সিলেট ব্লগার অনন্ত বিজয় হত্যার এক বছর: স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন করে অনন্তকে স্মরণ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

সিলেট ব্লগার অনন্ত বিজয় হত্যার এক বছর: স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন করে অনন্তকে স্মরণ

প্রকাশিত: ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ, মে ১৩, ২০১৬

সিলেট  ব্লগার অনন্ত বিজয় হত্যার এক বছর: স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন করে অনন্তকে স্মরণ

1a71a3c5c79390666a431d6d1a1ee3b2-16তরবারির আদলের উপরিভাগে কলমের মুখ। লাল কলমের মুখে রোদ পড়ে চিকচিক করছিল। তরবারির আদলের জমিনে কালো অক্ষরে লেখা ‘জ্ঞানের জ্যোতি ছড়াবে অনন্ত, অনন্তকাল’।
এটি একটি দেয়াল-স্মৃতিস্তম্ভ। গত বছরের ১২ মে সিলেট নগরের সুবিদবাজারের নুরানী আবাসিক এলাকার চৌরাস্তার মোড়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ। তাঁর স্মরণে ঘটনাস্থলে নির্মিত এই দেয়াল-স্মৃতিস্তম্ভটি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উন্মোচন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
স্মৃতিস্তম্ভের এ দেয়ালে গত বছর ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর অঙ্কন করা হয়েছিল আরেক প্রতিবাদী চিত্রের। গত বছর ১৮ মে দেয়ালচিত্রে প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছিল। এলাকাবাসীর সহায়তায় এবার সেই দেয়ালচিত্রে ‘অনন্ত স্মৃতি রক্ষা পরিষদ’-এর পক্ষে আইনজীবী মইনুদ্দিন আহমদ জালাল নির্মাণ করেন দেয়াল-স্মৃতিস্তম্ভ। স্মৃতিস্তম্ভটির নকশা করেছেন অনন্তের বন্ধু অরূপ বাউল। গতকাল হত্যার এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে স্মৃতিস্তম্ভটি উন্মোচন করা হয়। এর আগে আয়োজন করা হয় এক প্রতিবাদী সমাবেশের।
স্মৃতিস্তম্ভের সামনে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মইনুদ্দিন আহমদ জালাল। মুক্তচিন্তার সংগঠন ‘নিনাই’-এর সভাপতি তায়েফ আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে অনন্ত বিজয় দাশের শিক্ষক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সিলেট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত, ছাত্র ইউনিয়নের জেলা সভাপতি সপ্তর্ষি দাশ, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক রাজীব রাসেল বক্তব্য দেন।
পেশায় ব্যাংকার অনন্ত বিজয় দাশ বস্তুবাদ ও যুক্তিবাদ নিয়ে ব্লগে লিখতেন। তাঁর লেখা ও সম্পাদিত বিজ্ঞান-বিষয়ক বই রয়েছে। বিজ্ঞান-বিষয়ক ছোটকাগজ যুক্তি নামে একটি পত্রিকা নিয়মিত সম্পাদনা করতেন। সিলেটে পরিচালিত বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অনন্ত। বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির কারণে তাঁকে ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে—এ অভিযোগে গত বছরের ১৩ মে অনন্তের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বাদী হয়ে সিলেট মহানগরের বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত চার দুর্বৃত্তকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগÑসিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের এক বছরেও খুনি শনাক্ত না হওয়ায় সমাবেশে বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অনন্তকে। এ ঘটনার পর যদি খুনিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হতো, তাহলে হয়তো এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তিও থেমে যেত। হয়তো খুন হতেন না অনন্তের পরে আরও ব্লগার ও মুক্তচিন্তার মানুষ।
সমাবেশ শেষে অনন্ত স্মৃতি রক্ষা পরিষদ, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, নগরনাট, ছাত্র ইউনিয়ন, গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
‘অনন্ত স্মরণ’: এদিকে গতকাল বিকেলে সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণজাগরণ মঞ্চ ‘অনন্ত স্মরণ’ নামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবুর সঞ্চালনায় বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আলোচনা পর্ব, প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। পরে অনন্তের লেখা সর্বশেষ একটি পাণ্ডুলিপির প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়।
সন্ধ্যায় অনন্ত বিজয় হত্যার বিচার দাবিতে মশাল মিছিলের মাধ্যমে গণজাগরণ মঞ্চের ‘অনন্ত স্মরণ’ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল