প্রকৃতি প্রেমীদের মন কেড়েছে সিলেটের ‘গোয়াবাড়ি ওয়াকওয়ে’ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

প্রকৃতি প্রেমীদের মন কেড়েছে সিলেটের ‘গোয়াবাড়ি ওয়াকওয়ে’

প্রকাশিত: ৯:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০

প্রকৃতি প্রেমীদের মন কেড়েছে সিলেটের ‘গোয়াবাড়ি ওয়াকওয়ে’

জুনেদ আহমদ :: সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরবাসীর বিনোদনের জন্য নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। নগরীর তারাপুর চা বাগান এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে ওয়াকওয়ে। একপাশে চা বাগান, অন্য পাশে লেকে চলবে নৌযান। এমন পরিকল্পনা নিয়ে এই ওয়াকওয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। সিলেট সিটির ৮ নম্বর ওয়ার্ডে নগরবাসীর বিনোদনের জন্য দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়। এতে ছুটির দিনে নগরবাসী বেড়াতে এতে বেশ আনন্দ উপভোগ করছেন।

চা বাগানে ঘুরতে আসা একজন নগরবাসী বলেন, বাড়ির পাশে এত সুন্দর রাস্তা আগে জানতাম না। ঘুরতে এসে অনেক ভাল লাগলো। তবে বেড়াতে আসা নগরবাসীর জন্য করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিলেও আগতরা তা মানছেন না। চা বাগানে হাঁটার পথ করে দিতে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সিলেটকে দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ বলা হয়। ওপরে বড় বড় ছায়াবৃক্ষ। নিচে আধো আলো আধো ছায়ার সবুজ চাদর। যেন শৈল্পিক কারুকাজ। সবুজ প্রাণের স্পন্দন। বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র। সবুজ মানেই প্রকৃতি। প্রকৃতি মানেই প্রাণ। প্রকৃতি না থাকলে মানুষ থাকবে না। প্রকৃতি মানুষকে শেখায়, চলতে-ফিরতে- বেঁচে থাকতে। এমনই এক প্রকৃতির সান্নিধ্যের ভেতরে থাকা পর্যটন কেন্দ্র ‘গোয়াবাড়ি ওয়াকওয়ে’।

সিলেট শহরের খুব কাছেই পাঠানটুলা এলাকার গোয়াবাড়ি বাজার সংলগ্ন চা বাগানের বুক ভেদ করে সবুজ ঘেরা অনিন্দ্যসুন্দর প্রকৃতির ভেতরে গড়ে উঠছে ওয়াকওয়েটি। পাহাড়ের সাথে চারিদিকে সবুজের সমারোহ, স্বর্গীয় প্রশান্তিময় স্থানে গেলেই মনে হবে স্বপ্ন। চা বাগানে ঘেরাও করা এই প্রকৃতির কাছে গেলে অন্যরকম এক অনুভূতির সৃষ্টি হয়। তাই বাগানের মধ্যেই গড়ে উঠা সবুজ চা পাতা আর স্টিলের ব্রিজের মতো নির্মিতব্য ওয়াকওয়েতে ঘুরে বেড়াতে সেখানে প্রতিদিন জড়ো হচ্ছেন শত শত প্রকৃতি পে্িরমরা।

আড়াইকোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ। এখনো এর ৭০ থেকে ৬০ ভাগ কাজ বাকি। এরই মধ্যে প্রকৃতি প্রেমিদের কাছে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ‘গোয়াবাড়ি ওয়াকওয়ে।’ পর্যটকদের এমন আগ্রহের কারণে এ নিয়ে নানা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। এটিকে পরিপূর্ণ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাণিজ্যিকিকরণের চিন্তাও করছেন তারা। আলী বাহার এবং তারাপুর চা বাগানের মধ্যে পড়েছে এই ওয়াকওয়ে। ওয়াকওয়েটির ব্যয় আড়াই কোটি টাকা হলেও ওয়াকওয়ের নিচ দিয়ে ছড়ার গার্ড ওয়ালসহ অন্যান্য কাজে ব্যয় হচ্ছে আরো সাড়ে ৮ কোটি টাকা। এমনটি জানিয়েছেন ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াস।

এদিকে গুয়াবাড়িকে একটি পর্যটন স্পটে পরিণত করতে রাস্তা প্রশস্তকরণসহ নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। আশপাশের ব্যক্তি মালিকাধীন ভূমির মালিকদেরও পার্কসহ পর্যটন কেন্দ্রীক স্থাপনা গড়ে তুলতে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন স্থানীয়রাও।

নান্দনিক এ প্রকল্প নিয়ে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান যখন প্রথমে এই ওয়াকওয়ে নির্মাণ নিয়ে কথা বলেন, তখনো আমরা অনুভব করিনি এটা পরিপূর্ণ হলে কী হবে। মাত্র ৩০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখনো ৭০ ভাগ কাজ বাকি আছে। এখনই মানুষ এখানে ঘুরাঘুরি করতে আসছে। তা সম্পন্ন হলে এখানকার পরিবেশ অন্যরকম হবে।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে লেক সিস্টেম কিভাবে করা যায়, তা নিয়ে আমি প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলেছি। বোট নিয়ে যাতে মানুষ ঘুরতে পারে, সেরকম একটি পরিকল্পনা আছে আমাদের।

পাশের খালি জায়গা ব্যক্তি মালিকানায় হলেও শিশুদের জন্য পার্ক করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি সিলেট। এক সময় সেটি লেক সিটি হয়ে যাবে। করোনা পরিস্থিতির উদ্ভুত না হলে এতোদিনে সিলেট শহরের রূপ অন্যরকম হয়ে যেতো জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সিলেট সিটি দেশের ১২টি সিটির মধ্যে প্রথম হয়েছে। এটা সিলেটের জনগণের কৃতিত্ব।

কারণ, তারা সহযোগিতা করার কারণে এটা সম্ভব হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে সিলেটকে নতুন শহর হিসেবে তুলে ধরার কথাও তিনি জানান। স্থানীয় কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তিনি সহযোগিতা না করলে এতো সুন্দর এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা যেত না।

তিনি বলেন, যেহেতু আমার ওয়ার্ডটি চা বাগান ঘেরা। তাই আমি সব সময় এটাকে কাজে লাগানোর চিন্তা করছিলাম। শ্বাস ফেলার মতো জায়গা আমাদের কম। নগরবাসী যাতে বিনোদন এবং শ্বাস ফেলার মতো সুন্দর পরিবেশ পায়, আমরা সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি। সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী আংসুমান ভট্টাচার্য রাকু জানান, গোয়াবাড়ি কালভার্ট থেকে করের পাড়া পর্যন্ত এই প্রকল্প শুরু হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম স্টেপে কাজ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ। যে কাজ হয়েছে, তা প্রাথমিক পর্যায়ের। আমরা মানুষের সাড়া কেমন, তা যাচাই-বাছাই করার জন্যই এই কাজ করেছি। এখনো মূল কাজ রয়ে গেছে। সেখানে স্টিল ব্রীজ, ফার্স্টফুড কর্ণারসহ বিনোদনের সবকিছু রাখা হবে। ব্রীজের পাশে দুটি ছড়ার মোহনায় পুকুর খনন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে স্বচ্ছ বালিতে স্বচ্ছ পানি দেখা যাবে। এটা আমাদের পরিকল্পনায় আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটি অনুমোদনকালে বলেছিলেন, এই প্রকল্পে যাতে জনসাধারণের বিনোদনের সুযোগ থাকে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি। আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সমাপ্ত হবে।