পুলিশের লাঠি পেটায় নার্সের গর্ভপাত ! সিলেটে বিক্ষোভ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

পুলিশের লাঠি পেটায় নার্সের গর্ভপাত ! সিলেটে বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ২, ২০১৬

পুলিশের লাঠি পেটায় নার্সের গর্ভপাত ! সিলেটে বিক্ষোভ
1_35774 copyরাজধানীর ধানমণ্ডিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাসা ঘেরাও করলে আন্দোলনরত নার্সদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। এ সময় সাদা পোশাকে একদল যুবকও নার্সদের ওপর হামলা চালায়। তারা লাঠিহাতে নার্সদের বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে। বুধবার রাতে এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক নার্স আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত ১টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় এ ঘটনায় ধানমণ্ডি থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন ছিল।
আন্দোলনরত নার্সরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জে সালমা আক্তার নামে এক নার্সের গর্ভপাত হয়েছে। ওই নার্সকে তাৎক্ষণিকভাবে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু রাতে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে এই নামে কোনো নার্সকে ভর্তি অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
এদিকে হামলার প্রতিবাদে নার্সরা রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছে।
জানা গেছে, নার্সরা বিপিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ বাতিল এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নার্স নিয়োগের দাবিতে ২৮ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করে আসছে। বুধবার সন্ধ্যায় তারা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ধানমণ্ডির বাসভবন ঘেরাও করেন। রাত ৮টার দিকে পুলিশ তাদের সরে যেতে ৩০ মিনিটের আলটিমেটাম দেয়। কিন্তু তারা সরে না যাওয়ায় পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেয়। পুলিশের সঙ্গে সাদা পোশাকে একদল যুবক অংশ নেয়। তবে নার্সরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
ধানমণ্ডি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম হোসেন যুগান্তরকে জানান, নার্সদের মন্ত্রীর বাসার সামনে থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পুলিশ জলকামান ব্যবহার ও লাঠিচার্জ করে। একজন নার্সের গর্ভপাতের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের তথ্য তার জানা নেই।
ডিএমপির ধানমণ্ডি জোনের সহকারী কমিশনার রুহুল আমীন সাগর জানান, বিক্ষোভকারীদের থামাতে গেলে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ইট নিক্ষেপ শুরু করে। আন্দোলনকারীদের ইটের আঘাতে তিনিসহ ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পুলিশি হামলায় আহত বাংলাদেশ বেসিক গ্র্যাজুয়েট নার্সেস সোসাইটির সভাপতি রাজীব কুমার বিশ্বাস যুগান্তরকে অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের লাঠির আঘাতে সালমা আক্তার (২৭) নামে এক নার্সের গর্ভপাত হয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার উত্তম বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, পাঁচ-ছয়জন নার্স প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। একজন গুরুতর অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন। গর্ভপাতের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
রাজীব কুমার বিশ্বাস আরও দাবি করেন, তিনি নিজেও ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ইবনে সিনা হাসপাতালসহ নগরীর অন্যান্য হাসপাতালে আরও বেশকিছু নার্সকে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার পর কয়েকজন নার্সকে আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
ঢাকা মেডিকেলে আহত ২৫ নার্স চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পী আক্তার, হালিমা বেগম, মনোয়ার হোসেন, সানজিদা আফরোজ, আয়েশা সিদ্দিকা, সাবিনা আক্তার, ফাতেমা আক্তার, মঞ্জু বেগম, ঝিনু কুণ্ডু, মাকিলা আক্তার, ডলি বেগম, মনিরা খাতুন। আহত ডলি বেগম জানান, তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে হঠাৎ পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। এতে তারা আহত হন। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে লতা, সাবিনা, সেলিনা ও খাদিজা নামে ৪ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়ক অতিক্রম করার সময় আন্দোলনরত নার্সদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। সেখানে পাঁচজন নার্স আহত হন। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই তারা মন্ত্রীর বাসার সামনে অবস্থান নেন। বিকাল ৫টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলসহ তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাত্রা করেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাদের দাবি বাস্তবায়নে একাধিবার প্রতিশ্রুতি দিলেও কথা রাখেননি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও তিনি রক্ষা করেননি। তাই মন্ত্রীর বাসা ঘেরাও করা হয়। কিন্তু পুলিশ তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।
ডিপ্লোমা বেকার নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারুক হোসেন যুগান্তরকে জানান, বেশিরভাগ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। পরে তারা আত্মগোপনে চলে যান। যদিও রাত ১টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় ধানমণ্ডি থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছিল।
এ হামলার প্রতিবাদে আজ সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নার্সরা কর্মবিরতি পালন করবেন বলে জানা গেছে। রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে আসা নার্সরা হাসপাতালের কর্মচারীদের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তারা জরুরি বিভাগের ফটক বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। হাসপাতালের নার্সরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় ঢামেকের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
নার্সদের ওপর হামলার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মন্ত্রীর তথ্য কর্মকর্তা পরীক্ষিত চৌধুরী ও ব্যক্তিগত সহকারী মোশাররফ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তারা বিষয়টিতে সংশ্লিষ্ট না থাকায় বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সিলেট:

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মোহাম্মদ নাসিমের বাসভবন ঘেরাওকালে পুলিশী হামলায় এক নার্সের গর্ভপাতের ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতাল ছেড়ে রাজপথে নেমে এসেছেন সিলেটের নার্সরা।

বৃহস্পতিবার তারা কর্মবিরতী পালন করছেন। সিলেটের সকল সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত নার্সরা প্রতিবাদ কর্মসূচীতে যোগ দিয়েছেন।

দুপুরে সিলেট নগরীর রিকাবিবাজার পয়েন্ট থেকে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন পথ অতিক্রম করে চৌহাট্টাস্ত কেন্দ্রী শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় তারা শ্লোগানে শ্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন। এ রিপোর্ট লেখ পর্যন্ত নার্সরা শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। পুলিশী হামলার বিচার এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না এবং কাজে ও যোগদান করবেন না বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন কয়েকজন সিনিয়র নার্স।

উলে­খ্য, বিপিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ বাতিল এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবিতে বুধবার স্বাস্থমন্ত্রীর বাসা ঘেরাও কালে নার্সদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
এ সময় একজন নার্সের গর্ভপাতের ঘটনা ঘটলে সারাদেশের নার্সদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে আজ তারা সারাদেশে কর্মবিরতী পালন করছে।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল