেশনার দশদিন পেরিয়েছে। তবে এখনো সংস্কার হয়নি সড়ক। ফলে এখনো দূর্ভোগই নিত্যসঙ্গী সিলেটবাসীর।

সংশ্লিস্টরা বলছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ও সড়ক সংস্কার সময়সপেক্ষ হওয়ায় এখনো শেষ হয়নি কাজ। তবে সংস্কার অব্যাহত আছে।

গত ২১ অক্টোবর সিলেট সফরে এসেছিলেন ওবায়দুল কাদের। ওইদিন নগরীর রেজিস্টারি মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে তিনি সিলেটে কর্মরত সড়ক ও জনপথের সকল প্রকৌশলীদের নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন ‘আমি কোন বৃষ্টিবাদলার অজুহাত শোনতে চাই না। আগামী দশদিনের  মধ্যে আমি সিলেটের সকল রাস্তার সংস্কার কাজ শেষ দেখতে চাই।’

মন্ত্রীর এমন নির্দেশনার বারো দিন পেরিয়ে গেলেও সিলেটের কোনো সড়কের সংস্কার কাজই শেষ হয়নি এখনো। আগের মতো ভাঙ্গাচোরাই আছে সবগুলো সড়ক। কোন কোন রাস্তার সংস্কার কাজ মাঝপথেও থেমে আছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নগরীর মিরের ময়দান থেকে বাংলাদেশ বেতার, সিলেট অফিসের সামনে পর্যন্ত সুবিদ বাজার অভিমূখি রাস্তার প্রশস্তকরণ কাজ এখনো প্রায় অর্ধেক বাকি, চৌহাট্টা থেকে আম্বরখানা অভিমূখী রাস্তার এক পাশের অর্ধেক কার্পেটিং করে আর কোন কাজ করা হয়নি, চৌহাট্টা থেকে মিরবক্সটুলা রাস্তার প্রশস্তকরণ কাজ চলমান থাকলেও আগের মতোই ভাঙ্গাচোরা, কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সড়কের প্রশস্তকরণ কাজেও নেই কোন অগ্রগতি।

এছাড়া সিলেট সড়ক ও জনপথ অধিপ্তর সিলেট অফিস সূত্রে জানা গেছে, টিলাগড় থেকে শাহী ঈদগাহ পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার কাজের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে।
জানা গেছে, সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কে দুইটি প্রকল্পে ভাগ করে মোট ৪ শত ৪১ কোটি টাকা বাজেটের রাস্তার উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে গত বছরের ৫ জুন, যা শেষ হবে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে। এছাড়া সিলেট-গোলাপগঞ্জ-চারখাই-জকিগঞ্জ সড়কের উন্নয়ন কাজে প্রায় ১৭৩ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্ধ হয়েছে এবং এই কাজের জন্য দরপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। সিলেটÑভাদেশ্বহর সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য ২৭ কোটি বাজেট বরাদ্ধ করে দরপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দাউদপুর-ভাদেশ্বহর সড়ক, সিলেট তামাবিল সড়কসহ আরো কয়েকটি সড়কের সংস্কার কাজের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর নির্দশেনায় অনেকটা আশ্বস্ত হয়েছিলেন সিলেটের মানুষ। ভেবেছিলেন দীর্ঘ দিন পর ভাঙ্গাচোরা সড়কের দুর্ভোগ এবার লাঘব হবে। কিন্তু মন্ত্রীর নির্দেশনার বাস্তবে কোন প্রতিফলন না ঘটায় অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
নগরীর মিরের ময়দান এলাকার বাসিন্দা মুশাহিদুল ইসলাম বলেন, রাস্তা প্রশস্তকরণের নামে দীর্ঘ ভোগান্তি চলছে। বৃষ্টি হলে এসব রাস্তায় কাদা তৈরি হয় আর রোদ হলে ধুলার কারণে চলাচল করাটা মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ দিন থেকে মিরের ময়দানের এই রাস্তাটি এরকমই পড়ে আছে।

এব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, এগুলো আসলে সময় সাপেক্ষ কাজ। চাইলেই শেষ করা সম্ভব হয় না। তবু আমরা চেষ্টা করছি সকল রাস্তার সংস্কার কাজ ও প্রশস্তকরণ কাজ দ্রুত শেষ করার। বৃষ্টি বার বার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কাজ শুরু করলেই শুরু হয় বৃষ্টি। তাই শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে শীঘ্রই এসব রাস্তার কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এর নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত বলেন, রাস্তার সংস্কার কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া। যেসকল রাস্তায় খনাখন্দ আছে তা আমরা ঠিক করে দিয়েছি। আবার কিছু রাস্তায় বৃষ্টির কারণে কিছু গর্ত তৈরি হয়েছে। এগুলো কাজ করা হবে। তাছাড়া সিলেট-চারখাই-জকিগঞ্জ সড়ক সহ কয়েকটি রাস্তায় দরপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কিছু রাস্তার কাজের দরপত্র আহবান করা হয়েছে এগুলোরও কাজ শুরু হবে। যত দ্রুত সম্ভব সকল রাস্তার কাজ শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।