পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ

প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮

পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ

জেলার চাটখিল উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে এক কিশোরী (১৭)কে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার নোয়াখোলা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

ধর্ষনের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবলীগ নেতার নাম বাদ দিয়ে পুলিশ মামলা নিলেও আসামিদের গ্রেফতার করছে না।

কিশোরীর মা জানান, গত ৭ ফেব্রুয়ারি তার মেয়ে মামার বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেদিন রাতে ওই বাড়ি থেকে নোয়াখোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান শরীফ, কামাল ও জামালসহ ৬ জন পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি বাগানে নিয়ে ধর্ষণের পর তাকে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

তিনি জানান, রাতেই এঘটনায় চাটখিল থানায় অভিযোগ দিতে গিলে প্রথমে অভিযোগ নিতে অপরাগতা প্রকাশ করে পুলিশ।

কিশোরীর মা জানান, পরে যুবলীগ নেতা শরীফের নাম বাদ দিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি দু’জনের নাম উল্লেখ করে ৬জনের বিরুদ্ধে মামলা নেয় পুলিশ।

তিনি জানান, মামলা হওয়ার ১০/১২ দিন পার হলে পুলিশ কেউকে গ্রেফতার করেনি। বরং মামলা করার কারণে মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাড়িতে ৫-৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশকে জানালে রাতে তারা ঘটনাস্থলে আসে।

কিশোরীর বাবা জানান, ধর্ষণের ঘটনা কারও কাছে বললে মুজিবুর রহমান শরীফসহ আসামিরা তাদের সবাইকে মেরে ফেলবে এবং তার মেয়েকে জবাই করে হত্যা করবে হুমকি দিচ্ছে।

এব্যাপারে নোয়াখোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান শরীফ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি চলন্ত মোটরসাইকেলে রয়েছি। নেমে ফোন দিচ্ছি।

কিন্তু তিনি আর ফোন দেননি। পরে তার মোবাইল ফোনে(০১৭০৬৫২৯২৩৭) একাধিক বার রিং দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

চাটখিল উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও পৌরসভা মেয়র মোহাম্মদ উল্যাহ পাটাওয়ারী বলেন, যুবলীগের কেউ জড়িত থাকলেও তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মহি উদ্দিন আজিম জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

তিনি জানান, মেডিকেল রিপোর্ট গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আনোয়ার জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি কিশোরীর মা বাদী হয়ে দু’জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন।

তিনি জানান, মামলা দায়েরের পর নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়। তদন্ত করে আসামিদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

নোয়াখালী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একে এম জহিরুল ইসলাম কিশোরী ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আজ সকালে ভিকটিমের পরিবারকে অফিসে ডাকানো হয়েছে। আসামিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে আশস্ত করা হয় ভিকটিমের পরিবারকে।