পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ; তিন বন্ধুকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ; তিন বন্ধুকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ

প্রকাশিত: ৯:৫৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ; তিন বন্ধুকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ

প্রতিবেশী তিন ভাইয়ের সাথে নৌকায় বিলে ঘুরতে গিয়েছিলো পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুল ছাত্রী। এসময় স্থানীয় কতিপয় মাদকসেবী ওই চারজনকে বিলের মধ্যে একটি পরিত্যক্ত ভিটায় নিয়ে বেদম মারধর করে। সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। ওই স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর ঘুরতে যাওয়া তিন ভাইয়ের (প্রতিবেশী) মধ্যে একজনকে দিয়ে জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করিয়ে পুনরায় তা ভিডিও করে ওই বখাটে মাদকসেবীরা। ওই ভিডিও চিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে মাদকসেবীরা স্কুল ছাত্র তিনবন্ধুর পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা চাঁদাও আদায় করে। ঘটনাটি কয়েকদিন আগে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া কান্দিরপাড় গ্রামে ঘটে। পরে বিষয়টি ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীরা চেষ্টা করে। কিন্তু ভিডিও চিত্রটি বিভিন্ন মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পরার পর খবর পেয়ে থানা পুলিশ বুধবার সকালে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে।
এলাকাবাসী জানান, ওই গ্রামের এক প্রবাসীর মেয়ে ও কান্দিরপাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী তার প্রতিবেশী নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া চাচাতো ভাই স্কুল ছাত্র লিমন সরদার, নয়ন ঘরামী ও ফেরদাউস মোল্লার সাথে চলতি মাসের ১৮ই সেপ্টেম্বর দুপুরে নৌকাযোগে রাজিহার চৌদ্দমেদা বিলে ঘুরতে যায়। বিষয়টি দেখে চেঙ্গুটিয়া গ্রামের মৃত মজিদ তালুকদারের ছেলে চিহ্নিত মাদকসেবী মুন্না তালুকদার, তার সহযোগী মাইনউদ্দিন সরদার, মিজানুর রহমান সরদার, আকবর আলী সরদার ও মিলন হাওলাদার অন্য একটি নৌকা নিয়ে বিলে গিয়ে স্কুল ছাত্রীসহ তার সাথে ঘুরতে যাওয়া তিন বন্ধুকে জোরপূর্বক বিলের মধ্যের নির্জন সেলিমের ভিটার নিয়ে যায়। স্কুল ছাত্র লিমন সরদার জানায়, তাদের চারজনকে সেলিমের ভিটায় নিয়ে মুন্না ও তার সহযোগীরা বেদম মারধর করে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে। পরে মিলনের মোবাইল ফোনে মুন্না তালুকদার ভিডিও ধারণ করে। স্কুল ছাত্রী জানায়, পরবর্তীতে মুন্না ও তার তিন সহযোগী জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ঘুরতে যাওয়া তিন বন্ধুর মধ্যে একজনকে দিয়ে তাকে (ছাত্রী) ধর্ষণ করিয়ে পুনরায় তা ভিডিও ধারণ করে। ওই স্কুল ছাত্রী আরও জানায়, তার সাথে ঘুরতে যাওয়া ওই চাচাতো ভাই ধর্ষণ করতে অস্বীকার করায় মুন্না ও তার সহযোগীরা ফের তাদের মারধর করে। স্কুল ছাত্রীর সাথে ঘুরতে যাওয়া নয়ন ঘরামী জানান, মুন্না ও তার সহযোগীরা ওই ভিডিও চিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, মাদকসেবীদের পক্ষালম্বন করে বিষয়টি ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য স্থানীয় কতিপয় জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় নুর মোহাম্মদ তালুকদার ওই স্কুল ছাত্রী ও তার সাথে ঘুরতে যাওয়া তিন বন্ধুর পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ হুমকি দিয়ে আসছে। এরই মধ্যে তিন পর্বের ওই আপত্তিকর ভিডিও মোবাইলে ভাইরাল হওয়ায় পুরো উপজেলা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। লোক লজ্জায় স্কুল ছাত্রীসহ ওই তিন বন্ধু আত্মগোপন করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ বুধবার সকালে স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করার পর অভিযুক্ত মুন্না তালুকদারসহ তার সহযোগীরা নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যায়।  হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রী বাদী হয়ে বুধবার দুপুরে থানায় মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্ত মুন্না তালুকদারসহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।