পুলিশের উপর চড়াও সাংসদ সেলিম উদ্দিন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

পুলিশের উপর চড়াও সাংসদ সেলিম উদ্দিন

প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০১৭

পুলিশের উপর চড়াও সাংসদ সেলিম উদ্দিন

রাজধানীর সড়কে ভিআইপিদের উল্টোপথে গাড়ি চালানো নিয়ে কয়েকদিন ধরেই বেশ আলোচনা চলছে। নিয়মভেঙ্গে চলা ভিআইপিদের এসব গাড়ি আটকে আলোচনায় এসেছে পুলিশও। এবার উল্টোপথে চলার সময় আটকানো হলো সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) সেলিম উদ্দিনের গাড়ি।

এসময় গাড়ির ভেতরে সাংসদ নিজে বসা ছিলেন। গাড়ি আটকানোর কারণে সাংসদ সেলিম উদ্দিন সংশ্লিস্ট ট্রাফিক পুলিশের সদস্যের উপর চড়াও হন বলে ফেসবুকে চাউড় হওয়া একটি ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের গাড়ি আটকে দেওয়ার ভিডিওটি এখন ফেইসবুকে ভাইরাল।

এনিয়ে ফেসবুকে সেলিম উদ্দিনের সমালোচনা করছেন অনেকে। পাশাপাশি সাংসদের গাড়ি আটকানো পুলিশ কনস্টেবলের প্রশংসা করা হচ্ছে।

প্রথমে ফেসবুক গ্রুপ ‘ট্রাফিক অ্যালার্ট’- এ সেলিম উদ্দিনের পুলিশের উপড় চড়াও হওয়ার এই ভিডিওটি আপলোড করা হয়। ‘আনোয়ার হোসেন সজীব’ নামের এক  ফেসবুক ব্যবহারকারী এটি পোস্ট করেন।

এর ক্যাপশনে তিনি লিখেন, “আমি ও আমার এক বন্ধু বেইলি রোডের সিগন্যালে দাঁড়িয়ে চিলাম। তখন একটা প্রাডো কিংবা পাজেরো গাড়িতে করে একজন সংসদ সদস্য বেইলি রোডের একমুখী সড়কে গাড়ি ঢুকিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তখন ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য এসে গাড়ি আটকে দিলেন। গাড়ির ড্রাইভার বারবার পুলিশ সদস্যকে বলছিলেন, গাড়িটি ছেড়ে দিতে। তখন নেমে এলেন সাংসদ। সাংসদ আক্রমনাত্মক ভাষায় ট্রাফিক পুলিশকে গালিগালাজ করছিলেন। তখন আমরা মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও করতে শুরু করি। আমাদের দেখাদেখি আরো অনেকে মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও করতে শুরু করি। অবস্থা বেগতিক দেখে সাংসদ তখন গাড়িতে উঠে চলে গেলেন।”

ঢাকায় ভিআইপিদের উল্টো পথে চলা গাড়ি আটকাতে পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানের পর বেইলি রোডের এই ঘটনা ঘটল।

এ ব্যাপারে কথা বলতে সেলিম উদ্দিনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সেলিম দশম সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার হওয়ার পর থেকেই সংসদ সদস্যের তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছে। অপরদিকে গাড়ি আটকানো ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবলের প্রশংসা করা হচ্ছে।
‘আবরার হাসান’ নামের এক ফেসবুকব্যবহারকারী ট্রাফিক পুলিশের সদস্যকে ‘আয়রনম্যান’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি এ ঘটনার পর তার চাকরি থাকবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

‘রূপম আরিফিন’ নামের একজন লিখেছেন, “ এমন অনেক মানুষ ছোটখাট পোস্টে চাকরি করেও নিজেদের দায়িত্ব সততার সাথে পালন করে যাচ্ছেন।  আশা করি, তাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের দেশের আমলা থেকে শুরু করে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশকে সুন্দর করে তুলবেন।”