পিলখানা হত্যা মামলার আপিল শুনানি শেষ, রায় যে কোনো দিন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

পিলখানা হত্যা মামলার আপিল শুনানি শেষ, রায় যে কোনো দিন

প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০১৭

পিলখানা হত্যা মামলার আপিল শুনানি শেষ, রায় যে কোনো দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ১৫২ আসামির মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন ও আসামিদের আপিলের রায় ঘোষণা হবে যে কোনো দিন।

শুনানি শেষে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

আসামির সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য ২০১৫ সালে এই বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়। আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম আমিনুল ইসলাম; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজল।

পরে আমিনুল সাংবাদিকদের বলেন, শুনানি শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছে। পাশাপাশি আসামিদের সাজা বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রপক্ষের করা তিনটি আপিল খারিজ দিয়েছে।172355_1

পিলখানা হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৬১ জনের যাবজ্জীবন, ২৩৭ জনের ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও ১৯৪ জনের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে সাজা বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রপক্ষ আবেদনগুলো করেছিল বলে জানান আসামিপক্ষের এই আইনজীবী।আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করছি।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে রক্তাক্ত বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। ওই ঘটনার পর ৫৭টি বিদ্রোহের মামলার বিচার হয় বাহিনীর নিজস্ব আদালতে। আর হত্যাকাণ্ডের বিচার চলে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে।

ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এই হত্যা মামলার যে রায় ঘোষণা করেন, তাতে ১৫২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ মামলার সাড়ে ৮০০ আসামির মধ্যে ওই রায়ের দিন পর্যন্ত জীবিত ছিলেন ৮৪৬ জন। তাদের মধ্যে ১৬১ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

পাশাপাশি অস্ত্র লুটের দায়ে তাদের আরো ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জারিমানা, অনাদায়ে আরো দুই বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক। এছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। কারো কারো সাজার আদেশ হয় একাধিক ধারায়।

অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে ২৭৭ জনকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতরা সবাই বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সদস্য ছিলেন। যাবজ্জীন কারাদণ্ডে দণ্ডিতদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু ও আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীও রয়েছেন।

ওই রায়ের এক বছরেরও বেশি সময় পর ডেথ রেফারেন্স হাই কোর্টে আসে। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল ও জেল আপিল করে আসামিপক্ষ। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষও খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে ও সাজা বাড়াতে আপিল করে। এর মধ্যে পিন্টু ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল