পরিবারকে সাথে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া হলো না খয়েরের ! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

পরিবারকে সাথে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া হলো না খয়েরের !

প্রকাশিত: ১০:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০১৭

পরিবারকে সাথে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া হলো না খয়েরের !

খায়রুল বাশার খান খয়ের (৩৪)। বিয়ানীবাজার পৌরশহরের জামান প্লাজাস্থ শখ কসমেটিক্সের সত্ত্বাধিকারী। বাড়ি উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের ছোটদেশ গ্রাম্রে পাঠান বাড়ি। বাবা বায়জিদ খান যুক্তরাষ্ট্র আর ছোট ভাই স্পেন প্রবাসী। দুই সন্তানের জনক খয়ের বাবার করা আবেদনের প্রেক্ষিতে কয়েকদিন পরেই পরিবারকে সাথে নিয়ে উন্নত জীবনের আশায় পাড়ি জমানোর কথা যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। রোড কিলিং এর শিকার হয়ে অকাল মৃত্যুতে স্বপ্নের যুক্তরাষ্ট্র যাত্রার দ্বীপ নিভিয়ে দিল।

সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বড় মেয়ে মুনতাহা খান ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রী সবার কান্নাকাটিতে জেনেছে তার বাবা আর ফিরবেন না। মন খারাপ নিয়ে কারো সাথে আর কথা বলছেনা সে। দাদীর অবিরাম ক্রন্দনে নীরবে কাঁদেও মুনতাহা। আর সাড়ে চার বছরের ঈশান খান এখোনো অপেক্ষায় তার বাবার।
নিহত খয়েরের চাচাত ভাই জানান, আগামী এক-দুই খয়ের তার বাবার আবেদনে যুক্তরাস্ট্রে পাড়ি দেয়ার কথা ছিলো। এখন তার অকাল মৃত্যুতে ট্রাম্পের অভিভাসনের কঠোর নীতিতে তার স্ত্রী-সন্তানেরা আদৌ যুক্তরাস্ট্রে যেতে পারবেন কি না জানিনা। তিনি আরো জানান, আগামীকাল তার চাচা যুক্তরাস্ট্র থেকে এবং একমাত্র ভাই স্পেন থেকে দেশে ফিরছেন।

বিয়ানীবাজারের চারটি মার্কেট নিয়ে গঠিত কসমেটিক্স সমিতির সভাপতি মোস্তাক আহমদ জানান, তারা খয়েরের শোক সন্তপ্ত পরিবারকে সান্তনা দিতে এসেছেন। বিয়ানীবাজারের সর্বস্তরের মানুষের মতো এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তারাও আজ বাকরুদ্ধ।

উল্লেখ্য, গত সোমবার বাংলাদেশের টেকনাফ ও উখিয়ায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ত্রান সহয়তা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নরসিংদীর মাধবদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় বিয়ানীবাজারের ৫ ব্যবসায়ী ও মাইক্রো চালক নিহত হয়। নিহতরা হলেন পৌর শহরের জামান প্লাজার রূপসী ফ্যাশনের মালিক মাথিউরা গ্রামের রেজাউল করিম, শখ কসমেটিকসের স্বত্তাধিকারী ছোটদেশের খায়রুল বাশার খয়ের, মতিন ক্লথ স্টোরের স্বত্তাধিকারী শ্রীধরা গ্রামের জুবের আহমদ, বিয়ানীবাজারের ব্যবসায়ী কাকরদিয়া গ্রামের ইকবাল হোসেন, কসবার বাবুল আহমদ ও মাইক্রোবাস চালক বাবুল হোসেন। তবে, জামান প্লাজার হাফিজ ক্লথ স্টোরের মালিক হাফিজ উদ্দিন ও জারী ফ্যাশনের দেলওয়ার হোসেন ভাগ্যক্রমে প্রানে বেঁচে গেলেও মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন এ দুজন।

গত মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ প্রাঙ্গনে নিহত ছয় জনের জানাজা লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়। জানাজায় উপস্থিত কেউই নিহত এই উদ্যমী তরুনদের মৃত্যুতে তাদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষাও খুঁজে পাননি। কেবল অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় জানিয়েছেন সকলেই। জানাজার নামাজ শেষে নিহতদের লাশ পৃথক ভাবে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।