পরীক্ষিত ত্যাগী নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে হবে নতুন কমিটি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

পরীক্ষিত ত্যাগী নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে হবে নতুন কমিটি

প্রকাশিত: ৩:২৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

পরীক্ষিত ত্যাগী নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে হবে নতুন কমিটি

চেষ্টা করছি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কমিটি উপহার দিতে : লুৎফুর রহমান
ত্যাগী ও দায়িত্বশীলদের মূল্যায়ন করা হয়েছে : নাসির উদ্দিন খান
আমার বিশ্বাস নতুন পুরাতনের সমন্নয়ে একটি কমিটি হবে : মিসবাহ
দলের কর্মী হয়ে থাকটাই আমার বড় পরিচয় : শফিকুর রহমান

জুনেদ আহমদ :: কেন্দ্রের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা জমা দেয়া হয়েছে। প্রথমে কমিটি জমা দেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান। এরপর জমা দেন মহানগর সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ ও জাকির হোসেন। এখন পূর্ণাঙ্গ দু’টি কমিটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন সিলেটের নেতারা। প্রস্তাবিত কমিটি জমা দেওয়ার পর সম্ভাব্য পদ প্রত্যাশীরা কেন্দ্রেও লবিং করছেন বলে জানা গেছে। ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে জেলা সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান মনোনীত হন। কেন্দ্রীয়ভাবে ১ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণসহ অন্যান্য কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন পিছিয়ে যায়। সম্প্রতি দলের হাইকমান্ড গত ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেয়। এর অংশ হিসেবে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন।দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। প্রস্তাবিত কমিটিতে সাবেক ছাত্র নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।জানা গেছে, প্রস্তাবিত কমিটিতে প্রথম সহ-সভাপতি পদে সাবেক এমপি ও জেলা সেক্রেটারি শফিকুর রহমান চৌধুরী ও সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এ দুজনের মধ্যে একজন প্রথম সহ-সভাপতি এবং অপরজন দ্বিতীয় সহ-সভাপতি হবেন। এছাড়া বাকি সহ-সভাপতি পদে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবির, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট শাহ ফরিদ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, শাহ মোশাহিদ আলী, নাজনীন হোসেন ও মুক্তিযোদ্ধা সাদ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী সিলেট বলেন, নতুন পুরাতনের সমন্নয়ে একটি ভালো এবং গ্রহনযোগ্য কমিটি আমাদের সকলের প্রত্যাশা। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী। এই দলের একজন কর্মী হয়েই থাকতেই চাই এটাই আমার বড় পরিচয়।সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, কমিটি নিয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই কারন কমিটি তো আর আমি করিনি। তবে আমার বিশ্বাস নতুন পুরাতনের সমন্নয়ে একটি কমিটি হবে। আর যদি কারো কোন অভিযোগ থাকে সেটা আমাদের দলের দায়িত্বশীলরা দেখবেন।তিন যুগ্ম সম্পাদক পদে আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা হুমায়ুন ইসলাম কামাল, অপর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আলী দুলাল এবং কবির উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান, সাইফুল আলম রুহেল ও রনজিত সরকারের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া দপ্তর সম্পাদক পদে জসলু চৌধুরী, আইন সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আজমল আলী, প্রচার সম্পাদক পদে আব্বাস উদ্দিন ও কৃষি সম্পাদক পদে ফারুক আহমদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান জানান, প্রস্তাবিত কমিটিতে আগের কমিটির ত্যাগী ও দায়িত্বশীলদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিগত কমিটির যেসব সদস্য বিদেশে অবস্থান করছেন কিংবা অসুস্থ তাদের উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটিতে প্রথমবারের মতো সহ-সভাপতি পদে একজন মহিলা রাখা হয়েছে। কয়েকটি পদে সাবেক ছাত্রনেতাদেরও রাখা হয়েছে। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে তারা কমিটি গঠনের চেষ্টা চালিয়েছেন বলে জানান তিনি।সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. লুৎফুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। এ দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ছিল, আছে এবং থাকবে। তবুও আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করছি- সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কমিটি উপহার দিতে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল