পাখি শিকারে বিষটোপ: হাকালুকিতে ৫০০ হাঁসের মৃত্যু! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

পাখি শিকারে বিষটোপ: হাকালুকিতে ৫০০ হাঁসের মৃত্যু!

প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

পাখি শিকারে বিষটোপ: হাকালুকিতে ৫০০ হাঁসের মৃত্যু!

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে পরিযায়ী পাখি শিকারিদের বিষটোপে এক খামারির ৫০০ হাঁসের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় খামারের মালিক পাখি শিকারীদের অভিযুক্ত করে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। বুধবার রাতে বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াসিনুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বড়লেখা উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় পাখি শিকারিরা বিষটোপ দিয়ে রাখে। পরদিন মঙ্গলবারে ইসলামপুর গ্রামের খামারি ইসলাম উদ্দিনের খামারের প্রায় ৫০০ হাঁস বিষটোপে মারা যায়।

ইসলাম উদ্দিন জানান, ‘একটি বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আমি এই হাঁসের খামার গড়ে তুলি। হাঁসগুলো প্রতিদিন সকালে পলোভাঙ্গা বিলে ছেড়ে দেই এবং বিকালে নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার বিকালে হাঁসগুলো আনতে গিয়ে দেখি মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। মাত্র কয়েকটি হাঁস জীবিত। এ ঘটনায় আমি অজ্ঞাতনামা শিকারিদের আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, শীত মৌসুমে হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন বিলে পরিযায়ী পাখিরা আসে। এসব পাখি ধরতে শিকারিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। প্রায় সবকটি বিলে পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম‍্য দেখা যায়। শিকারিরা বিকাল বেলা হাওরের বিলগুলোতে বিষ জাতীয় দ্রব্য মিশ্রিত ধান ছিটিয়ে রাখে। রাতে পরিযায়ী পাখিরা খাবারের সন্ধানে বিলের পারে এসে বিষ মিশ্রিত ধান খেয়ে মারা যায়। পরে শিকারিরা মৃত পাখি জবাই করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে। স্থানীয়রা আরও জানান, হাওরের প্রায় সব এলাকায় শিকারীদের দৌরাত্ম রয়েছে। তবে বড়লেখা উপজেলার ইসলামপুর হাল্লা ও খুঁটাউরা এলাকায় সবচেয়ে বেশি পাখি শিকার হয়।

বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এঘটনায় দুইজন উপ-পরিদর্শক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে কতটি হাঁস মারা গেছে এখনও বিষয়টি পরিষ্কার না। তবে তদন্ত চলছে। শিকারিদের ধরে আইনের আওতায় আনা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করেছে তা কেউ দেখে নাই। এখানে প্রাণিসম্পদ বিভাগ আছে। তারা যদি শনাক্ত করে বিষটোপে হাঁস মারা গেছে, তাহলে আমরা নিশ্চিত হতে পারতাম বিষটোপেই মারা গেছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বড়লেখা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘আমি গত তিন-চার দিন ধরে ঢাকায় প্রশিক্ষণে ছিলাম। বিষয়টি আমার জানা নেই। আর খামারের মালিকও আমাকে জানাননি। এরপরও আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল