পাহাড়ে লিচুর মুকুলে চাষিদের চোখ

প্রকাশিত: ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২০

পাহাড়ে লিচুর মুকুলে চাষিদের চোখ

নিজস্ব প্রতিবেদক: 
এ ফাল্গুনে পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন স্থানে গাছের থোকায় থোকায় লিচুর মুকুল দুলছে। সবুজ পাতার ফাঁকে হলদেটে মুকুল গুচ্ছ যেন হাসছে। মুকুলে মুকুলে মৌমাছি উড়ছে। এক সময় হবিগঞ্জের পাহাড়ি এলাকায় লিচু তেমন একটা চাষ হতো না। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ শুরু হয়েছে। পাহাড়বেষ্টিত চুনারুঘাট উপজেলার রাণীগাঁও ইউনিয়নের পারকুল পাহাড়ের গ্রিনল্যান্ড পার্কে দেখা যায় এমনই চিত্র। এ পার্কে প্রায় দেড় হাজার গাছে লিচুর মুকুল দুলছে। গ্রিনল্যান্ড পার্ক এর পরিচালক কাজী মাহমুদুল হক সুজন জানান, গাছে গাছে মুকুল এসেছে। অল্প দিনেই ফল আসবে। এভাবে প্রায় ৬ বছর ধরে গাছে গাছে মুকুল আসছে। ফল পাওয়া যাচ্ছে।

এ পার্কের ন্যায় পাহাড়ি এলাকার অন্যান্য স্থানের গাছে গাছে মুকুল এসেছে লিচুর। একইভাবে বিভিন্ন গ্রামের প্রায় বাড়িতেই লিচু গাছে মুকুল দুলছে। এ অবস্থায় লিচুর বাম্পার ফলনের আশায় রঙিন স্বপ্ন দেখছেন এখানকার লিচু চাষিরা। তারা এখন গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন। মৌসুমী ফল ব্যবসায়ীরা লাভের আশায় আগেই কিনে রাখছেন লিচু গাছগুলো। শিলা বৃষ্টি বা কালবৈশাখীর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের খাঁড়ায় না পড়লে হবিগঞ্জে এবার লিচুর ব্যাপক উৎপাদন হবে। এখানে চায়না ত্রি জাতের লিচু চাষ হয়ে থাকে। বাহুবলের রশিদপুর পাহাড়ে কথা হয় লিচু চাষি সবুজ মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, ‘এবার গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। ভালো ফলন পেতে নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করছি। মুকুল আসার আগ থেকে ফল আসা পর্যন্ত সঠিক পরিচর্যা খুবই জরুরি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে অন্য বছরের তুলনায় এবার রেকর্ড পরিমাণে লিচু উৎপাদন হবে।’ ফল ব্যবসায়ী আক্কাছ মিয়া বলেন, ‘মুকুল আসার সাথে সাথেই বাগান কিনেছি। এবার ব্যাপকহারে মুকুল আসায় গত বছরের তুলনায় বেশি লাভ হবে বলে আশা করছি।’ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার জঙ্গল বহুলার মধু চাষি ছুরত আলী বলেন, ‘লিচুর মুকুলের মধু সুস্বাদু। মধু সংগ্রহের জন্য বক্স স্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি লাভবান হবো।’ তিনি বলেন, মুকুলে মৌমাছি বসলে লিচুর ফলনও ভাল হয়। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারে রেকর্ড পরিমাণে লিচু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।’