“পূর্বের এবং বর্তমান ছাত্ররাজনীতি: ঐক্য ভেঙ্গে গিয়ে প্রতিহিংসায় রূপ নিয়েছে”-মো.নাঈমুল ইসলাম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

“পূর্বের এবং বর্তমান ছাত্ররাজনীতি: ঐক্য ভেঙ্গে গিয়ে প্রতিহিংসায় রূপ নিয়েছে”-মো.নাঈমুল ইসলাম

প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৭

“পূর্বের এবং বর্তমান ছাত্ররাজনীতি: ঐক্য ভেঙ্গে গিয়ে প্রতিহিংসায় রূপ নিয়েছে”-মো.নাঈমুল ইসলাম

বাংলাদেশ যে দেশটির সাথে রাজনীতি ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। রাজনীতিতে শীর্ষ একটি দেশ। সেই পূর্ব পাকিস্তান সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত রাজনীতি জড়িয়েই আছে। আর সেই রাজনীতিতে জীবনকে বড় এবং আদর্শবান রাজনীতিবীদ হিসেবে গড়ে তুলতে ছাত্ররাজনীতি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পিছনে ছাত্রসংগঠন গুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের ঐক্যতা, সাম্যবাদী মনোভাব বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলে। ছাত্ররাজনীতি’র কথা বলতে গেলে যে মহান ব্যক্তিদের কথা স্মরণ করতে হয় তারা হলেন: শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউল নাম না জানা আরো অনেকে আছেন। তাদের ছাত্ররাজনীতি ছিল ঐক্যের, সাম্যের। তাদের ছাত্ররাজনীতি এরকম ছিল তারা কলেজে একে অপরের বিরুদ্ধে মিছিল মিটিং সমাবেশ করলেও সন্ধ্যার পর দেখা যেতো তাদের সবাইকে একসাথে। তারা তাদের বিরুদ্ধে মিছিল মিটিং সমাবেশ করলেও সেই বিরোধীতা কখনো অভন্তরীণ কোন্দলে রূপ নেয়নি। আর যদিও রূপ নিতো তারা সেটিকে কারোর প্রাণ বিসর্জণ দিয়ে নয় নিজেদের মধ্যে শেষ করে নিতো, কিন্তু কখনো তারা খুন হত্যা এসব চিন্তা মাথায় নিয়ে আসতো না। পূর্বের ছাত্রদের রাজনীতিতে সঠিক নেতৃত্ব দেয়া হয়েছে বলেই তারা পথভ্রষ্ট হয়নি। তারা যার হাত ধরে রাজনীতি করেছে সে কখনো তাদেরকে একা বিপদের সম্মুখীন করে নিজ স্বার্থ হাসিল করে নি। তারা জানতো যে প্রত্যেকটি প্রাণের গুরুত্ব রয়েছে। বর্তমান ছাত্ররাজনীতি যাকে সন্ত্রাসী, চাদাঁবাজি, দুর্নীতি, ছিনতাই, হত্যা ইত্যাদিও বলা যায়। অছাত্ররাও ছাত্রের জাল সার্টিফিকেট বানিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে নেমে যায়। তারা যে যে গ্রুপের সাথে ছাত্ররাজনীতি করে সেই গ্রুপের লিডারের জন্য নিজের প্রাণ পর্যন্তও ত্যাগ করে ফেলে। কিন্তু অবশেষে তাকে তার বদলে পেতে হয় শুধু স্বার্থপরতা এবং ছাত্ররাজনীতিতে অস্বীকৃতি। তারা নিজের পরিবারকে ভুলে যায় সেই সব গ্রুপের লিডারের জন্য কিন্তু কোনো বিশাল ঘটনা গঠে গেলে গ্রুপ লিডার ভুলে যায় তাকে। আর এইসব তরুণ ছাত্ররা যারা রাজনীতিতে প্রবেশ করে তাদেরকে ছাত্ররাজনীতি’র ভুল এবং অন্যায় শিক্ষা দেয়া হয়। তারা তাদেরকে ছাত্ররাজনীতি মানে খুন হত্যা ছিনতাই চাদাঁবাজি এরকম শিক্ষা দেয় যেমনটি জঙ্গিরা করে জিহাদের ভুল শিক্ষা দেয় ছোট ছোট শিশুদের। আর এই ছাত্ররা ভুল শিক্ষা পেয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে নিজেদের মধ্যেই কোন্দল সৃষ্টি করে নেয় ছিনতাই চাদাঁবাজি করার জন্য। যখন দেখে তারা সফল হতে পারছে না তখন একে অপরকে হত্যা পর্যন্ত করার চিন্তা করে ফেলে এবং করেও ফেলে। তাদের নিজেদের মধ্যেই প্রতিহিংসা’র সৃষ্টি করে ফেলে। তারা জড়ো হয়ে একসাথে তাদের মতোই অন্য ছাত্রকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে অন্যরাও ঠিক এমনি চিন্তা করে অবশেষে তাদের একে অপরের মধ্যে সংঘাত দ্বন্দ্ব কলহের সৃষ্টি হয়। তারা এমনভাবে নিশাগ্রস্ত হয় যেখান থেকে কোনোদিন আর বেরিয়ে আসতে পারে না। আর যে ছাত্র খুন হয় একমাত্র তারই পরিবার বুঝতে পারে সন্তান হারানোর যন্ত্রনা। কলেজ ক্যাম্পাসকেও তারা চাদাঁবজির ঘাঁটি করে ফেলে। শেষ পর্যন্ত তারা কলেজের অধ্যক্ষের কাছ থেকেও ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা ঘর-বাড়ী-গাড়ি জ্বালিয়ে দেয় ভেঙ্গে দেয়। ছাত্ররাজনীতির নামে তারা কলেজের সুশৃঙ্খল পরিবেশ নষ্ট করে ফেলে। তাদের ভয়ে কলেজে সাধারণ ছাত্র-ছাত্ররী কথাও পর্যন্ত বলতে পারে না। বিশেষ করে বর্তমানে এসব কিছু পরিলক্ষিত হয় ছাত্রলীগের মধ্যে। যে বাস্তব ঘটনাটি আমার কলেজে ঘটেছে। তারা পূজোর সময় অধ্যক্ষ’র কাছ থেকে অবৈধ পথ অবলম্বন করে টাকা আদায় করেছে। টাকা দিতে অধ্যক্ষ বিরোধীতা করলে তার ঘর-বাড়ি-গাড়ি ভেঙ্গে দেয়া হয়। পাওয়া যায়নি তার সুষ্ঠু কোনো বিচার। বিচার হতে গেলে দেখা যায় গ্রুপ লিডারের সাথে কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী, এমপিদের ভালোই সম্পর্ক আছে। সেই পাপকর্মের পাপীরা তাদের গ্রুপের লিডারের জন্য বেঁচে যায়। কিন্তু এটা কি ছাত্রকে আদর্শ রাজনীতিবীদ হিসেবে গড়ে তুলবে, এটা কি তাদের মধ্যে মনুষ্যত্বের সৃষ্টি করবে, এটা কি তাদের মধ্যে সাম্য-ঐক্য গড়ে তুলবে। কিছুই হবেনা শুধু ছাত্ররা পথভ্রষ্ট হবে। আর তার ফায়দা নেয় গ্রুপ লিডাররা। আপনাকে দিয়ে তার স্বার্থ হাসিল করে নিয়ে সে বড় হয়ে যাবে ভবিষ্যতে এমপি মন্ত্রীও হয়ে যেতে পারে কিন্তু আপনি সারাজীবন সেই গ্রুপ লিডারের কথায় চামচামি করা ছাত্রই থাকবেন। কোনোদিন বড় হতে পারবেন না। কারণ সে তো রাজনীতিতে আপনার প্রতি অভিবাবকের সঠিক দায়িত্ব পালন করছে না আপনাকে ভুল পথে টেলে দিচ্ছে। আর আপনিও তারা কথায় আপনার মতোই আরেকটি ছাত্রকে খুন করে ফেলেন। মা তার প্রাণ প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে ফেলে। সেই বেদনাদায়ক কষ্টটি মা ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারে না। সুষ্ঠু গণতন্ত্র নেই বলে দেশে আজ এতো অশান্তি। আমরা সেই ছাত্র রাজনীতি চাই না যেখানে আমার মতো আরেকটি নিষ্পাপ ছাত্রকে জীবন দিতে হয়। আমরা চাই সাম্য এবং ঐক্যের ছাত্ররাজনীতি। যেখানে পরস্পর এক অপরের প্রতি বিনয়ী থাকবে শ্রদ্ধাশীল থাকবে নম্র থাকবে ভদ্র থাকবে। যেখানে ঠাই থাকবে না প্রতিহিংসার। আমরা যারা ছাত্ররাজনীতি করি আমাদেরও বুঝা উচিত কোনটি মনুষ্যত্ব এবং কোনটি পশুত্ব। আমদের বুঝা উচিত কি করলে আমার দ্বারা দেশ ও দশের উন্নতি সম্ভব। আর সেই সব গ্রুপ লিডার এবং কেন্দ্রীয় নেতারা আপনারা তরুণ ছাত্রদের ছাত্ররাজনীতির সঠিক শিক্ষা দিন। আপনারা অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে ছাত্রদের প্রতি সঠিক অভিবাকের দায়িত্ব পালন করুণ। তাদেরকে সাম্য এবং ঐক্যের শিক্ষা দিন। কারণ আজকের ছাত্র আগামী দিনের নেতৃত্ব।
মো.নাঈমুল ইসলাম
ছাত্র ব্যক্তিত্ব লেখক, কলামিস্ট ও সংগঠক।