পত্রিকা হকার্সদের পাশে এক মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

পত্রিকা হকার্সদের পাশে এক মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ১২:১১ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০২০

পত্রিকা হকার্সদের পাশে এক মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা
সৈয়দ সাইফুল ইসলাম নাহেদ
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর ২৫ মার্চ থেকে সিলেটের সবকটি দৈনিক পত্রিকার প্রকাশনা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন পত্রিকা বিলির সঙ্গে জড়িত হকার্সরা। আর্থিক সংকটে পড়ে তারা অনেকটাই দিশেহারা। এ দুঃসময়ে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জিদান আল মুসা। ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকটা নীরবে তিনি তাদের বাসায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া শুরু করেছেন। সীমিত পরিসরে শুরু করলেও নিজের সাধ্যমতো এ কাজ অব্যাহত রাখতে চান তিনি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) নগরে পত্রিকা বিলি করে বেড়ানো হকার্সদের বাসায় গিয়ে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এমন উদ্যোগ প্রসঙ্গে জেদান আল মুসা বলেন, ‘ছোটবেলায় বাসায় পত্রিকা রাখা হতো। বাবার দেখে দেখে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস সে সময় থেকে। এখন সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই পত্রিকায় চোখ না বুলালে মনে হয় কি একটা বাকি রয়ে গেল। দীর্ঘ অভ্যাসের প্রথম ব্যাঘাত ঘটল করোনা পরিস্থিতির কারণে। মূলত ব্যক্তিগত এই অনূভূতির জায়গা থেকেই হকার্সদের জন্য কিছু করার তাগাদা অনুভব করছিলাম বেশ কয়েকদিন থেকে।’ যারা নিয়মিত পত্রিকা পড়ে অভ্যস্ত হকার্সরা তাদের কাছে অনেকটা আত্মীয়ের মতো মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ঝড়, বৃষ্টি, রোদ উপেক্ষা করে এ মানুষগুলো কিন্তু ঘুম ভাঙার আগেই আমাদের দোড়গোড়ায় পত্রিকা পৌঁছে দেন। একনিষ্ঠভাবে তারা এ কাজ করে যাচ্ছেন বছরের পর বছর ধরে। তাদের এই দুঃসময়ে কী আমাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত নয়?’ সবাইকে হকার্সদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি জানি এই নগরের এমন হাজার হাজার মানুষ আছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে পত্রিকা পড়ে অভ্যস্ত। তারা সবাই যদি সামান্য সামান্য করেও তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে এই মানুষগুলো দুঃসময় সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারবে।’
চাল, ডাল, আলু, তেল, পেয়াজ, লবণ, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো তিনি হকারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। জেদান আল মুসা জানিয়েছেন, ‘ব্যক্তিগত উদ্যোগে হকারদের খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতার কাজটি তিনি চালিয়ে যেতে চান যতক্ষণ পর্যন্ত তার সাধ্যের মধ্যে থাকে।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •