প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

প্রকাশিত: ৭:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২০

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক সিলেটের দিনকাল প্রতিকার শেষ পাতায় ‘ওসমানী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ৩ শিক্ষকের ষড়যন্ত্র” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ওসমানী মেডিকেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বেগম শামীমা আহমদ, মোহাম্মদ শাহীন আহমদ ও মোছা: দেলোয়ারা বেগম।
প্রতিবাদ লিপিতে তারা বলেন , উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে. মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়। আমাদের সমাজে হেয়পতিপন্ন করার জন্য একটি কুচক্রি মহল আমাদের বিরুদ্ধে এ বিরূপ বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে অপপ্রচার করাচ্ছে।
প্রতিবাদ লিপিতে তারা বলেন ,
গতকাল ২৯/১০/২০২০ খ্রি. তারিখে দৈনিক ‘সিলেটের দিনকাল’ পত্রিকায় প্রকাশিত ”ওসমানী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরূদ্ধে ৩ শিক্ষকের ষড়যন্ত্র” শিরোনামের সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
১. তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দাবি করছেন অথচ বেতনের খাতায় তার নাম অতিরিক্ত সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে রয়েছে। এই পদটি অবৈধ। কেননা অতিরিক্ত সহকারি প্রধান শিক্ষকের পদ শিক্ষা নীতিমালায় নেই।
২. মিসেস আফিয়া বেগম সহকারি প্রধান শিক্ষক হলেও তিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। তার নিয়োগ যে সময়ে তখন শিক্ষানীতিমালায় বিএড ডিগ্রি বাধ্যতামূলক ছিল না।
৩. স্টাফিং প্যাটার্ণ পরিবর্তন করার প্রশ্নই ওঠে না। কেননা রেজ্যুলেশন খাতাসহ এগুলো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট জমা থাকে। স্বঘোষিত প্রধান শিক্ষকের উৎপাতে এগুলো বর্তমানে ম্যানেজিং কমিটির কাছে রয়েছে। মিসেস শাহীনা সুলতানা নিজে রেজ্যুলেশন খাতা বানিয়ে নিজে রেজ্যুলেশন লিখে নিজেকে প্রধান শিক্ষক এবং ইসলাম ধর্মের শিক্ষক জনাব আব্দুল কাদিরকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেখিয়েছেন। যদিও তিনি কোনোকালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেেেব দায়িত্বে ছিলেন না। এটি বিদ্যালয়ের কোনো রেজ্যুলেশন খাতা নয়। এই খাতায় ম্যানেজিং কমিটির যেসব স্বাক্ষর রয়েছে, তা জাল করে দেয়া হয়েছে।
৪. সাদা কাগজে সহকারি শিক্ষকদের স্বাক্ষর নিয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হয় কিভাবে? আর পত্রিকায় সার্কুলার, নিয়োগ পরীক্ষা ইত্যাদি ছাড়া প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হয় কিভাবে? স্বাক্ষর জালিয়াতি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর শাস্তির বিধান রয়েছে।
৫. শিক্ষকদের কাছে শুধু সনদপত্র থাকে। অন্যান্য কাগজপত্র বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকেই তৈরি করে দিতে হয়।
৬. এমপিওভুক্তির জন্য টাকা লাগবে কেন? মানে প্রাথমিক শাখার শিক্ষিকা মিসেস শাহীনা সুলতানা সকল শিক্ষকদের এমপিও করিয়ে দেবেন বলে টাকা দাবি করেছিলেন এবং সহকারী শিক্ষিকা বেগম শামীমা আহমদ ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
৭. বেগম শামীমা সুলতানা কিভাবে শিক্ষকদের টাকা আত্মসাৎ করবেন? শিক্ষকগণ অপ্রয়োজনে কেন তাকে টাকা দিতে যাবেন? আর জাতির জনকের অবমাননা করার মত সাহস কারো নেই। এর প্রমাণ স্কুলের কেউ দিতে পারবে না।
৮. শাহীনা সুলতানা নিজেকে প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন। তিনি যদি প্রধান শিক্ষকই হতেন তবে বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কেন? তিনি বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখার একজন শিক্ষিকা যদিও তিনি অবৈধভাবে ”অতিরিক্ত প্রধান শিক্ষক” হিসেবে স্কুলের প্রচলিত বেতনভাতা ইত্যাদি নিচ্ছেন। তার এই অবৈধ পদ বিলুপ্তির জন্য শিক্ষকগণ সভাপতি বরাবরে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছেন।
৯. যেসব আবেদন জেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃক ’ব্যাক টু অ্যাপ্লিকেন্ট’ হয়েছে, এর সবগুলোই মিসেস শাহীনা সুলতানা স্থানীয় জলালপুরের জনৈক কম্পিউটার অপারেটর কর্তৃক সাবমিট করেছেন। এতে তিনি কি দাখিল করেছেন তা তিনি নিজেই জানেন। কেননা ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড সহকারী শিক্ষকদের কাছে থাকার কথা নয় এবং তারা এখনো পাসওয়ার্ড জানেন না।
১০. প্রশাসনিক সকল কাজকর্ম দেখাশুনার দায়িত্ব প্রধান শিক্ষক তথা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। সহকারী শিক্ষকদের নয়।
১২. তার বক্তব্যানুযায়ী ৪২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তার বক্তব্য থেকেই প্রতীয়মান হয় যে নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়া তিনি স্বঘোষিত প্রধান শিক্ষক। কেননা শিক্ষকের স্বাক্ষরে কেউ কি প্রধান শিক্ষক হতে পারে? এটা কি ভোটাভুটি অুনুষ্ঠান?
১৩. মিসেস দেলোয়ারা বেগম বাংলায় নয় বরং সামাজিক বিজ্ঞানে নিবন্ধিত এবং তিনি সামাজিক বিজ্ঞান পদের জন্য আবেদন করেছিলেন। মিসেস নাঈমা খানমের অভিযোগটি জেলা শিক্ষা অফিসার নিষ্পত্তি করে মিসেস দেলোয়ারা বেগমকে উক্ত পদে বৈধতা পেয়েছেন।

মিসেস শাহীনা সুলতানা বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করেছেন। তার চক্রান্ত ও হীন মানসিকতায় বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক তটস্থ। তিনি শিক্ষকশ্রেণিসব বিদ্যালয়ের সুনাম ও সম্মান ক্ষুন্ন করেছেন। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোনোভাবেই এমপিওভুক্ত হতে দিতে চান না। কেননা বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হলে তিনি অবৈধ “অতিরিক্ত সহকারি প্রধান শিক্ষক” পদে (বিশেষ কারণে এখনো বেতন পাচ্ছেন) থেকে আর্থিক ও অন্যান্য ফায়দা হাসিল করতে পারবেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল