প্রকৃতি আভাস দিচ্ছে স্নিগ্ধময়ী বসন্তের – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

প্রকৃতি আভাস দিচ্ছে স্নিগ্ধময়ী বসন্তের

প্রকাশিত: ৯:৪৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০

প্রকৃতি আভাস দিচ্ছে স্নিগ্ধময়ী বসন্তের

পারভীন বেগম:
আজ ২৭ মাঘ, ১০ ফেব্রুয়ারী, সোমবার। আগামী শুক্রবার ১৪ ফেব্রুয়ারী পহেলা ফাল্গুন। শীতকে বিদায় আগমনের জানান দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্ত। আর মাত্র ৪ দিন পর পহেলা ফাল্গুন বাঙ্গালী প্রাণের উৎসব নবান্ন উৎসব। এই দিন আমাদের মুকুটহীন সম্রাট কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতি আবাস দিচ্ছে বসন্তের। কৃষকের মাঠজুড়ে ফাল্গুনে গান। বাংলা প্রকৃতি এখন স্নিগ্ধময়ী, বাসন্তী। এই জন্যই বসন্তের মাথায় স্মরণাতীতকাল ধরে ঋতুরাজ তথা ঋতুশ্রেষ্ঠর মুকুট। বাংলা ১২ মাসের ফাল্গুন-চৈত্র দুই মাস বসন্তকাল। ফাল্গুনের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় বসন্ত। ফাল্গুনের হাত ধরেই ঋতুরাজ বসন্তের আগমন। ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে শুরু হয় কৃষক-কৃষাণীর ঘরে নানা প্রস্তুতি।

পহেলা ফাল্গুন কৃষক-কৃষাণীর জন্য প্রাণের উৎসব। বাংলার একাদশতম মাস ফাল্গুনের প্রথম দিন বসন্তেরও প্রথম দিন। এবার ১৪ ফেব্রুয়ারী পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত উৎসব পালিত হবে। বাঙ্গালিদের জন্য ভীষণ উৎসব মুখোর দিন এটি। এদিকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কে স্মরণ করে ১৪ ফেব্রুয়ারী পালন করা হয় বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বাংলাদেশে বেশ অনেক বছর ধরেই তরুণ-তরুণীদের মাধ্যমে বেশ আয়োজন করেই পালন করা হয় ভালোবাসা দিবস হিসাবে। তবে এই দিবস বা উৎসবগুলো শুধুই তরুণদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, এখন প্রায় সব বয়সের মানুষই খুব আনন্দের সাথে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করে এই দিনগুলো। তবে এই বছরে উৎসবগুলোতে আসবে একটু ভিন্নতা, কারন এই বছর ভালোবাসা দিবস আর পহেলা ফাল্গুন পড়েছে এক তারিখে একি দিনে। ১৪ ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা দিবসের দিনই বাংলার ঋতুরাজ বসন্তের ১ তারিখ। তাই একি দিনে বাঙ্গালী ২টি উৎসব পালন করবেন। প্রকৃতি দুয়া বইছে ফাল্গুনের হাওয়া।

বসন্তের আগমনে কোকিল গাইছে গান। ভ্রমরও করছে খেলা। গাছে গাছে পলাশ আর শিমুলের মেলা। জানান দিচ্ছে আসছে পহেলা ফাল্গুন। ফাল্গুনের হাত ধরেই ঋতুরাজ বসন্তের আগমন। ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতির সেজেছে বর্ণিল সাজ। বসন্তের এই আগমনে প্রকৃতির সঙ্গে তরুণ হৃদয়েও লেগেছে দোলা। সব কুসংস্কারকে পেছনে ফেলে বিভেদ ভুলে নতুন কিছুর প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে আসছে বসন্ত। ফাল্গুনের মাতাল হাওয়া দোলা দিয়েছে বাংলার নিস্বর্গ প্রকৃতিতে। নতুন রূপে প্রকৃতিকে সাজাবে ঋতুরাজ বসন্ত। ফুলেল বসন্ত, মধুময় বসন্ত, যৌবনের উদ্দামতা বয়ে আনার বসন্ত আর আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও উদ্বেলতায় মনপ্রাণ কেড়ে নেবে প্রথম দিন। ফাগুনের আগুন যে মনে ধরছে তা প্রকৃতির চিত্রপটেই বোঝা যাচ্ছে। মৃদু মৃদু বাতাস শীতের রুক্ষতা দূর করে মনকে উদাস করে দিচ্ছে। বছর ঘুরে আবারও ফাল্গুনের দেখা। ষড় ঋতুর বাংলায় বসন্তের রাজত্ব একেবারে প্রকৃত সিদ্ধ।

ঋতুরাজ বসন্তের বর্ণনা কোনো রংতুলির আঁচড়ে শেষ হয় না। কোনো কবি-সাহিত্যিক বসন্তের রূপের বর্ণনায় নিজেকে তৃপ্ত করতে পারেন না। তবুও বসন্ত বন্দনায় প্রকৃতিপ্রেমীদের চেষ্টার যেন অন্ত থাকে না। ফাগুনের আগুনে, মন রাঙিয়ে বাঙালি তার দীপ্ত চেতনায় উজ্জীবিত হবে। বাঙালির ইতিহাস আবেগের। এ আবেগ যেমন মানুষে মানুষে, তেমনি মানুষের সঙ্গে প্রকৃতিরও বটে। দিনক্ষণ গুনে গুনে বসন্ত বরণের অপেক্ষায় থাকে বাঙালি। কালের পরিক্রমায় বসন্ত বরণ বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম উৎসব। আবাল-বৃদ্ধ, তরুণ-তরুণী বসন্ত উন্মাদনায় মেতে উঠবে।

শীতকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়েই বসন্ত বরণে চলছে নানা আয়োজন। শীত চলে যাচ্ছে বসন্ত আসছে ফুলের ডালা সাজিয়ে। বাসন্তী ফুলের পরশ আর সৌরভে কেটে যাবে শীতের জরা-জীর্ণতা। বসন্তকে সামনে রেখে গ্রাম বাংলায় মেলা, সার্কাসসহ নানা বাঙালি আয়োজনের সমারোহ থাকবে। ভালোবাসার মানুষরা মন রাঙাবে বাসন্তী রঙেই। শীতের সঙ্গে তুলনা করে চলে বসন্তকালের পিঠা উৎসবও। প্রাচীন আমল থেকেই বাংলার গ্রাম অঞ্চলে বসন্ত উৎসব পালিত হচ্ছে। পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত উৎসব কেবল উৎসবে মেতে ওঠার সময় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য, বাঙালিসত্তা।

সে ঐতিহ্যের ইতিহাসকে ধরে রাখতে পারলেই বসন্ত উৎসবের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্ম কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে বাঙালি চেতনার ইতিহাস। বসন্ত শুধু অশোক-পলাশ-শিমুলেই উচ্ছাসের রং ছড়ায় না, আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্ত রঙিন পুষ্পিত রক্তের স্মৃতির উপরও রং ছড়ায়। ১৯৫২ সালের আট ফাল্গুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছাস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ার যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। বাঙালির নিজস্ব সার্বজনীন প্রাণের এ উৎসব এখন গোটা বাঙালির কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। আসুন আমরা সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে বসন্তকে বরণ করি। আর মহান রাব্বুল আল-আমিনের কাছে প্রার্থনা করি আমাদের কৃষক-কৃষাণীদের জন্য যেন ভালো কিছু নিয়ে আসে পহেলা ফাল্গুন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •