পাঁচ বছরেও খোঁজ মিললো না ইলিয়াস আলীর – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

পাঁচ বছরেও খোঁজ মিললো না ইলিয়াস আলীর

প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৭

পাঁচ বছরেও খোঁজ মিললো না ইলিয়াস আলীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:: রহস্যজনকভাবে নিঁখোজ হওয়ার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলো। তবু আজ পর্যন্ত কোনো খোঁজ মিলেনি বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর। তিনি বেঁচে আছেন কী না এ ব্যাপারেও নিশ্চিত নন কেউ।

প্রথম থেকেই বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে সরকার। আর পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস, এখনো বেঁচে আছেন ইলিয়াস। একদিন ঠিকই ফিরে আসবেন।

২০১২ সালের ১৭ মে রাজধানীর বনানী থেকে রহস্যজনকভাবে নিঁখোজ হন বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম ইলিয়াস আলী। এসময় ইলিয়াস আলীর সাথে তাঁর গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন। পরে ইলিয়াস আলীর ব্যবহৃত গাড়ি সড়কের মধ্যে পাওয়া গেলেও আজ পর্যন্ত ইলিয়াস ও তাঁর গাড়ি চালকের কো্নো সন্ধান মিলেনি।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর) আসনের সাবেক সাংসদ ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার সিলেটে বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক আন্দোলন-বিক্ষোভ করা হলেও ক্রমেই তা স্তিমিত হয়ে এসেছে।

এখন ‘নিখোঁজ’ হওয়ার তারিখে মিলাদ মাহফিল, মানববন্ধন আর আলোচনা সভায়ই সীমাবদ্ধ ইলিয়াসকে ফিরে পাওয়ার আন্দোলন।

তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ দাবি করেন, ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালক আনসার আলীর সন্ধানের দাবিতে এখনো মাঠে সরব রয়েছেন তারা। এই দাবিতে আজ থেকে জেলা বিএনপি দুই দিনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় বনানীতে থাকেন। বড় ছেলে আবরার ইলিয়াস যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেন। তাহসিনা বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে আছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার। তিনি বলেন, ‘পুলিশ আসলে কোনো তদন্তই করেনি। প্রথম দুই-চার মাস আমি নিজে থেকে যোগাযোগ করেছিলাম, যদি কিছু হয়। কিন্তু এখন যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া মেলে না। তারা আসলে কোনো তদন্তই করেনি।’

ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তাঁর স্ত্রী। এ ছাড়া উচ্চ আদালতে ইলিয়াসের খোঁজ চেয়ে রিটও করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত প্রতি মাসে পুলিশকে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মতিন বলেন, ‘জিডি ধরে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে নতুন করে বলার মতো কিছুই নেই। প্রতি মাসে হাইকোর্টে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে ইলিয়াস আলী নিখোঁজ থাকায় দেশের প্রচলিত আইনে এখনো তাঁর ব্যাংক হিসাব বা অন্যান্য অস্থাবর সম্পদ বুঝে নিতে পারেনি তাঁর পরিবার। তাহসিনা জানান, ইলিয়াসের ব্যাংক হিসাবগুলো তাঁরা বুঝে নিতে পারেননি।

ইলিয়াস আলীর সঙ্গে নিখোঁজ গাড়িচালক আনসার আলীর পরিবারেও দেখা গেল একই রকম ফেরার আশা। বিশ্বনাথে ইলিয়াস আলীর গ্রামের বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে আনসার আলীর বাড়ি। মাসিক ৭ হাজার টাকা বেতনে ইলিয়াস আলীর গাড়িচালকের চাকরি করতেন আনসার। ইলিয়াসকে ‘চাচা’ বলে ডাকতেন।

আনসারের মা নূরজাহান বেগম (৬০) জানান, ইলিয়াসের স্ত্রী এখনো প্রতি মাসে তাঁদের ৭ হাজার টাকা করে পাঠান। টানাপোড়েনের সংসারে ছেলের খোঁজ না পাওয়াটা তাঁদের জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্টের।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল